বিজেপি নেতার মা খুন! নন্দীগ্রাম থানায় ঢুকে পুলিশকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর
শনিবার ষষ্ঠদফার নির্বাচনের আগে অগ্নিগর্ভ নন্দীগ্রাম। যা বিরোধী দলনেতার নির্বাচনী ক্ষেত্র এবং লোকসভার তমলুক কেন্দ্রের অধীন। এদিন সকাল থেকে সেখানে দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ হয়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।
বিরোধী দলনেতা এদিন আহতদের দেখতে হাসপাতেল যান এবং আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনি বিজেপি নেতার মা রথীবালা আড়িকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের অভিযোগে নন্দীগ্রাম থানায় যান এবং আইসিকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আইসিকে মজা দেখাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি নিয়ে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশকে হুঁশিয়ারি
বিরোধী দলনেতা এদিন নন্দীগ্রাম থানায় ঢুকে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আইসিকে দেখে নেবো, নির্বাচন কমিশনে সব জানাবো। তিনি অভিযোগ করেন, একঘন্টা আগে খুনিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইসি। থানায় সিসিটিভি ফুটেজ আদালতে জমা দেওয়ার আবেদনের পাশাপাশি এই খুনের ঘটনার তদন্ত যাতে সিবিআই-এর হাতে যায়, তার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে বলেও জানান বিরোধী দলনেতা।
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় উস্কানির পরেই উত্তপ্ত হয়েছে নন্দীগ্রাম। যে পুলিশ বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জলের বোতল বয়েছে, তারাই খুনিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী থানায় বসে থেকে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা-সহ করা এফআইআর নম্বর নেন। এফআইআর নম্বর হল ৪৩৬।
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখার অভিযোগ
এদিন শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন আগুন মেজাজে। থানার বাইরে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও ধমক দিতে দেখা যায়। তবে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।
আরও ঘর ছাড়া হবে
উত্তপ্ত হওয়ার জেরে বেশ কিছু তৃণমূল নেতা-কর্মী ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রাম ছাড়া। এব্যাপারে বিরোধী দলনেতাকে বলতে শোনা যায়, বুধবার বিজেপি নেতার মাকে খুনে অভিযুক্ত মনসুর, মান্নানের মতো আরও অনেকেই ঘরছাড়া হবে। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় তফশিলিরাও রাজ্যে সুরক্ষিত নন।
কী হয়েছিল বুধবার রাতে?
বুধবার রাতে সোনাচূড়ায় হামলার ঘটনা ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় এবং বিজেপির তফশিলি সেলের নেতার মা বিজেপি কর্মী রথীবালা আড়িকে পিটিয়ে-কুপিয়ে খুন করা হয়। গুরুতর জখম বিজেপি নেতাকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
যদিও তৃণমূলের তরফে বিজেপির ওপরে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই এই খুন।












Click it and Unblock the Notifications