ছোট বেলার অনেক স্মৃতি! গাজনের মেলায় হাজির আট থেকে আশি
আধুনিক যন্ত্র নির্ভর সভ্যতার যুগে অনেক জিনিসই বাতিলের তালিকায় ঢুকে পড়েছে। তাই এই সুযোগে আগামী প্রজন্মের সঙ্গে সেই সব হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের পরিচয় করানোর সুযোগ রয়েছে বাঁকুড়া পুরসভা সংলগ্ন হংসেশ্বর শিবের গাজনে।
বাঁকুড়া শহরের ভিতরের এই গাজনে কী নেই! মাটির কলসি, হাঁড়ি, কুঁজো, মাটির পুতুল, বাঁশ ও বেতের তৈরি ঝুড়ি, কুলো থেকে শিল নোড়া, পাথরের তৈরি থালা, বাসন, জঙ্গল মহলের কুল গুঁড়ো, বাচ্চাদের খেলনা...। সবকিছুই মিলবে এই গাজন চত্বরে। ফলে ঐতিহ্যের টানে, সঙ্গে অতীতকে ছুঁয়ে দেখতে বারবার মানুষ ছুটে আসেন এই গাজনে।

এই গাজন উৎসব ঘিরে বড়দের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে, শনিবার সকালেই তার প্রমাণ মিললো বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা ছোটদের দেখে। গাজন মেলায় কেনাকাটির মাধ্যে গৃহবধূ শতাব্দী চট্টোপাধ্যায়, পিয়ালী রায়, দিপালী পাল দে, চন্দনা দে-রা বলেন, বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের খোঁজ মেলে এখানেই। ফলে সেই সব সংগ্রহ করার তাগিদ থেকেই এই গাজনে প্রতি বছর ছুটে আসা বলে তারা জানান।
ছোটবেলাটাকে আরও একবার ফিরে পেতে ছেলেকে নিয়ে এই গাজনে হাজির সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, আমাদের ছোট বেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই গাজনকে ঘিরে। তাই সুযোগ পেলেই ছুটে আসি বছরের এই বিশেষ দিনটিতে। আর এখানে এসে অতিতকে ছুঁয়ে দেখা যায়। তবে ছোটোবেলায় দেখা কাঠের নাগরদোলাকে এখন খুব মিস করেন বলে তিনি জানান।
গাজনে উপস্থিত বাঁকুড়া পুরসভার উপ পুরপ্রধান হীরালাল চট্টরাজও। তিনি বলেন, মেলা মানেই মিলন মেলা, বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র সংগ্রহে মানুষ এই গাজনে আসছেন বলে তিনিও জানান।












Click it and Unblock the Notifications