রিও-র চেয়েও দ্রুততম! টোকিও অলিম্পিক ম্যারাথনে ফের সোনাজয়ী কিপচোগে মাতিয়েছিলেন দিল্লিও
রিও অলিম্পিকের পর টোকিও অলিম্পিকেও সোনা জিতলেন কেনিয়ার কিংবদন্তি এলিউড কিপচোগে। আধুনিক যুগের গ্রেটেস্ট ম্যারাথনার আজ ফিনিশ লাইন পেরোতে সময় নেন ২ ঘণ্টা ৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড। রিও অলিম্পিকের পারফরম্যান্সের চেয়েও দ্রুততম হিসেবে এদিন ম্যারাথনের সোনা নিজের দখলে রাখলেন তিনি।

অলিম্পিকে কিপচোগে
কেনিয়ার লিং ডিসট্যান্স রানার এলিউড কিপচোগে প্রথমে দৌড়াতেন ৩ বা ৫ হাজার মিটারের ইভেন্টে। পরে আসেন ম্যারাথনে। অলিম্পিকে এবার নিয়ে চারটি পদক জিতলেন। রিও অলিম্পিকে ২ ঘণ্টা ৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড সময় করে জিতেছিলেন সোনা। আজ সময় নিলেন তাঁর চেয়েও ৬ সেকেন্ড কম। ম্যারাথনে জোড়া অলিম্পিক সোনার পাশাপাশি কিপচোগের দখলে রয়েছে অলিম্পিকের একটি রুপো ও ব্রোঞ্জ, সেগুলি ৫০০০ মিটারে। ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে ৫ হাজার মিটারে তিনি ব্রোঞ্জ জেতেন, ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে এই ইভেন্টেই জেতেন রুপো।

উল্লেখযোগ্য সাফল্য
২০০৩ সালে ওয়ার্ল্ড ক্রস কান্ট্রি চ্যাম্পিয়নশিপে জুনিয়র রেসে তিনি সোনা জেতেন। ওই বছরই প্যারিসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ হাজার মিটারেই তিনি সোনা জেতেন। ২০০৬ সালে মস্কো ওয়ার্ল্ড ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ৩ হাজার মিটারে জেতেন ব্রোঞ্জ। ২০০৭ সালে ৫ হাজার মিটারে রুপো জেতেন ওসাকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে।

ম্যারাথনের সোনার ছেলে
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ম্যারাথন মেজরে প্রচুর সোনা জিতেছেন কিপচোগে। ২০১৩ সালে বার্লিন ম্যারাথনে রুপো জিতেছিলেন। তারপর থেকে সোনার ছড়াছড়ি। ২০১৪ সালে শিকাগো, ২০১৫ সালে বার্লিন ও লন্ডন, ২০১৬ সালে লন্ডন, ২০১৭ সালে বার্লিন, ২০১৮ সালে লন্ডন ও বার্লিন এবং ২০১৯ সালে লন্ডন ম্যারাথনে তিনি সোনা জেতেন। ২০১৮ সালে বার্লিন ম্যারাথনে তিনি যে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তা এখনও ভাঙতে পারেননি। সেখানে ফিনিশ লাইন টপকেছিলেন ২ ঘণ্টা ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে। ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় একটি স্পেশ্যাল ইভেন্টে তিনি ম্যারাথন জিততে সময় করেছিলেন ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড। কিন্তু এটা ওপেন ইভেন্ট না হওয়ায় এবং পেসিং ও ফ্লুইড সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড কম্পিটিশন রুল মানা হয়নি বলে এই নজির রেকর্ডবুকে ঠাঁই পায়নি।

দু-বার দিল্লিতে
অলিম্পিকের কিংবদন্তি কিপচোগে দু-বার মাতিয়েছেন দিল্লি। প্রথমটা ২০১০ সালে। কমনওয়েলথ গেমসে তিনি রুপো জিতেছিলেন ৫ হাজার মিটারে। এরপর রিও অলিম্পিকের সোনা জয়ের মাস তিনেকের মধ্যেই দৌড়েছিলেন ভারতের রাজধানীর রাস্তায়, এয়ারটেল দিল্লি হাফ ম্যারাথনে। কিপচোগে সময় করেছিলেন ৫৯ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড। সেবার এই হাফ ম্যারাথন জিতে কিপচোগে দিল্লির হাফ ম্যারাথনের প্রশংসা করে বলেছিলেন, এখানকার রানিং কন্ডিশন খুব ভালো, আমার প্রস্তুতিও ভালো ছিল। ১৯৯২ সালের অলিম্পিকে স্টিপলচেজে রুপোজয়ী প্যাট্রিক সাংয়ের কোচিংয়ে তিনি সঠিক দিশায় এগিয়ে রেস জিতে যে তৃপ্ত সে কথাও জানিয়েছিলেন কিপচোগে।

করোনা পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে
করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের মধ্যেই মানসিক ও শারীরিকভাবে সকলকে সুস্থ রাখার লক্ষ্যে ভারতে গত অগাস্টে শুরু হয়েছিল সানফিস্ট ইন্ডিয়া রান অ্যাজ ওয়ান। তারই দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন কিপচোগে। সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিংবদন্তি কিপচোগে বলেছিলেন, ভারত আমার হৃদয়ের অনেকটা জুড়ে রয়েছে। এই সুন্দর দেশের ভালোবাসা, আতিথেয়তা আমি উপভোগ করেছি। দৌড়, জগিং বা হাঁটার মাধ্যমে সকলকে যুক্ত করে সকলকে ভালো থাকার জন্য যে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রশংসনীয়। সে কারণেই আমি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
|
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে ভাবনা
নিজের চতুর্থ অলিম্পিকে নেমে রিও-র পর টোকিওতেও ম্যারাথনে সোনা জিতে কিপচোগে বলেছেন, গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়া আমার কাছে চ্যালেঞ্জটাকে কঠিন করে দেয়। ফলে এই সময়ে সোনা জয় আমার কাছে অনেক কিছু। লোকাল অরগানাইজিং কমিটি রেস আয়োজন যেভাবে করেছে তাতে আমি খুশি। এর মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দেওয়া গেল আমরা সঠিক পথেই স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরে আসার দিকে এগোচ্ছি। ২০০৮ সালের পর কেনিয়া এই নিয়ে অলিম্পিকে পঞ্চম ম্যারাথন পদক জিতল। ইথিওপিয়ার আবেবে বিকিলা (১৯৬০ ও ১৯৬৪) এবং পশ্চিম জার্মানির ওয়াল্ডেমার সিয়েরপিনস্কি (১৯৭৬ ও ১৯৮০)-র পর তৃতীয় অ্যাথলিট হিসেবে অলিম্পিকে ম্যারাথনের সোনা ধরে রাখার নজির গড়লেন কিপচোগে। তাঁর কথায়, আশা করি পরপর দু-বার অলিম্পিক সোনা জিতে দেশের ঐতিহ্য বহন করতে পেরেছি। এখন আগামী প্রজন্মকে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করতে চাই।












Click it and Unblock the Notifications