ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মমতা, হাইকোর্টে দায়ের করলেন মামলা
বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি 'ইলেকশন পিটিশন’ দাখিল করেছেন তিনি। এদিন মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই তিনি হাইকোর্টে হাজির হয়ে এই সংক্রান্ত হলফনামা পেশ করেছেন।
নির্বাচনে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন 'এলাকারই মেয়ে' মমতা। পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে আইনি পথেই এবার এই ফলাফলের সত্যতা যাচাই করতে চান তিনি। তৃণমূল নেত্রীর এই আকস্মিক আদালত পরিদর্শনে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, গণনায় কারচুপি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিশেষ নির্বাচনী মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই ধরনের ইলেকশন পিটিশন দায়ের করতে হয়। তৃণমূল নেত্রী সেই আইনি পথ অবলম্বন করেই শুভেন্দু অধিকারীর বিধায়ক পদ তথা এই নির্বাচনী জয় নিয়ে আইনের পথ নিলেন।
নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি একই পদক্ষেপ নেন। সেই সময়েও গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামের সেই মামলাটি এখনও আদালতের বিচারাধীন।
বিগত নির্বাচনের মতো এবারের ভোটেও নজর ছিল ভবানীপুর আসনের দিকে। নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে মমতাকে হারানোর পর এবছর ভবানীপুরে তাঁকে হারানোর চ্যালেঞ্জ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে শুভেন্দু জয় পান এবং পরবর্তীতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে এই হার মেনে নিতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। তাই ফলাফলের পর থেকেই দলের অন্দরে ভোট প্রক্রিয়া এবং গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এবার সেই পথে হেঁটেই আইনের সাহায্য নিলেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন দুপুরে সকলকে চমকে দিয়ে হাইকোর্টের মূল ভবনে ঢোকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী পিটিশন দাখিলের জন্য আবেদনকারীর সশরীরে আদালতে উপস্থিত থেকে হলফনামায় সই করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে। সেই কারণেই মমতা হাইকোর্টে আসেন বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
বিজেপি নেতৃত্ব এই আইনি পদক্ষেপকে 'ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে। তাঁদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা আদালতের মাধ্যমে বদলে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর জয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিয়ম মেনে হয়েছে বলেই বিজেপি দাবি করেছে।












Click it and Unblock the Notifications