Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Exclusive: বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব তুমুল বিতর্কে! সাংবাদিকদের একাংশ নেতাদের থেকেও বড় তোলাবাজ, দাবি বিধায়কের

ট্রাস্টের জমিতে প্রেস ক্লাবের ভবন! অভিযোগে সরগরম বর্ধমান। বেশিরভাগ সাংবাদিকই এই কাজকে সমর্থন করছেন না। বিষয়টি পৌঁছেছে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের কাছে। বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে এ প্রসঙ্গে বোমা ফাটালেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র দু পয়সার সাংবাদিক বলায় জোর বিতর্ক হয়েছিল। বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়কের কথায়, কিছু সাংবাদিক তো নেতাদের থেকে বড় তোলাবাজ! এই কথাটা যে ভিত্তিহীন নয় তা বোঝা যাচ্ছে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে আসায়।

Exclusive: বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব বড় বিতর্কে!

সাংবাদিকদের কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন জেলায় প্রেস কর্নার করে দেওয়া হয়েছে সরকারিভাবে। বর্ধমানে জেলাশাসকের কার্যালয়ের কাছেই গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের নামাঙ্কিত প্রেস কর্নারের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছে। সিংহভাগ সাংবাদিক সেখানে গিয়ে কাজ করলেও জনা তিনেক সাংবাদিকের কীর্তি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ছে বিভিন্ন মহলে।

চন্দ্রযান নিয়ে চর্চার মধ্যেই সাংবাদিকদের এই ভিন্ন রূপ নিয়ে বিতর্ক! প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে সাংবাদিকদের জন্য প্রেস কর্নার করে দিয়েছেন, সেখানে ফুটপাথ আগলে কেন রোজ বসে থাকছেন সাংবাদিকরা? কেনই বা প্রয়োজন হলো আলাদা ভবনের? যেটির জমি দখল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠছে। সূত্রের খবর, শাসক দলের বিধায়কের নজরেও বিষয়টি আনা হয়েছে।

Exclusive: বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব বড় বিতর্কে!

অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবের ভবনটির দ্বারোদ্ঘাটন হয়। এই ভবন তৈরিতে যে তৃণমূলের নেতা সহযোগিতা করেছেন তিনি তো হাজির ছিলেনই, ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের চেয়ে বেশি পরিমাণে হাজির ছিলেন তৃণমূলের নেতারাই! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে জানান, জমি বিতর্কের কারণেই প্রেস ক্লাবের বহু সদস্য অনুষ্ঠান বয়কট করেছিলেন।

বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবের সদস্যদের কথায়, আমরা শুরু থেকে জমি সংক্রান্ত নথি দেখতে চেয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম সম্ভাব্য খরচের বিষয়েও। কিন্তু তা জানানো হয়নি, সে কারণে আমরা ও-মুখো হইনি। উল্লেখ্য, এই প্রেস ক্লাবের সভাপতি নিউজ ১৮ বাংলার সাংবাদিক শরদিন্দু ঘোষ, যাঁর স্ত্রী-র বিরুদ্ধে ওএমআর শিট জালিয়াতি করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

Exclusive: বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব বড় বিতর্কে!

একদিকে প্রেস ক্লাবের সভাপতির স্ত্রী-র বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ। তার মধ্যে সেই প্রেস ক্লাবের ভবন নিয়ে জোরদার বিতর্ক। সম্প্রতি প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা বয়কট করেছিলেন অর্ধেকেরও বেশি সদস্য। তাঁরা যাতে যেতে না পারেন সে কারণে গলসিতে গিয়ে সভাটি করা হয়। সেই গলসির স্কুলেই কর্মরত শরদিন্দুর স্ত্রী। বার্ষিক সাধারণ সভা দ্রুত শেষ হয় কোনওরকমে নতুন কমিটি গড়েই।

অভিযোগ, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী কয়েক কোটি টাকার জমিতে উঠেছে প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন। ট্রাস্টের জমিতে কীভাবে এমনটা হতে পারে সেই প্রশ্ন তুলে সরকারি মহলে অভিযোগ জানানো হচ্ছে। আইনি পথেও হাঁটতে পারে ওই ট্রাস্ট। এমন বেআইনি কাজের অভিযোগে বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবের অনেক সদস্যই বর্তমান পদাধিকারীদের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। ভিড় বাড়ছে সরকারের বন্দোবস্ত করা প্রেস কর্নারেই।

Exclusive: বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব বড় বিতর্কে!

