হলদিয়ার পুরভোটে 'ত্রিপুরার নীতি'! শাসক তৃণমূলের 'অবস্থান' নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর
তৃণমূল পূর্ব মেদিনীপুরের দখল নিলেও প্রথমের দিকে হলদিয়ার দখল নিতে পারেনি। পরে অবশ্য তা তাদের হাত ঘুরে বিজেপির হাতে। এখন সেখানে বিজেপির বিধায়ক। ভবিষ্যতেও সেখানে তৃণমূলকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরতে নারাজ শুভেন্দু।
ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত তৃণমূলের নাম মুখেই আনেননি। বলেছিলেন সেখানে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের কোনও গুরুত্বই নেই। এবার সেই পবদ্ধতি অনুসরণ নিজের এলাকায়। হলদিয়া পুরভোটে সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে বলেই জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিজেপির সঙ্গে সিপিআইএম-এর লড়াই
দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিরোধী দলনেতা গিয়েছিলেন হলদিয়ায়। সেখানে তিনি বলেন, ভোট দিতে পারলে লড়াই বিজেপির সাথে সিপিএমের হবে। তৃণমূল দশ শতাংশ ভোটও পাবে না, বলেছেন একসমতে তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। তৃণমূল তৃতীয় হয়ে যাবে, বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি।

হলদিয়ায় নেই তৃণমূল
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ভোট করতে ছেড়ে দিন। হলদিয়া পুরসভার ২৯-টির মধ্যে ২৫টি ওয়ার্ডে লড়াই হবে বিজেপি বনাম সিপিএমের। বাকি চারটি ওয়ার্ডে বিজেপি বনাম আইএসএফ বা আইমার মধ্যে লড়াই হবে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূল মানেই চোর। তিনি সঠিক সময়েই দল ছেড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

তৃণমূল দেখলেই...
বিরোধী দলনেতা বলেছেন, প্রতিদিন টিভি খুলেলেই টাকার বান্ডিল, টাকার পাহাড়। কোনও দিন অর্পিতা, কোনও দিন হৈমন্তী, কোনও দিন মোনালিসা, আবার কোনও দিন অঙ্কনা। লোকে তৃণমূল দেখেলেই যেন গায়ে থুতু ফেলে দেয়, শুধু পুলিশের ভয়ে পারে না।

তৃণমূল পুলিশ ছাড়া জিরো
হলদিয়ার পুরভোটে তৃণমূলের প্রস্তুতি সম্পর্কে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তৃণমূল পুলিশ ছাড়া জিরো। যে সমস্ত সংখ্যালঘু ভাইরা ২০২১ সালে ভোটের সময় গোলমাল পাকিয়েছিল, তারাও আনিস খান, বকটুইয়ের ঘটনার পরে বুঝতে পেরেছে এদের সঙ্গে থাকা যাবে না। বিজেপির সঙ্গে আসবে কিনা জানি না, কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে থাকা যাবে না ওটা ওরা বুঝেছে। শুধু বুঝতে পারছে না পুলিশ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এসপি অমরনাথ, এসডিপিও রাহুল পান্ডেরা বুঝতে পারছে না। এরা ইয়াং ছেলে, এদের পরিণতি কী হবে বুঝতে পারছে না নিজেরা!

নিশানায় জেলাশাসকও
হলদিয়ায় শিল্প পরিচালনা এবং নিয়োগ নিয়ে জেলাশাসকের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জেলাশাসক আলোচনা করতে পারে না। উনার কোনও অথরিটি নেই। শ্রম আইন ভারত সরকার লোকসভায় পাশ করিয়েছে। যেগুলো রাজ্যের শিল্প সেগুলি ডেপুটি কমিশনার দুর্গাচক বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার করবেন। যেগুলো একাধিক রাজ্যে আছে সেগুলো ভারত সরকারের আরএসসির অধীনে। উনি সব কিছু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছায় এবং ভাইপোর কথা শুনে করেন। দেশে আইন কানুন আছে। প্রতিদিন হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের থাপ্পড় খাচ্ছে সরকার।
তিনি বলেছেন, হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল উকিলদের সঙ্গে এব্যাপারে কথা বলবেন। আইনি পথে গিয়ে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝির ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।












Click it and Unblock the Notifications