তাঁর পা ধরেছিল ভাইপো-সহ চারজন! NIA নিয়ে মন্তব্যে মমতাকে গ্রেফতারের দাবি তুললেন শুভেন্দু
শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে এনআইএ-র ওপরে হামলা এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতার দাবি করছেন।
তিনি বলেন, এনআইএকে আক্রমণ করা মানে বাবা সাহেব আম্বেদকরের সংবিধানকে আক্রমণ। এনআইএকে আক্রমণ করা মানে বিচার বিভাগকে আক্রমণ করা। তিনি বলেন, ভূপতিনগরের মামলা এনআইএ-র হাতে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআইএ-র বিরুদ্ধে মন্তব্য করে উচ্চতর আদালতকেই চ্যালেঞ্জ করছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিতে হামলা
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী বলার পরে ডালখোলা, হাওড়ার শিবপুরে এবং হুগলির রিষড়ায় রামনবমীর মিছিলে হামলা হয়েছিল। তিনি বলেন আক্রমণ কোনও সম্প্রদায়ের লোক করেনি, আক্রমণ করেছিল তৃণমূলের নেতারা। তিনি জানিয়েছেন, ডালখোলায় ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছে, শিবপুরে তৃণমূলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট-সহ ১১ জন গ্রেফতার হয়েছে আর রিষড়ায় দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, তিনি হাইকোর্টে এনআইএ-র জন্য আবেদন করেছিলেন। অনেক শুনানির পরে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এনআইএ-র নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, সর্বোচ্চ আদালত সেই নির্দেশ বহাল রাখে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, এদিন মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়ায় যা বলেছেন, তাতে পরিষ্কার রামনবমীতে অশান্তি তৈরি করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করছেন, কেউ গতবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফাঁদে পা না দেন।
পা ধরেছিলেন চারজন
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ২০২০-র পয়লা ডিসেম্বর শ্যামবাজারের এক বাড়িতে ভাইপো, প্রশান্ত কিশোর, সৌগত রায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পা ধরেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন তৃণমূলের হিরে। তাঁরা বলেছিলেন তৃণমূল ছাড়বেন না, সর্বনাশ হয়ে যাবে।
মমতার গ্রেফতারি দাবি
বিরোধী দলনেতা কটাক্ষ করে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত, উত্তেজিত, বিভ্রান্ত। তিনি বলেছেন, এনআইএ তাদের দক্ষতা বারে বারে প্রমাণ করেছে। তাদের আধিকারিকরা যেভাবে শনিবার আক্রান্ত হয়েছে, তাতে রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণ করেছেন। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এনআইএ নিয়ে মন্তব্যের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির দাবি করেন।
মুখ্যমন্ত্রী চান শীতলখুচির মতো ঘটনা
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, চুরি-দুর্নীতি-বেকারত্বের সঙ্গে নারী নির্যাতনের ঘটনায় তিনি বুঝেছেন, ৫০০. ১০০০, ১২০০ টাকা দিয়ে লাব নেই। ১৯ এপ্রিল থেকে ১ জুনের মধ্যে বাংলার মাতৃমণ্ডলী এর জবাব দেবেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের মন্তব্য করে গুণ্ডাদের উৎসাহিত করছেন, যাতে গত বিধানসভা নির্বাচনে শীতলকুচির মতো ঘটনা ঘটে।












Click it and Unblock the Notifications