দেবরাজ-অদিতিকে স্বস্তি দিল আদালত, ১৯ জুন অবধি করা যাবে না গ্রেফতার

তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হবে না। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চে রাজ্য সরকার মৌখিকভাবে এই নির্দেশ দিয়েছে। ১৯ জুনের পরবর্তী শুনানিতে, এই দম্পতির বিরুদ্ধে হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ ও রিপোর্ট আদালতে জমা দেবে রাজ্য সরকার।

রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ দায়ের করেন। গত ২৮ এপ্রিল এই অভিযোগটি জানানো হয়েছিল। তরুণজ্যোতি, যিনি সম্প্রতি অদিতি মুন্সিকে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত করেছেন, প্রার্থী থাকাকালীনই অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন। রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর এটি এফআইআর হিসাবে গৃহীত হয়েছে, যার ফলে গ্রেফতারির আশঙ্কায় দেবরাজ ও অদিতি আগাম জামিনের আবেদন জানান।

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শাসকদলের অনেক নেতার বাড়িতে তল্লাশি ও গ্রেফতারির ঘটনা সামনে আসছে। এরই মধ্যে গত ১৯ মে পুলিশ তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ আগেই ওঠে। তিনি বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদ, এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশিও হয়েছিল।

২০২১ সালে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস নামে এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ভোট পরবর্তী হিংসার একটি মামলায় দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উঠে আসে। এদিন শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগগুলিকে "রাজনৈতিক প্রতিহিংসা" আখ্যা দেন। তিনি বলেন, "এই মামলায় সংগঠিত অপরাধের কোনো প্রমাণ নেই।" তাঁর দাবি, অভিযোগ কেবল আর্থিক লেনদেনের, প্রতারণার নয়, তাই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। দেবরাজ-অদিতির তরফে আইনজীবী আকাশদীপ মুখোপাধ্যায় জানান, অভিযোগটি গত ২৮ এপ্রিল থানায় দায়ের হয়েছিল।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) রাজদীপ মজুমদার পাল্টা যুক্তি দেন, দেবরাজ-অদিতির বিরুদ্ধে একদিনে প্রচুর সম্পত্তি হস্তান্তর, বেনামে সম্পত্তি এবং গিফট ডিড করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় এক কোটি টাকারও বেশি যৌথ সম্পত্তির কথা জানানো হলেও, তাদের প্রকৃত সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তখন প্রশ্ন তোলেন, "নির্বাচনে সম্পত্তি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ, একদিনে একাধিক সম্পত্তি ট্রান্সফার করার অভিযোগ। কিন্তু আমি একশোটা সম্পত্তি ট্রান্সফার করতে পারি তো!" এর উত্তরে এএজি রাজদীপ মজুমদার বলেন, "কিন্তু তিনি একজন জনপ্রতিনিধি।" বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তখন উল্লেখ করেন, "কিন্তু নির্বাচনী হলফনামায় তো তিনি সম্পত্তির কথা উল্লেখ করেছেন!"

এএজি রাজদীপ মজুমদার ফের যুক্তি দেন, "এঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁদের বিরুদ্ধে হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে সিরিজ অফ প্রপার্টি ট্রান্সফার করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ হওয়ার কথা।" তিনি আরও যোগ করেন, বন্ধন ব্যাঙ্কের কালিম্পং শাখার তাঁদের একটি অ্যাকাউন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে শূন্য হয়ে যায়।

বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তখন প্রশ্ন করেন, "কিন্তু তাতে সমস্যা কী? কীসের ভিত্তিতে তাতে তদন্ত হবে?" এএজি পাল্টা বলেন, "একজন জনপ্রতিনিধির এই ধরনের সম্পত্তি হল কীভাবে, তা দেখা প্রয়োজন।" তবে বিচারপতি মন্তব্য করেন, "আইনে এই তদন্তকে রোমিং এবং ফিশিং ইনকোয়ারি বলা হয়। আইনে তাঁর সম্মতি নেই।"

শুনানি শেষে বিচারপতি বলেন, আপনাদের অভিযোগ থাকলে আয়কর দফতরে অভিযোগ করতে পারেন। প্রথমে কিছু ডকুমেন্টস আনুন। আদালতকে দিন। তথ্যপ্রমাণ-নথি নিয়ে আসুন। আগামী ১৯ জুন পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যকে এই সব তথ্যপ্রমাণ আদালতে জমা দিতে হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+