ভবানীপুরে বাজিমাত করতে কী কী কৌশল ‘ঘরের মেয়ে’ মমতার, রণনীতি ছকেই পদক্ষেপ
ভবানীপুরে বাজিমাত করতে কী কী কৌশল ‘ঘরের মেয়ে’ মমতার, রণনীতি ছকেই পদক্ষেপ
নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুর। ফের ভোট ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েই জোর দিয়েছেন জনসংযোগে। ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে ঘরোয়া আড্ডার মেজাজে ভোট প্রচারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবার। সোমবার জনসংযোগে নেমে মমতা বুঝিয়ে দিলেন এবার উপনির্বাচনে তাঁর রণনীতি কী হতে চলেছে।

ভোট প্রচারে বেরিয়ে জনসংযোগে জোর মমতার
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে, তার মধ্যেই বাংলার তিন কেন্দ্রে ভোটের আয়োজন হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূ্র্ণ ভবানীপুরের উপনির্বাচনে। কেননা এখানে প্রার্থী হয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রার্থী হওয়ার পর প্রচারে বেরিয়ে জনসংযোগ করলেন। তিনি কুশল সংবাদ নিলেন উপস্থিত সুহৃদবর্গের।

আটটি ওয়ার্ডে পাঁচজন হেভিওয়েট নেতাকে গুরুদায়িত্ব
এবার তৃণমূল মূলত দ্বিমুখী প্রচার পরিকল্পনা করেছে। এক, বড় জনসভা নয়, ছোট ছোট পথ সভা বা স্ট্রিট কর্নার। দুই, বাড়ী বাড়ি জনসংযোগ। ভবানীপুর পুরসভার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ডে পাঁচজন হেভিওয়েট নেতাকে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মূলত পথসভার ভার নিয়েছেন। আর মহিলাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের।

জনে জনে কুশল বিনিময়ে 'ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে'
এরই মধ্যে সোমবার নবান্ন থেকে ফেরার পথে একেবারে ঘরোয়া মেজাজে প্রচার সারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে তিনি সটান চলে যান ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনে জনে কুশল বিনিময় করলেন। বুঝিয়ে দেন আমি তোমাদেরই লোক। বুঝিয়ে দেন, তিনি 'ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে'।

পাড়ায় পাড়ায় আড্ডার মেজাজে প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ। একেবারে পাড়ায় পাড়ায় আড্ডার মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘরোয়া আড্ডা বললেও অত্যুক্তি হয় না। জনসংযোগ করতে করতেই তিনি চলে যান খিদিরপুরে ২৫ পল্লি দুর্গাপুজোর পাড়ায়। তারপর চলে যান ১৬ আনা মসজিদে। কথা বলেন উপস্থিত সকলের সঙ্গে। ১৬ আনা মসজিদে ইমামদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

দ্বিমুখী প্রচারে মাত দেওয়ার চেষ্টা, প্রচার-কৌশল তৃণমূলের
নন্দীগ্রামে তীরে এসে তরী ডুবেছে। একেবারে শেষ রাউন্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে রেকর্ড জয়ের অঙ্ক কষছেন মমতা। তাই দ্বিমুখী প্রচারে মাত দিতে চাইছেন। সেইমতোই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আট ওয়ার্ডে প্রচার কৌশল সাজিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাড়ি বাড়ি প্রচারে ব্যবহার করা হবে ঘরের মেয়েদের
ভবানীপুরের আট ওয়ার্ডে মূলত প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের হেভিওয়েট পাঁচ নেতার হাতে। ঠিক হয়েছে নিয়ম করে পাঁচ নেতা নেতৃত্ব দেবেন এই প্রচারে। পাঁচজন করে একটি দলে ভাগ হয়ে তারা যাবেন বাড়ি বাড়ি। বাড়ি বাড়ি প্রচারে ব্যবহার করা হবে ঘরের মেয়েদের। মহিলারা বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে জনসংযোগ করবেন। একেবারে বৈঠকের আমেজে হবে ভোট প্রচার।

লিফলেট ছাপানো হয়েছে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায়
তৃণমূলের কৌশল, কোন পরিবারের কে কোন সমস্যায় রয়েছে, কে কোন পরিষেবা পায়নি, সে সবই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানবেন তৃণমূলের মহিলা নেতা-কর্মীরা। তাদের সঙ্গে থাকবে লিফলেট। লিফলেট বিলি করে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের খতিয়ান প্রচার করবেন। ওই লিফলেট ছাপানো হয়েছে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায়। কারণ ভবানীপুরে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বাস।

সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে প্রচার শেষ করার নির্দেশ কমিশনের
কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক তৃণমূল কংগ্রেস প্রচারের সময় এগিয়ে এনেছে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল তৃণমূল এই বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করবে সন্ধ্যা থেকে। কিন্তু পরে তা বিকেল থেকে শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাহলে সাতটার মধ্যে প্রচার শেষ করা সম্ভব হবে। কেননা কমিশন সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে প্রচার শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।

লক্ষ্য ভবানীপুরের ভোট-যুদ্ধে মমতার রেকর্ড মার্জিনে জয়
তৃণমূলের পরিকল্পনা, ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডে মোট ৪৮টি ছোট সভা করা হবে। প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে ছ-টি করে পথসভা হবে। দলের নির্দেশ মেনে পাঁচ হেভিওয়েট নেতা এই প্রচারের দায়িত্বে থাকবেন। একাধারে স্ট্রিট কর্নার, অন্যদিকে বাড়ি বাড়ি প্রচার- এই দুমুখী প্রচার চলবে ভবানীপুরে। লক্ষ্য ভবানীপুরের ভোট-যুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেকর্ড মার্জিনে জয়।

ঘরের মেয়ে হিসেবে মমতা বেশ কয়েক কদম এগিয়ে
ভবানীপুরে বাঙালি ছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যাক গুজরাতি ভোট। রয়েছে পঞ্জাবি, মাড়োয়ারি ভোটও। সংখ্যালঘু ভোট তো রয়েইছে। সেইসব অঙ্ক কষে এগোচ্ছেন মমতা। বিজেপি একইঅঙ্কে এখানে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে প্রার্থী করেছে। বিজেপিরও লক্ষ্য অবাঙালি ভোটারদের মন জয়। তবে ঘরের মেয়ে হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে।












Click it and Unblock the Notifications