ভাঙন রোধে আরও ১০০ কোটি বরাদ্দ করে মমতা বললেন, '২৪ পর্যন্ত কেন্দ্র টাকা দেবে না'
গঙ্গা ভাঙন নিয়ে ফের একবার কেন্দ্রকে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফারাক্কার ব্যারেজ নিয়ে কেন্দ্র কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। আজ শুক্রবার মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের গঙ্গা ভাঙন সরজমিনে খতিয়ে দেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর সেখান থেকেই কড়া ভাষায় কেন্দ্র সরকারকে তুলোধোনা করেন তিনি। বলেন, নদীর স্রোত এবং চড়া ক্রমশ বাড়ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে। ফারাক্কা ব্যারেজের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। যদিও বিষয়টি দিল্লির সাবজেক্ট বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাও কথা হয়েছে। কিন্তু কোনও সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ তাঁর।

এমনকি ফারাক্কা বাংলাদেশ জলচুক্তি হয় সেই সময় ৭০০ কোটি টাকা রাজ্যের পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা দেয়নি বলে অভিযোগ প্রশাসনিক প্রধানের। তাঁর কথায় কেন্দ্রীয় সরকার রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামায়, মিথ্যা কুৎসা রটনা করে কিন্তু সেই মাথা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করত তাহলে বাংলার রূপে আরও রুপান্তরিত হতে পারত বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। তবে গঙ্গা ভাঙন রুখতে রাজ্যের তরফে আরও ১০০ কোটি টাকা ব্যায় করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এজন্যে সেচ দফতরের খাত থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য পরিবেশ দফতর ৫০ কোটি টাকা দেবে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১০ বছরে এই টাকা ভাঙন রুখতে ব্যায় করা হবে। প্রশাসনিক প্রধানের কথায়, টাকা নেই। কোটি কোটি টাকা জলে ঢালা সম্ভব নয়। তাও সামসেরগঞ্জের জন্যে ১০০ কোটি টাকা ঘোষণা করলাম।

অন্যদিকে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাকে কোন টাকা দেবে না কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলা লড়াই করে। দীর্ঘদিন ধরেই মুর্শিদাবাদ জেলাতে অনেক রাজনীতির নেতার জন্ম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনও কাজ করেননি বলে এদিন মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বলে রাখা প্রয়োজন, দুর্গম পরিস্থিতি এবং গঙ্গাপাড় থেকে মানুষকজনকে সরে যাওয়ারও কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বাসস্থান ছেড়ে চলে যাওয়া কষ্টের। কিন্তু মানবিক ভাবে বিষয়টি ভাবার কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গা এলাকা থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাড়ি তৈরির কথা জানানো হয়। বিষয়টি দেখার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে সামশেরগঞ্জ থেকে ৮৬ জনের হাতে জমির পাট্টা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বলে রাখা প্রয়োজন, মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ ও ফরাক্কা মুলত গঙ্গা ভাঙন কবলিত এলাকা হিসেবেই পরিচিত । গত কয়েক বছরে গঙ্গা ভাঙনের জেরে তলিয়ে গিয়েছে বিঘের পর বিঘা জমি ভিটে মাটি। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খুশি সেখানকার মানুষজন।












Click it and Unblock the Notifications