বকরি ইদে কুরবানির নিয়মে স্থগিতাদেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট, কী জানাল আদালত?
আগামী সপ্তাহে আসন্ন বকরি ইদকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করতে বৃহস্পতিবার অস্বীকার করল কলকাতা হাইকোর্ট। এই বিজ্ঞপ্তি মূলত ২০১৮ সালে হাইকোর্টেরই দেওয়া নির্দেশাবলিরই বাস্তবায়ন, যা গত ১৩ মে জারি হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছে, রাজ্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তি হাইকোর্টের পূর্ববর্তী আদেশ মেনেই জারি হয়েছে।

বেঞ্চের কথায়, "২০১৮ সালের ডব্লিউপি ৩২৮ মামলার ক্ষেত্রে সমমর্যাদাসম্পন্ন একটি বেঞ্চ যে আদেশ দিয়েছিল, তা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এমতাবস্থায়, ১৩.০৫.২০২৬ তারিখের ওই জনবিজ্ঞপ্তিটি স্থগিত বা বাতিল করার কোনও ভিত্তি আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। সুতরাং, ১৩.০৫.২০২৬ তারিখের ওই বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গটি যতদূর জড়িত, ততদূর পর্যন্ত এই আবেদনগুলি খারিজ করা হল।"
'পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন'-এর অধীনে রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশাবলি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি হয়। গত ১৩ মে-এর জনবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষকে কোনো সনদ ছাড়া জবাই করা যাবে না।
'বার অ্যান্ড বেঞ্চ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল 'জবাইয়ের অযোগ্য' চিহ্নিত পশুই অনুমোদিত কসাইখানায় জবাইযোগ্য। অবৈধ জবাই রোধে কর্তৃপক্ষকে পরিদর্শনের ক্ষমতাও এই বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাইকোর্ট মন্তব্য করে, আইন ও বিধিমালার অধীনে প্রয়োজনীয় সনদপত্র ইস্যুর পদ্ধতির পর্যাপ্ততা খতিয়ে দেখার পূর্ণ অধিকার রাজ্য সরকারের।
আদালত আরও যোগ করে, "এ ছাড়াও, এই ধরনের সনদপত্র ইস্যু করার জন্য রাজ্যে কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন কি না এবং রাজ্যের সর্বত্র পশু জবাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না— তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যদি রাজ্য সরকারের পর্যবেক্ষণে কোনও ধরনের ঘাটতি বা ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে আমরা আশা ও বিশ্বাস রাখি যে, তা অতি সত্বর সংশোধন বা পূরণ করে নেওয়া হবে।"
এক পিটিশনে তৃণমূল বিধায়ক আখরুজামান যুক্তি দেন, আসন্ন ঈদুল আজহার সময় পশু কুরবানির ধর্মীয় প্রথা আইনগতভাবে পালন কঠিন। কারণ ১৩ মে-এর বিজ্ঞপ্তিতে 'পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন'-এর ১২ ধারার অধীনে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে ব্যর্থ। এই ধারা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেয়।
আখরুজামান দাবি করেন, অধিকাংশ মুসলমানের জন্য বড় পশু কুরবানিই একমাত্র সাশ্রয়ী উপায়। তাঁর আবেদনে বলা হয়, "বকরি ইদের ঠিক আগের সময়ে ছাগল ও ভেড়ার দাম অত্যধিক বেড়ে যায়, যার ফলে এই পশুগুলি কুরবানি দেওয়ার সুযোগ কেবল বিত্তবান মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।"
আদালত তার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী বক্তব্য উল্লেখ করে বলেছে, গরু কুরবানি দেওয়া ইদুল আজহার অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথা নয়। বেঞ্চ আরও নির্দেশ দেয়, তাদের উল্লিখিত শর্তগুলি অন্তর্ভুক্ত করে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করতে রাজ্য সরকারকে "কোনও অসুবিধা" দেখছে না এবং অবিলম্বে তা কার্যকর করা হোক।
আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে চাওয়া অব্যাহতি বিষয়ে 'পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন'-এর ১২ ধারার অধীনে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা রাজ্য সরকারের রয়েছে। বকরি ইদ এই মাসের ২৭ বা ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে পারে উল্লেখ করে আদালত নির্দেশ দেয়, "রাজ্য সরকারকে এই আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।"












Click it and Unblock the Notifications