Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

নির্বাচন আসতেই শুরু দায় ঠেলাঠেলি! গঙ্গা-ভাঙন রোধ নিয়ে রাজনৈতিকদলগুলির প্রতিশ্রুতির বন্যা

ভোট আসে ভোট যায়। ভোটের সঙ্গে আসে প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু এলাকার মানুষের অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয় না। তাই দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রে এবার নদী ভাঙন বড় ইস্যু। ভোট প্রচারে বেরিয়ে নদী ভাঙ্গনকে হাতিয়ার করছেন সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। চলছে একে অপরের ঘাড়ে দায় ঠেলাঠেলি।

গঙ্গার দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মালদার মানিকচকের ভূতনি চড়। লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এই এলাকায়। আছে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত। বর্ষা আসলেই রাতের ঘুম ওড়ে এই এলাকার মানুষজনের। কারণ গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গেছে বহু গ্রাম, একরের পর একর ফসলি জমি গাছপালা। এক সময় যাঁদের সব ছিল, এখন তারা সর্বশান্ত। তাই নির্বাচনে এই এলাকায় ভোটের সবচেয়ে বড় ইস্যু নদী ভাঙন।

ganga erosion

স্থানীয় মানুষ তিমিরেই
একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শাহনওয়াজ আলি রায়হান রাস্তায় ঘুরে ঘুরে দোকানে দোকানে পৌঁছে গিয়ে ভোট প্রচার করছেন, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভাঙন রোধের। তখন গঙ্গার তীরে বসে সত্যাগ্রহ করছেন বিজেপি প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস যখন ভাঙ্গন নিয়ে বিজেপি এবং কংগ্রেসকে দুষছে, তখন তৃণমূল ও কংগ্রেসের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে বিজেপি। পাল্টা কংগ্রেসের দাবি, ভাঙন রোধে প্রচুর টাকা কেন্দ্র থেকে নিয়ে আসতে পেরেছেন কংগ্রেস সাংসদ। যদিও এলাকার মানুষের অভিযোগ, ভাঙন নিয়ে রাজনীতি হলেও তাঁরা যে তিমিরে ছিলেন, সেই তিমিরেই রয়েছেন।

দরকার স্থায়ী সমাধান
গ্রামের বাসিন্দা অরুণ মণ্ডল জানান, প্রতিবছর ভাঙনকে ইস্যু করা হলেও সমস্যার কোনও সমাধান হয় না। যার ফলে তাঁরা অসুবিধায় পড়েছেন। গ্রামের আরেক বাসিন্দা শম্ভু মণ্ডল জানান, তাঁর বয়স ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাঙন দেখে আসছেন। হিরানন্দপুর বাসতলীতে তিনি নিজে ছিলেন। প্রতিবছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা যান আর ভাঙন রোধের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু তারপরে দেখা যায়, তাঁরা আর আসেন না, এসি ঘরে বসে কাজ করেন। ইতিমধ্যে তিনটি পঞ্চায়েত মধ্যে দুটি পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা গঙ্গা গর্ভে চলে গেছে। গঙ্গা বাধা না গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁরা চাইছেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান।

তৃণমূল প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি
দক্ষিণ মালদার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শাহনওয়াজ আলি রায়হান বলেছেন, দশ বছর ধরে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার রয়েছে। অন্য জায়গায় গঙ্গার সৌন্দর্যায়নের জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে। আর এখানে একটাও টাকা দিচ্ছে না ভাঙন রোধের কাজে। আর তারা গঙ্গা ভাঙন বিধ্বস্তদের কাছে বলছেন ভোট দিন। এই দ্বিচারিতা ভূতনির মানুষ মেনে নেবে না। ভূতনির মানুষ কংগ্রেসের ওপরেও বিরক্ত।

তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের সাংসদ কোনওদিনই ভাঙনের কথা কথা সংসদে পৌঁছে দেননি। এই অভিযোগ শুধু এখানকার নয়, দক্ষিণ মালদার সাতটা বিধানসভা কেন্দ্রের একই অভিযোগ। সেই প্রতিনিধিত্বের সমস্যা আর বিজেপির যে বাংলা বিরোধী রাজনীতি করছে কোন আর্থিক প্রকল্পের টাকা পাঠাচ্ছে না। এই সবকিছুর অবসান করে ভূতনিবাসী আওয়াজ হতে তিনি দাঁড়িয়েছেন।

সত্যাগ্রহে বিজেপি প্রার্থী
বিজেপির দক্ষিণ মালদার প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী বলেন, যাঁরা ভুতনি এলাকায় মানুষদের বাঁচাতে তিনি সত্যাগ্রহে বসেছেন। এই দক্ষিণ মালদা কেন্দ্রর বিভিন্ন জায়গায় মানুষজনের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ভাঙনে বাড়িঘর হারিয়েছেন, জমি জমা হারিয়েছেন। বেশিরভাগ মানুষ আজ ভাঙন কবলিত। তাই এই সর্বহারা মানুষের রক্ষা করার তাগিদে তিনি সত্যাগ্রহে বসেছেন। গঙ্গা ভাঙন রোধের জন্য মহাযজ্ঞ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকার যা করে রাজ্য সরকারের মাধ্যমেই করে। অথচ রাজ্য সরকার কোনও প্রস্তাব পাঠায় না। কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি থেকে সেখানে গিয়ে কাজ করে না। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই বিষয়গুলি নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা ও সেই মতো অর্থ বরাদ্দ করার কথা। এব্যাপারে রাজ্য সরকার কোনও গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। তিনি বলেছেন, একটি পরিবার থেকে সাংসদ তৈরি হয়েছেন অথচ কোনও কাজ করেনি ভাঙন রোধের জন্য।

কংগ্রেসের অভিযোগ
দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস প্রার্থী তথা আবু হাসেম খান চৌধুরীর ছেলে ইশা খান চৌধুরী বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। তাঁর বাবা সামশেরগঞ্জ, ফরাক্কা-সহ মালদার ভাঙন রোধের জন্য প্রচুর টাকা নিয়ে এসে কাজ করেছেন। বিজেপি-তৃণমূল রাজনীতি করার জন্য এই সব মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এটা ঠিক নয়, এর জবাব মানুষ দেবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+