Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Chinese Kali Temple: ফল নয়, বরং চাউমিন-মোমোর নিবেদনেই আশীর্বাদ বর্ষাবেন কলকাতার এই কালী মা!

Chinese Kali Temple: আমাদের দেশ বিভিন্ন ধর্ম এবং সংস্কৃতির সঙ্গমের জন্য পরিচিত, যা এটিকে অনন্য করে তোলে। ভারতে বেশ কিছু বিখ্যাত কালী মন্দির আছে, তার মধ্যে কালীঘাট কালী মন্দির (কলকাতা), ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি (উত্তর কলকাতা), এবং হংসেশ্বরী কালী মন্দির (হুগলি) উল্লেখযোগ্য।

দশমমহাবিদ্যার প্রথম দেবী, খড়গহস্ত, নরমুণ্ডধারী উগ্ররূপী তিনি। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, ডাকাতদের একমাত্র দেবী হিসাবে পূজিত হয়ে আসছেন তিনি। তবে কোনও জায়গায় কি শুনেছেন, দেব-দেবীকে প্রসাদ হিসাবে দেওয়া হচ্ছে চাউমিন?

Chinese Kali Temple

তবে খাস কলকাতাতেই (Kolkata) রয়েছে এমন একটি কালীবাড়ি, যার পরতে পরতে লুকিয়ে ইতিহাস ও অলৌকিক গল্প। সাধারণত আমরা দেখি বেশিরভাগ মন্দিরে প্রসাদ হিসেবে লাড্ডু বা মিষ্টি দেওয়া হয়, কিন্তু কলকাতার এই মন্দিরে প্রসাদ দেওয়া হয় চাউমিন, স্টিকি রাইস এবং মোমো (Prasad noodles, sticky rice and momos are served at this Kali temple)।

এই মন্দিরটি কেবল তার ধর্মীয় তাৎপর্য এবং অত্যাশ্চর্য স্থাপত্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এর স্বতন্ত্র ঐতিহ্যের কারণেও মনোযোগ আকর্ষণ করে। আজকের প্রতিবেদনে রইল কলকাতার এই বিখ্যাত কালীবাড়ির যাবতীয় তথ্য-


চাইনিজ কালী মন্দিরের পেছনে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস (History of the Chinese Kali Temple)-

বহু বছর আগে, সময়টা ১৮০০ দশক। একটি ছোট ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং ডাক্তাররা তার আরোগ্যের সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলে। হতাশ হয়ে, তার বাবা-মা তাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যান যেখানে একটি গাছের নীচে দুটি কালো পাথর পড়ে ছিল। স্থানীয়রা তাকে মা কালী নামে পুজো করতেন।

কয়েকদিনের প্রার্থনার পর, ছেলেটি অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। এই ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে, তার বাবা-মা মা কালীর পুজো শুরু করেন এবং সময়ের সাথে সাথে, বাঙালি এবং চীনা সম্প্রদায় একসাথে এই পবিত্র স্থানে চাইনিজ কালী মন্দির তৈরি করে। যদিও বেশিরভাগ চৈনিক বাসিন্দাই বৌদ্ধ বা খ্রিষ্ঠান। তবুও তারা কালী ঠাকুরকে খুবই মান্যতা দেন।

চাউমিন কীভাবে প্রসাদে পরিণত হয়েছিল?

আনুমানিক ৬০ বছর আগে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। চীনা খাবারের একটি প্রধান উপাদান চাউমিন (noodles), যা এই অলৌকিক মন্দিরের নৈবেদ্যের অংশ হয়ে ওঠে। চীনা গৃহযুদ্ধের সময়, অনেক চীনা শরণার্থী কলকাতায় চলে আসেন এবং তাদের ঐতিহ্য নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ খাবার উৎসর্গ করার রীতিও ছিল। সময়ের সাথে সাথে, তারা মা কালীকে চাউমিন উৎসর্গ করতে শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে স্থায়ী ভোগ বা প্রসাদ হয়ে ওঠে। তাই আজ ভক্তরা চাউমিন, মোমো এবং অন্যান্য চীনা খাবার প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করেন, কারণ এগুলি মা কালীর ঐশ্বরিক আশীর্বাদ।

আপনি যদি কখনও কলকাতায় আসেন, তাহলে এই অনন্য মন্দিরটি উপভোগ করার সুযোগটি মিস করবেন না। এখানে বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি সুন্দরভাবে মিলে মিশে রয়েছে। প্রসাদ হিসাবে চীনা খাবার উৎসর্গ করার ঐতিহ্য চীনা এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের গভীর সাংস্কৃতিক মিশ্রণের প্রতীক। এখানে ভক্তরা প্রসাদের সঙ্গে গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতাও লাভ করেন। এছাড়া অশুভ আত্মা দূর করতে হাতের তৈরি কাগজ পোড়ানো হয়। পুজোর সময় এই মন্দিরে এক বিশেষ ধূপকাঠি জ্বালানো হয়। যা চীনা ধূপকাঠি নামে পরিচিত।

এই অলৌকিক মন্দিরটি ট্যাংরার (Tangra) মঠেশ্বরতলা রোডে অবস্থিত। এখানে পৌঁছানোর জন্য রবীন্দ্র সদন স্টেশনে মেট্রো ধরুন এবং সায়েন্স সিটি বা তোপসিয়ার দিকে যাওয়ার জন্য একটি বাসে উঠুন। তাহলেই পৌঁছে যাবেন। এই মন্দিরটি সপ্তাহের সাত দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে। তাই কলকাতা আসলে এই জায়গা কোনওভাবেই মিস করবেন না।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+