Tiljala Child Murder Case: সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, তিলজলা-কাণ্ডে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত
Tiljala Child Murder Case: বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা! সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ফাঁসির সাজা ঘোষণা করল আলিপুর পকসো আদলত। বুধবারই ঘটনায় ধৃত যুবক অলোককুমার সাউকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। অপহরণ, ধর্ষণ, অস্বাভাবিক যৌন নির্যাতন, সাক্ষ্য‑প্রমাণ লোপাট ও পকসো আইনে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। আজ বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্তের ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন ফাঁসির সাজা শোনানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন পকসো আদালতের বিচারক। তিনি বলেন, এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম। শুধু তাই নয়, আমানবিক নিষ্ঠুর হত্যা কাণ্ড। নিজেকে বাঁচানোর ক্ষমতা ছিল না শিশুটির। মন্তব্য করেন বিচারক ।

এই রায় সামনে আসার পরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই শিশুর পরিবার। বলেন, দীর্ঘ শুনানি হয়েছে। অবশেষে বিচার হল। এজন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানায় পরিবার। বলে রাখা প্রয়োজন, তিলজলা থানা এলাকায় গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে একেবারে উত্তাল হয়ে উঠেছিল এলাকা।
জানা যায়, তিলজলা এলাকায়, সাত বছরের একটি শিশু কর্পোরেশনের গাড়িতে আবর্জনা ফেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। কোনও ভাবেই তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলা হয় পুলিশের গাড়িতেও।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা এবং তিলজলা থানার পুলিশ মিলে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সামনে আসে। তাতে দেখা যায়, শিশুটি বাড়ির নীচে নামছে। সেখান থেকে কোথায় গেল শিশুটি, প্রশ্ন ওঠে। এলাকার প্রত্যেকটি বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। তাতে এক প্রতিবেশীর ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার রাখার জায়গা থেকে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয় শিশুটির। হাত-পা বাঁধে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল শিশুটিকে।
তদন্তে উঠে আসে, আবর্জনা ফেলে উঠে আসার সময় প্রতিবেশী ব্যক্তি শিশুটিকে হাত ধরে টেনে ঘরে ঢুকিয়ে নেন। এর পর হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় তাকে। মারধরও করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে এর পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় শিশুটিকে। অভিযুক্ত ওই প্রতিবেশী পেশায় ডেলিভারি ম্যান বলে জানা যায়। ওই প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ, যৌন নিগ্রহ, ধর্ষণের মতো মামলা দায়ের হয়।
আলিপুরের POCSO আদালতে মামলাটি চলছিল এতদিন। শেষ পর্যন্ত বুধবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হল। বিচারক এদিন সাফ জানান, যে ঘটনা ঘটিয়েছেন অপরাধী, তা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। প্রতিবেশী শিশুটিকে নৃশংস ভাবে খুন করেছেন। শিশুটি খেলে বেড়াচ্ছিল। অপরাধীর শক্তির সঙ্গে পেরে ওঠা বা নিজেকে বাঁচানোর ক্ষমতা ছিল না তার।












Click it and Unblock the Notifications