সূত্রের খবর, বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবের ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির থাকলেও এর জমি নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা ভাঙা পড়বে সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিধায়ক খোকন দাস। এ বিষয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ওখানকার জমি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিষয়টি আমি দেখছি। তবে ওই প্রেস ক্লাবে ২-৩ জন যান। বাকিরা জেলাশাসক যেখানে প্রেস কর্নার করেছেন সেখানেই যাচ্ছেন।

Exclusive: বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব বড় বিতর্কে!

তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা যাচ্ছে, বিধায়ক প্রেস কর্নার ও প্রেস ক্লাব উদ্বোধনের দুটি অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিতর্কিত ভবনের দ্বারোদ্ঘাটনের ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা হয়নি। ওই দিনের অন্য কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও কিন্তু রয়েছে। সরকারের তরফে ব্যবস্থা করা প্রেস কর্নার উদ্বোধনের ছবি অবশ্য বিধায়ক পোস্ট করেছেন।

খোকন দাস বিধানসভার স্পিকারের ঘরের সামনে দিয়ে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘরের দিকে যাওয়ার সময় ওয়ানইন্ডিয়াকে আরও বলেন, সাংবাদিকরা তো কিছু হলেই নেতাদের খবর তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের অনৈতিক কীর্তিকলাপও তো সামনে আনা উচিত। বর্ধমানের কয়েকজন সাংবাদিক তো নেতাদের থেকে বড় তোলাবাজ! এ বিষয়ে পরে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন বিধায়ক।

বিধায়কের মাধ্যমে সাংবাদিকদের তোলাবাজ তকমা প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে সংবাদমাধ্যমের পক্ষে অসম্মানের। যাঁরা এই পেশাকে ভালোবেসে নানা ঝক্কি সামলেও সাংবাদিকতা করেন, কয়েকজন ব্যাড এলিমেন্টের জন্য তো কালি লাগছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের গায়েই। বিধায়কের বক্তব্যের পর ওয়ানইন্ডিয়া খোঁজখবর নিতে থাকে। সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সাংবাদিকদের সুবিধা নেওয়া যে শুধু তৃণমূল জমানাতেই তা নয়। দুই প্রবীণ সাংবাদিকের আত্মীয় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন বাম জমানায়। এই জমানায় শরদিন্দু ঘোষের স্ত্রী অবৈধ উপায়ে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। এমন অভিযোগও আছে যে, কয়েক লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট জলের দরে কিনেছেন কয়েকজন সাংবাদিক। সেই জলের দর পেমেন্ট করা হয়েছে তোলাবাজির টাকাতেই।

একজন মজা করে বললেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন শান্তিনিকেতন বিল্ডিং নিয়ে কত কথাই তো শোনা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু বর্ধমানে এক সাংবাদিকের ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জা চমকপ্রদ। সঠিক তদন্ত হলে আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির সঙ্গতি মিলবে না বলেই অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতিনিধি বা নেতাদের থেকে ফ্ল্যাট কেনার টাকা নেওয়ার কথাও শোনা যায় কার্জন গেটে কান পাতলেই।

নার্সিংহোমকে ব্ল্যাকমেল করে কয়েক লক্ষ টাকা তোলাবাজি থেকে শুরু করে বিলাসবহুল বাড়ি বানাতে রড, বালি, পাথর উপঢৌকন হিসেবেও এক সাংবাদিক পেয়েছেন, গ্যাঁটের কড়ি খরচ না করেই, এমন অভিযোগও উঠছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের দায়িত্ব পুলিশ-প্রশাসনের। কিন্তু অভিযোগ সত্যি হলে তা সাংবাদিকদের পক্ষে কলঙ্কের। জানা যাচ্ছে, বর্ধমানের কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ জেলা প্রশাসন।

(ছবি- সোশ্যাল মিডিয়া)

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+