রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও মনোমালিন্য হয়নি কখনও! অসুস্থ বুদ্ধদেবের দ্রুত আরোগ্য কামনা অধীরের
শনিবার তিনি রয়েছেন মণিপুর সফরে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পারেন, সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর অসুস্থতার খবরে অনেক কথায় মনে পড়ছে তাঁর। নাই নাই করে অনেক বছর তাঁকে চেনেন।
কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় দেখা, কথা হয়েছে কিন্তু প্রতিবারই সৌজন্যের খামতি ছিল না। কোনদিন ঔদ্ধত্য দেখেননি তাঁর মধ্যে। অধীর চৌধুরী বলেছেন, নবগ্রাম থেকে প্রথমবার নির্বাচনে জিতে বিধানসভা যান। তখন তিনি অনেক ছোট। সেখানেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে প্রথম আলাপ। তারপর সারাজীবন রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়নি কখনও।

অধীর চৌধুরী বলেছেন, তিনি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বহরমপুরের সাংসদ হন। বাম জামানাতেও মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত ছিল। অনেক চেষ্টা করেও বহরমপুর নিজেদের দখলে নিতে না পেরে একের পর এক কংগ্রেস কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। তখন বুদ্ধবাবু মুখ্যমন্ত্রী। আবার পুলিশমন্ত্রীও।
বামেদের এহেন চাপেও কংগ্রেস কর্মীরা দলত্যাগ করে সিপিএমে যোগদান করেননি। তখন কিন্তু এখনকারের মতো রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল না। দলীয় মতাদর্শ আলাদা হলেও ব্যক্তিগত কুৎসা কখনও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে করতে শোনেননি অধীর চৌধুরী।
তিনি বলেন, রাজনীতির স্বার্থে অনেক কথা বলতে হয়। উনিও বলেছেন। কিন্তু তাতে ব্যক্তিগত সম্পর্কে কখনও তার প্রভাব পড়েনি। তাঁর আমলে কংগ্রেসের গড় ভাঙার চেষ্টা করে সিপিএম নেতৃত্ব। বহরমপুরে জোড়া খুন মামলা সহ একাধিক মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়। দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
তখন কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও সেটা ধরে বসে থাকেননি। বা প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠেননি (অধীর)। এই ঘটনা নিয়ে কারও মধ্যেই কোনওদিন মনোমালিন্য ছিল না বলে জানিয়েছে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

অধীর চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, বাম জমানার শেষের দিকেও চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে দেখিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। তবে বাম জমানার অবসানের পর ২০১৬-তে বাম-কংগ্রেসের জোট হয়। সেই ভোটের প্রচারে এসেছিলেন রাহুল গান্ধী, ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও।
সেই সময় শরীরটা এতটা ভাঙেনি, তবে অসুস্থ ছিলেন। দলের স্বার্থে মঞ্চে এসেছিলেন তিনি। আদ্যপান্ত দলের মানুষ। সারাজীবন দলের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। এখন যখন রাজনীতিবিদদের মধ্যে আদর্শ খুব কম দেখা যায়, স্বার্থ চরিতার্থ করতে দলবদল এখন খুব সহজ কাজ। নিজের নীতি আদর্শ থেকে অবিচলিত মানুষটার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications