Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ইতিহাসের অজানা পাতায় বঙ্গবীর অতুল চন্দ্র ঘোষ, এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবন যুদ্ধ

দেখতে দেখতে কেটে গেল ৭৫টা বছর। আজও মনে হয় এইতো সেদিন, দিল্লির লালকেল্লার মাথা থেকে ব্রিটিশ ইউনিয়ন জ্যাক টেনে নামিয়ে উড়েছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। দেশের জন্য যাঁরা নিজের রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে, সর্বস্ব দিয়ে উরিয়েছিলেন এই জয়ধ্বজা, সেদিন গোটা বিশ্ব দেখেছিল ভারত এবং ভারতীয়দের সেই বীর গাথার অভূতপূর্ব দৃশ্য।

১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট নব রূপে সামনে এসেছিল চাণক্য, সম্রাট অশোক, বিক্রমাদিত্য, ঝাঁসির রানি, নেতাজির স্বপ্নের ভারতবর্ষ। আর আজ ২০২২এর দরজায় এসে গোটা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব। তবে এই দিন তো সহজে আসেনি।

আর আজ স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের সময় কতজনই বা মনে রেখেছেন সেই সকল মহা বীরদের কথা? যাঁদের চরম আত্মত্যাগ থাকলে এই দিনটিই হয়ত দেখতে পেতনা দেশ। কিংবা বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে কি আদৌ প্রতিষ্ঠা পেত এই ভারত? কিন্তু সময়ের সঙ্গে আজ যেন বহু বছরের ধুলো পড়া ভাঙা আসবাবের মতই স্মৃতির অতলে চলে গিয়েছেন তাঁরা। স্বাধীনতার ৭৫ বছরে একবার ফিরে দেখা যাক তেমনই এক সংগ্রামী জীবন।

বঙ্গবীর অতুলচন্দ্র ঘোষ

বঙ্গবীর অতুলচন্দ্র ঘোষ

অতুলচন্দ্র ঘোষের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষে। পিতা মাখনলাল ঘোষ এবং মাতার সাহচর্য পেলেও তাঁর শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটে পিতৃব্য হিতলাল ঘোষের কাছে। এরপর পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যায় প্রতিপালিত হন এক উকিল মেসোমশাইয়ের কাছে। তৎকালীন বর্ধমানের মহারাজা স্কুল থেকে ১৮৯৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষা দেন। ১৯০১ সালে এফ.এ পাশ করে কলকাতার মেট্রোপলিটন কলেজে বি.এ. ফার্স্ট ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু ১৯০৪ সালে বি.এ.পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি অতুল, কারণ তখন থেকেই পড়াশোনা নয়, বরং ভারত মায়ের পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করার চিন্তা ও তাগিদ ছিল বেশি। এরপর ১৯০৮ পুরুলিয়ায় ফিরে এসে সেখানেই আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন অতুলচন্দ্র ঘোষ।

জাতীয় কংগ্রেসে সক্রিয় ভূমিকা

জাতীয় কংগ্রেসে সক্রিয় ভূমিকা

জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধী ও বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংরামী নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্তর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে আইন ব্যবসা ছেড়ে অসহযোগ আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯২১ সালে মানভূমে কংগ্রেস দলের প্রতিষ্ঠা হয় যেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন যথাক্রমে নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্ত এবং অতুলচন্দ্র ঘোষ। এর পরেই জাতীয় কংগ্রেস থেকে লাভ করেন একের পর এক পদ। ১৯২১ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত বিহার প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে পদান্বিত থাকেন অতুলচন্দ্র ঘোষ। এবং এরপর ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত মানভূম জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত থাকেন। সেই সময় পদাধিকারী হিসাবে মানভূম ও নিকটবর্তী এলাকার বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করেন।

 স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা

স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা

১৯৩৫ সালে নিবারণবাবুর মৃত্যুর পর সভাপতি হন অতুলচন্দ্র। ১৯৩০ সালে তিনি জেলা সত্যাগ্রহ কমিটির সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। লবণ-সত্যাগ্রহে যোগ দেন। ও পরে 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৫ সালে জাতীয় সপ্তাহ পালনকালে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অপরাধে তিনি কারারুদ্ধ হন। মানভূমের ভাষা আন্দোলনে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় জাতীয় কংগ্রেস ত্যাগ করে ১৯৪৭ সালেই লোকসেবক সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করে বিহার সরকারের প্রশাসনিক,অর্থনৈতিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত নীতির বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে যান। অতুলচন্দ্র ঘোষের এই অসামান্য অবদানের জন্য তিনি 'মানভূম কেশরী' আখ্যা লাভ করেন। এরপর ১৯৫০ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তিনি সত্যাগ্রহ পালন করেছেন।

পরবর্তী জীবন ও মানভূমের উন্নয়ন

পরবর্তী জীবন ও মানভূমের উন্নয়ন

১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে সঙ্ঘ 'টুসু' গানের ব্যবস্থা করে। রাজ্য পুনর্গঠন কমিটির কাছে পুরুলিয়াকে বাংলার অন্তর্ভুক্ত রাখার জন্য অনেক সংগ্রাম করেছেন অতুলচন্দ্র ঘোষ। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন বাংলা বিহার সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা ঝগড়া নয়, বরং মৈত্রীর মাধ্যমে মেটানো সম্ভব। ১৯৫৬ সালে পুরুলিয়া আলাদা জেলা হিসেবে গঠিত হয়। সেকারণে অতুলচন্দ্র ঘোষকে বঙ্গভূক্তি আন্দোলনের স্থপতিও বলা হয়। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত অতুলচন্দ্র গণতন্ত্র পঞ্চায়েতরাজ প্রতিষ্ঠা, গ্রাম্যশিল্পের উন্নতি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ইত্যাদি একাধিক কর্মসূচিও পালন করেছিলেন।

ছবি সৌজন্য পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন ওয়েবসাইট

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+