ভবানীপুর-সহ ৩ কেন্দ্রেই নিষ্ক্রিয় থাকবে আইএসএফ! বামেরা পড়েছে ঘোর বিপাকে
একুশের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছাড়া হয়েছিল জোট সমঝোতার শর্তে। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপরই বামফ্রন্ট প্রার্থী দিতে মনস্থ করে।
একুশের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছাড়া হয়েছিল জোট সমঝোতার শর্তে। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপরই বামফ্রন্ট প্রার্থী দিতে মনস্থ করে। কিন্তু কংগ্রেস সাফ জানিয়ে দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচার করবে না। এমনকী আইএসএফও এবার বামেদের পাশ থেকে সরে গেল এই লড়াইয়ে।

বামেরা ভেবেছিল কংগ্রেস আর আইএসএফ তাদের পাশে থাকবে। দুই দলের ভোট ব্যাঙ্কে ভর দিয়ে তারা লড়াই করতে পারবে। তাই এবার ভবানীপুরে তারা প্রার্থী দিয়েছিল। জঙ্গিপুরে তো বামেদের প্রার্থীই ছিল। আর সামশেরগঞ্জে প্রার্থী ছিল কংগ্রেসের। কিন্তু আইএসএফ তিন কেন্দ্রেই নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বামেদের লড়াই কঠিন হয়েছে।
একুশের নির্বাচনে বামেরা ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতা পর এই প্রথম বিধানসভায় কোনও বিধায়ক নেই বামেদের। কংগ্রেসেরও সেই একই অবস্থা। এহেন পরিস্থিতিতে বাকি থাকা দুই কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে এবং একটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে বাংলায়। ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনে আগে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছিল কংগ্রেস। এবার তিন কেন্দ্র থেকেই আইএসএফ সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।
আইএসএফের এই সিদ্ধান্তে বামেরা পড়েচে বিপাকে। তারা যে কোনও প্রকারে একটি কেন্দ্রে অন্তত জয় পেতে চাইছিল। কারণ বিধানসভায় অন্তর্ভুক্তি। কিন্তু কোমর বেঁধে নেমেও কূল-কিনারা পাচ্ছে না বামেরা। তাদের হাত ধরে টেনে তোলারও লোক নেই এবার নির্বাচন। ভোট ময়দানে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আব্বাস সিদ্দিকির আইএসএফ। কিন্তু এবার তারা লড়াইয়ে না থাকায় বামেদের জোট জোর ধাক্কা খেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আইএসএফের সঙ্গে জোট রাখা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিল বামফ্রন্ট। বামফ্রন্টের অন্য শরিকরা বেশিরভাগই একলা চলার পক্ষে। এবার আইএসএফ বামেদের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলার বার্তা দিয়েই দিল। কংগ্রেসও প্রায় সেই ইঙ্গিত দিয়ে ভবানীপুর থেকে সরিয়ে নিয়েছেন নিজেদের। তারপর বামেরা কংগ্রেসের ভাগে থাকা আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এই ঘটনার চাপানউতোরে বিপন্ন সংযুক্ত মোর্চা।
আব্বাস সিদ্দিকির দল একুশের নির্বাচনের আগে বামেদের সঙ্গে সমঝোতা গড়ে তোলে। বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ সম্মিলিতভাবে সংযুক্ত মোর্চা গড়ে তুললেও, তার ফায়দা তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলার মানুষ ছুড়ে ফেলেছে সংযুক্ত মোর্চাকে। সংযুক্ত মোর্চার একমাত্র বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন আইএসএফের নৌশাদ সিদ্দিকি। কংগ্রেস বা বামেদের কোনও প্রার্থী জয়যুক্ত হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications