বুড়ি বালাম নদীর তীরে যাওয়ার আগে বাগনানের ডেরা থেকে হঠাৎ পুজোমণ্ডপে বাঘাযতীন
তখন স্বাধীনতা সংগ্রামের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত চলছে। বাঘাযতীনের নেতৃত্বে বুড়িবালাম নদীর তীরে ইংরেজদের সঙ্গে যে যুদ্ধ বেধেছিল তার ঠিক পূর্বের কথা।
তখন স্বাধীনতা সংগ্রামের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত চলছে। বাঘাযতীনের নেতৃত্বে বুড়িবালাম নদীর তীরে ইংরেজদের সঙ্গে যে যুদ্ধ বেধেছিল তার ঠিক পূর্বের কথা। ইংরেজদের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য হাওড়ার বাগনানে গা ডাকা দিয়েছিলেন বাঘাযতীন। বুড়িবালাম নদীর তীরে যুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি হাজির হয়েছিলেন বাগনানে নন্দীবাড়ির দুর্গাদালানে।

১
দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে যুদ্ধে যান বাঘাযতীন
নন্দীবাড়ির দুর্গাপুজোয় এসেছিলেন বীরবিপ্লবী বাঘাযতীন। বাগনান হাইস্কুলে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা তখন ঘাঁটি গেড়েছিলেন। এখান থেকেই বালেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তারা। সেখানে বুড়িবালাম নদীর তীরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগে নন্দীবাড়ির দুর্গাপুজোয় হাজির হয়ে দনুজদলনীর আশীর্বাদ নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
২
স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মৃতিতে মহিমান্বিত পুজো
বুড়িবালাম নদীর তীরে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধের আগে নন্দীবাড়ির দুর্গাপুজোয় উপস্থিত হওয়ায় বাঘাযতীনের স্মৃতিতে এই বাড়ির পুজো আজ মহিমান্বিত। ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের মেলবন্ধনে পুজোর আয়োজন, আবার সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মৃতি এক অন্য মাত্রা দিয়েছে এ বাড়ির পুজোকে। এলাকায় যথেষ্ট সমাদৃত এ বাড়ি। আরও সমাদৃত ঐতিহ্যের ধারা আজও বজায় রাখায়।
৩
আরও এক রীতি
আর শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামের মাহাত্ম্যেই নয়, এ বাড়ির পুজোয় উল্লেখযোগ্য আর একটা রীতি ছিল কামান গর্জন। এখন কামান নেই ঠিকই, তার পরিবর্তে বন্দুকে ফায়ারিং করার রেওয়াজ বর্তমান। হাওড়ার বাগনানের নন্দীবাড়ির পুজোয় সন্ধিপুজোয় এই ধারা আজও অব্যাহত।
৪
সন্ধিপুজোর আগে ফায়ারিং
এই বাড়িতে্ এখনও সন্ধিপুজোর আগে ফায়ারিং করা হয়। তারপর শুরু হয় অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণের পুজো। বাগনানের রথতলা সংলগ্ন এলাকায় বাস নন্দী পরিবারের। হুগলির শিয়াখালার পাতুল গ্রাম থেকে এই পরিবার বাগনানে উঠে এসেছিল। পাতুল গ্রামে নন্দী পরিবারে পুজো হয়। এই পুজোয় বন্দুর ফায়ারিংয়ের ধারা আজও বজায় রয়েছে হাওড়ার বাগনানে।
৫
নিয়ম-রীতি মেনে পুজোর আয়োজন
এখনও এ বাড়িতে নিয়ম-রীতি মেনে পুজোর আয়োজন হয়। সেইমতো সন্ধিপুজো শুরুর মুহূর্তে বাড়ির বন্দুক থেকে ফায়ারিং করা হয়। দুটি ফায়ারিং হয়। এ অভিজাত রীতি আজও বর্তমান। সেইমতো রীতি মেনেই এখনও কুমারী পুজো ও ছাগ বলি হয়। দুর্গা মন্দিরে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজনও হয় চিরাচরিত প্রথা মেনে।












Click it and Unblock the Notifications