মুর্শিদাবাদ পুনর্দখলে ফেভারিট সিপিআই(এম)! কোন ফ্যাক্টরগুলিতে তাহেরকে টেক্কা দিতে পারেন সেলিম?
Lok Sabha Election 2024: মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনটি ফের পুনরুদ্ধার করতে পারে সিপিআই(এম)। এখানে প্রার্থী হয়েছেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়ে এই আসন থেকে ২০১৯ সালে সাংসদ হন আবু তাহের খান। যদিও এবার তাঁর এই আসনটি ধরে রাখার কাজটি মোটেই সহজ নয়।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) আলাদা লড়েছিল। সেবার কংগ্রেসের আবদুল মান্নান হোসেনকে পরাস্ত করে সাংসদ হন সিপিআই(এম)-এর বদরুদ্দোজা খান। তৃণমূল ছিল তৃতীয়, বিজেপি চতুর্থ। সিপিআই(এম) পায় ৩৩.৩৩ শতাংশ, কংগ্রেস ৩১.৭২ শতাংশ, তৃণমূল ২২.৪৪ শতাংশ ও বিজেপি ৭.৮৫ শতাংশ ভোট।
এরপরই মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ভেঙে শক্তিশালী হতে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বাম ও কংগ্রেস আলাদা লড়েছিল। জেতেন তৃণমূলের আবু তাহের খান, সিপিআইএমের বদরুদ্দোজা খান চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছিলেন।
গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল পায় ৪১.৫৭ শতাংশ ভোট, ১৯.৫৬ শতাংশ ভোট বেড়েছিল। কংগ্রেসের আবু হেনা ২৬ শতাংশ ভোট পান। বিজেপির হুমায়ুন কবীর, যিনি এখন তৃণমূলে, তিনি পান ১৭.০৫ শতাংশ ভোট, সিপিআই(এম) পায় ১২.৪৪ শতাংশ ভোট।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে কংগ্রেস ও বামেদের ভোটের অনেকটা কেটে চলে যায় তৃণমূল শিবিরে, কিছুটা পায় বিজেপি। তৃণমূল ৪১.৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, বাম ও কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের মোট শতাংশ ৩৮.৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ ফারাক প্রায় তিন শতাংশ।
এবার কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) জোটবদ্ধভাবে লড়ছে অনেক আসনেই। যার মধ্যে অন্যতম মুর্শিদাবাদ। এই আসনের গুরুত্ব বেড়েছে মহম্মদ সেলিমের মতো হেভিওয়েট প্রার্থী হয়ে দাঁড়ানোয়। সেই সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন গৌরীশংকর ঘোষ, যিনি মুর্শিদাবাদের দু-বারের বিধায়ক শাওনী সিংহ রায়কে হারিয়ে দেন ২০২১ সালে।
মুর্শিদাবাদ লোকসভার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে, সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই জেলায় 'সংখ্যালঘু' হিন্দু ভোট সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে অনেকটাই যাবে বিজেপির ঝুলিতে। সেলিমকে পেয়ে চাঙ্গা বাম, কংগ্রেস দুই শিবিরই। ফলে মার্জিন খুব বেশি না হলেও সেলিমই জিতবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আবু তাহের খান দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০১৯-এ ভোটের আগে তিনি অন্য দল থেকে এসেছিলেন। ফলে তখনকার পরিস্থিতির তুলনায় এখনকার পরিস্থিতি এখন স্বস্তির। এই লোকসভা আসনে সাংসদ তহবিলের অর্থ খরচের খতিয়ান দিয়ে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন বলেও জানান।
বিশেষ করে করোনা-পরিস্থিতিতে আবু তাহের যেভাবে মানুষের পাশে ছিলেন তাতে এবারও তিনি বিপুল জনসমর্থন পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই লোকসভা আসনে মুর্শিদাবাদ জেলার ৬টি বিধানসভা ক্ষেত্রের পাঁচটি এবং নদিয়ার করিমপুর তৃণমূলের দখলে। তা সত্ত্বেও দলের অন্দরে চোরাস্রোত রয়েছে।
ক্ষোভ প্রশমনে তাহেরকে ছুটতেও দেখা যাচ্ছে। এড়ানো যাচ্ছে না দলের ভাঙন। এক তৃণমূল বিধায়ক কী ভূমিকা নেবেন তা নিয়েও দলের অন্দরে জোর চর্চা চলছে। ফলে দলীয় কোন্দলই বড় বাধা হতে পারে তাহেরের। হিন্দু ভোট একত্রিত করে বাম-কংগ্রেসের সুবিধা করে দিতে পারে বিজেপি।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ থেকে ২০০৪ সাল অবধি টানা মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনটি ছিল সিপিআই(এম)-এর দখলে। ২০০৪ ও ২০০৯ সালের ভোটে জেতে কংগ্রেস। ২০১৪ সালে জিতেছিল সিপিআই(এম)। ফলে এই আসনটি এবার তৃণমূলের ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জের। সাগরদিঘি মডেলেই শূন্যের লজ্জার তকমা ঘোচাতে ফেভারিট সিপিআই(এম)।












Click it and Unblock the Notifications