বাঙালিয়ানার স্লোগানেই লড়াই ভবানীপুরে, মমতার গড়ে গিয়ে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
মমতার গড়ে গিয়ে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর! বাংলা বাঁচাও, বাঙালি বাঁচাও স্লোগানেই লড়াই, মনোনয়ন জমা দিয়ে বললেন প্রিয়ঙ্কা
শুভেন্দু অধিকারী-সহ দলের বিশিষ্ট নেতানেত্রীদের সঙ্গে করে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং-এ মনোনয়ন জমা দিলেন ভবানীপুরের (bhabanipur) বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল (priyanka tibrewal)। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জানালেন, এ লড়াই সমস্ত রাজ্যবাসীর। ভবানীপুরের লড়াইকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই বলেও বর্ণনা করেন শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari)।

জয় নিয়ে আশাবাদী প্রিয়ঙ্কা
এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলেই জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জয় নিয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি মানুষের জন্য লড়াই করছেন। বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল খুনের খেলায় নেমেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ এই সরকার খুনিদের সমর্থন করছে, এরই বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার ডাক দেন তিনি।

স্লোগান বাংলা বাঁচাও, বাঙালি বাঁচাও
এদিন সকালে ভবানীপুরের গোলবাড়ি মন্দিরে পুজো দেন প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। তারপর যান আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং-এ মনোনয়ন জমা দিতে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন, ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী এবং শিশির বাজোরিয়ার মতো নেতারাও। এদিন প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালকে বলতে শোনা যায়, বাংলা বাঁচাও, বাঙালি বাঁচাও স্লোগানকে সামনে রেখে লড়াই করবেন তিনি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ভবানীপুরে একবার ভোট হয়েছে, মানুষ রায় দিয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের চেয়ার বাঁচাতে ফের ভোট করাচ্ছেন। প্রিয়ঙ্কা কটাক্ষ করে আরও বলেন, মমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, তিনি ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে আর কারও বসার যোগ্যতা নেই।

লড়াইটা গণতন্ত্র প্রিয় মানুষের সবার
শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, যে লড়াই প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল করতে নেমেছেন, তা তাঁর একার নয়। রাজ্যের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের সবার। তিনি বলেন, যাঁরা অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন দেখেন, এক দেশ শ্রেষ্ঠ দেশের স্বপ্ন দেখএন, এলড়াই তাঁদের সবার। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ভোট পরবর্তী সময়ে সাধারণ ভোটার থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থক মিলিয়ে ৫৫জন প্রাণ দিয়েছেন। মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও বলেছে রাজ্যে আইনের শাসন নেই। রাজ্যের প্রায় একলক্ষ ঘরছাড়া মানুষকে ঘরে ফেরানোর বন্দোবস্ত করেছেন প্রিয়ঙ্কাই। তরুণ আইনজীবী যেভাবে লড়াই করে সবাইকে বাড়ি ফিরিয়েছেন, তাতে গণতন্ত্রের জয় হবেই বলে মনে করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন, গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াইয়ে ভবানীপুরের ভোটাররা বাড়িতে বসে থাকবেন না।

ভবানীপুরে জিতবে বিজেপি
নন্দীগ্রামে নিজের জয় প্রসঙ্গে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি সেখানে প্রতীক ছিলেন। নন্দীগ্রামের মানুষই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেছেন। তিনি বলেন, যদি মানুষ ভোট দিতে পারেন, যদি বুথে বুথে ছাপ্পা না হয়, আর যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোয়ারেন্টাইনের নাম করে মানুষকে আতঙ্কিত করতে না পারেন, তাহলে ভবানীপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আশীর্বাদধন্য প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল জিতবে বলেও জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

অধ্যক্ষকে চিঠি শুভেন্দু
এদিন ব্যস্ততার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর তরফে বিধানসভা অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ এবং বাগদার বিশ্বজিৎ দাসের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই চিঠি পাঠানোর আগে অবশ্য শুভেন্দু অধিকারী দুই বিধায়ককে চিঠি দিয়েছিলেন, তাঁদের অবস্থান জানানো জন্য।

প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের পরিচিতি
বাবুল সুপ্রিয়ের আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। সেই পরিচয় থেকে ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ। এই কথা সাধারণ মানুষ অনেক পরে জানতে পেরেছে। কিংবা কলকাতা কর্পোরেশনের গতবারের নির্বাচনে লড়াই করে হেরে যাওয়াটাও কক মানুষের মনে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালকে দেখা গিয়েছে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের দিন এন্টালি জুড়ে ছুটে বেড়াতে। তিনি পরাজিত হলেও ভোটের পরে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে করা মামলায় প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের লড়াইয়ের জেরেই তার নাম এখন সবার সামনে। যে কারণে দিলীপ ঘোষ থেকে শুভেন্দু অধিকারী, সবাই বলছেন, প্রিয়ঙ্কা তাঁদের লড়াকু নেত্রী। তাঁর জন্যই বিজেপি ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে যে অভিযোগ করেছিল তাতে সিলমোহর দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সিবিআই তদন্ত করছে বিভিন্ন অভিযোগের।












Click it and Unblock the Notifications