ভরা ক্লাসে ছাত্রের সাথে বিয়ে সারেন অধ্যাপিকা, ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বললেন ‘আমি বিবাহিতা’!
ক্লাস টিচারের ওপর পড়ুয়াদের ক্রাশ কিন্তু নতুন কোনও বিষয় না। হামেসায় এই বিষয় শোনা যায় যে, কোনও ছাত্রীর তাঁর ক্লাস টিচারকে পছন্দ কিংবা কোনও ছাত্রের তাঁর শিক্ষিকাকে পছন্দ। তবে সেই বিষয় নিয়ে কোনও দিন কোনও বিতর্কের ঝড় ওঠেনি, কেননা সেই বিষয়টা থাকত শুধুই পছন্দ পর্যন্ত।
তবে এবারে ভাইরাল হলেন এক অধ্যাপিকা এবং তাঁর প্রথম বর্ষের ছাত্র। কেননা ক্লাস রুমের মধ্যেই তারা মালা বদল করে, সিঁদুর দান করে বিয়ে সারলেন। যা নিয়ে প্রশ্নের মুখে চলে এসেছে নদিয়ার হরিণঘাটার মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নদিয়া হরিণঘাটার এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকা ও ছাত্রের বিবাহের আচার-অনুষ্ঠান শ্রেণীকক্ষের ভেতরে সম্পন্ন হওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মুহুর্তে ঝড় তুলেছে। বুধবারই প্রথম সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। আর তারপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে এর চর্চা।
ভিডিওতে গায়ে হলুদ, মালা বদল ও সাতপাক নেওয়ার মতো হিন্দু বিবাহের রীতিনীতি দেখা গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।
- ঠিক কী ঘটেছে?
এই ঘটনাটি মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (MAKAUT) সাইকোলজি বিভাগের ঘটনা। ভিডিওতে অধ্যাপক পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিয়ের পোশাকে দেখা যায়। কিন্তু অধ্যাপিকা দাবি করেছেন, "এটি আসল বিয়ে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শেখানোর জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক নাটকের অংশ"।
এই ঘটনার পর তদন্তের জন্য অধ্যাপিকাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একজন আধিকারিক বলেছেন, "তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমরা কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারি না"।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়- একটিতে ছাত্রের গায়ে হলুদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যটিতে মালা বদল ও সাতপাক সম্পন্ন হচ্ছে। আবার এও দেখা যায়, ছাত্রটি অধ্যাপিকার সিঁথিতে সিঁদুর পরাচ্ছে এবং তাকে একটি গোলাপ দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেটারহেডে লেখা "বিবাহপত্র"! আর এই সব নিয়েই এখন ভীষণ চর্চিত হরিণঘাটার এই কলেজ।
অবশ্য এই বিষয়টিকে 'নাটক' বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপিকা পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, "এটি ছিল শিক্ষামূলক নাটকের অংশ, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে ভিডিওটি ভাইরাল করা হয়েছে"। একই সাথে অধ্যাপিকা এও বলেন, "আমাদের ফ্রেশার্স পার্তি চলছিল। অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানেরাও ছিলেন।
সেখানেই নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক চলছিল। সেই নাটকেরই একটা ছোট্ট অংশ কেউ ভাইরাল করে দিয়েছে, ভুল ম্যাসেজ দেওয়ার জন্যে। আমি একজন বিবাহিতা মহিলা, আমার পরিবারের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা কেউ ভেবে দেখেনি। এমনকি বাচ্চা বাচ্চা ছেলে-মেয়ে গুলোর ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তাও কেউ ভাবেনি"।
অন্যদিকে, ছাত্রটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যায়নি। আপাতত, এই ঘটনা অধ্যাপক-ছাত্র সম্পর্কের নৈতিকতা এবং ক্লাসরুমের শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আপাতত সমগ্র ঘটনার তদন্ত করে দেখছে বলেই জানা গিয়েছে। তদন্তের পর কলেজ প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।












Click it and Unblock the Notifications