দুবাই উড়ান প্রদর্শনীর মাঝ আকাশে কেন ভেঙে পড়ল তেজস? আসল কারণ কী? জানুন
দুবাই উড়ান প্রদর্শনীর আকাশে শুক্রবার দুপুরটা আরও চমকপ্রদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত হঠাৎই স্থানীয় সময় বিকেল ২ টা ১০ মিনিট নাগাদ ভারতীয় বায়ুসেনার গর্ব যুদ্ধবিমান তেজস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচে আঁছড়ে পড়ে।এই বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে একটাই প্রশ্ন তেজস ভাঙল কেন? শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল?
এখন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, তেজস সম্ভবত একটি ব্যারেল রোল নামের কৌশল প্রয়োগ করছিল। এই কৌশলে বিমানটি একবার পুরো অক্ষে ঘুরে যায়, উল্টো হয়ে আবার সোজা হয়। অভিজ্ঞ পাইলটদের কাছে এটি কঠিন নয়, তবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের দরকার হয়, কারণ কিছু সময়ের জন্য বিমানটি সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে থাকে।

এদিন প্রদর্শনীতে তেজস প্রথমে উপরে উঠছিল, তারপর উল্টো হয়ে পুনরায় নীচের দিকে নামছিল। নির্দিষ্ট উচ্চতায় এসে আবার উপরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু আর ওঠা হয়নি।
কোথায় ভুল গণনা? কম ছিল গতি? নাকি খুব নীচে নেমে গিয়েছিল বিমান? বিশেষজ্ঞদের ধারণা তেজস তখন মাটি থেকে অতিরিক্ত কম উচ্চতায় চলে এসেছিল।
ওই অবস্থান থেকে পুনরায় ওঠার মতো পর্যাপ্ত গতি তার ছিল না।
ফলে জটিলতা সামাল দেওয়ার সময়ই মাটি স্পর্শ করে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।
যদিও ব্যারেল রোল খুব জটিল কৌশল নয়, কিন্তু যুদ্ধবিমানের উচ্চ গতিতে সামান্য ভুল অনুমানও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এটাই আবারও প্রমাণিত হল।
ইঞ্জিনের সমস্যাও কি কারণ?
বায়ুসেনা এখনও সরকারিভাবে দুর্ঘটনার কারণ ঘোষণা করেনি।
কিছু বিশেষজ্ঞের মত শেষ মুহূর্তে ইঞ্জিন ফ্লেম আউটও হতে পারে এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে।
এইচএএল এর তৈরি তেজস ভারতের প্রথম স্বদেশি যুদ্ধবিমান, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিষেবায় রয়েছে। ইঞ্জিনটি অবশ্য মার্কিন সংস্থা জিই এর। এত দিন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবেই পরিচিত ছিল বিমানটি।
বর্তমানে মিগ ২১ প্রত্যাহারের পর বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন ঘাটতি পূরণে বড় ভরসা তেজসই। তাই এই দুর্ঘটনা কৌশলগত দিক থেকেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications