প্রতীক্ষাই সার! প্রিয়াঙ্কার ‘প্রবেশে’ বিজেপিতে পাকাপাকিভাবে কি ‘প্রাক্তন’ হলেন রাজীব
একজনের প্রবেশে, প্রস্থান কি অন্যের? বিজেপিতে পাকাপাকিভাবে প্রাক্তন তকমা কি তবে জুটেই গেল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের? নাকি এখনও শেষ হয়নি প্রতীক্ষার পালা? তবে বিজেপি অফিসে বরাদ্দ ঘর থেকে সরে গেল রাজীবের নেমপ্লেট।
একজনের প্রবেশে, প্রস্থান কি অন্যের? বিজেপিতে পাকাপাকিভাবে প্রাক্তন তকমা কি তবে জুটেই গেল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের? নাকি এখনও শেষ হয়নি প্রতীক্ষার পালা? তবে বিজেপি অফিসে বরাদ্দ ঘর থেকে সরে গেল রাজীবের নেমপ্লেট। রাজীবের ঘরটি বরাদ্দ হল বিজেপির ভবানীপুরের প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের জন্য। সেখান থেকেই নির্বাচন পরিকল্পনা করবেন তিনি।

একুশের নির্বাচনের আগে চাটার্ড ফ্লাইটে করে দিল্লি উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে নিয়েছিল বিজেপি। তারপর তাঁকে ডোমজুড়ের প্রার্থী করা হয়েছিল। তখনই রাজীবের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল হেস্টিংসে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ের ৮১১ নম্বর ঘরটি। ৯ তলার ওই ঘর থেক রাজীবের নেমপ্লেট খুলে নেওয়া হল।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পর রাজীব এই ঘরে বসতেন। কিন্তু একুশের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজীবের সুর বদলে যায়। তিনি ফের তাঁর পুরনো দল তৃণমূলের সুরে কথা বলতে শুরু করেন। বিজেপির সমালোচনাও করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তখন থেকেই একপ্রকার বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
বিজেপির প্রতীক্ষা শুরু সেদিন থেকে। কিন্তু রাজীব আর বিজেপির অফিস মুখো হননি। এতদিন রাজীবের ঘরটি ফাঁকাই পড়েছিল। বাইরের দরজায় লাগানো ছিল নেমপ্লেট। সেই নেমপ্লেট খুলে তাঁকে একপ্রকার প্রাক্তন করে দেওয়া হল। তাঁকে বিজেপিমুখো করতে চেষ্টার কসুর করেনি গেরুয়া শিবিরের নেতারা। কিন্তু রাজীব আসেননি। প্রতীক্ষার অবসানে তাঁকে প্রাক্তনের তালিকায় ফেলে দেওয়া হল।
মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরার পর থেকেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে জল্পনা বাড়তে থাকে। তিনিও তৃণমূলে ফেরার লাইনে রয়েছেন বলে জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করে। তিনি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেন। এমনকী মুকুল রায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আত্মীয় বিয়োগেও তাঁকে দেখা যায়। দেখা যায় তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সঙ্গে বৈঠকেও।
তার আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে রাজীবের দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে। বিজেপি তাঁকে সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ মনোরথ হয়েছে। তবুও অপেক্ষার প্রহর গোনা চলছিল। শেষমেশ তিনমাসেরও বেশি সময় তাঁকে নিষ্ক্রিয় দেখে হেস্টিংস কার্যালয়ের রাজীবের ঘর এখন প্রিয়াঙ্কার হয়ে গেল। প্রিয়াঙ্কা হেস্টিংসের ওই ঘর থেকেই ভবানীপুর উপনির্বাচন লড়বেন।
রবিবারই ওই ঘরের দরজা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজীবের নেমপ্লেট। সোমবার থেকে সেই ঘরে বসছেন প্রিয়াঙ্কা। ন-তলাতেই আর একটি ঘরকে ওয়াররুম বানানো হয়েছে। সেখান থেকে ভবানীপুর কেন্দ্রের একুশের নির্বাচনের প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ নির্বাচন পরিচালনা করবেন। তাঁকেই উপনির্বাচনে প্রচারের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি শিবির এতদিন আশায় ছিল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয় ফিরে আসবেন। আবার তিনি বসবেন তাঁর নির্ধারিত কার্যালয়-কক্ষে। কিন্তু শেষপর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষার পর হাল ছাড়ল বিজেপি। রাজীবকে প্রকারান্তরে বিজেপির প্রাক্তন বানিয়ে দিল তারা। রাজীবকে নিয়ে আর কোনও আশা দেখছেন না বিজেপি নেতারা। তাই প্রত্যাশায় দাঁড়ি পড়ে গেল বিজেপির












Click it and Unblock the Notifications