Pope Francis Death: প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস, কীভাবে বাছা হবে উত্তরসূরি? শতাব্দী প্রাচীন নিয়ম জানলে অবাক হবেন
Pope Francis Death: দীর্ঘ ২ বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগে সোমবার প্রয়াত হলেন পোপ ফ্রান্সিস। কাসা সান্টা মার্টায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পোপ ফ্রান্সিস সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রোমান ক্যাথলিক চার্চে গত ১২ বছর ধরে পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু পোপের মৃত্যুর পর কীভাবে হয় শেষকৃত্য? এরপর চার্চের উত্তরসূরিই বা কে হবেন?
ব্রঙ্কাইটিসের জেরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমের জেমিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ৩৮ দিন হাসপাতালে লড়াই শেষে অবশেষে সোমবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। পোপের শেষকৃত্য ও পরবর্তী পোপ নির্বাচনে চিরাচরিত রীতি মেনেই হবে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণত মৃত্যুর চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে কলেজ অফ কার্ডিনালসের ডিনের নেতৃত্বে দেহ সমাহিত করার প্রক্রিয়া চলে।

নিয়ম অনুযায়ী, পোপের মৃত্যুর পর প্রথম তাঁকে দেখতে যান ফারেল। তাঁকে নাম ধরে ডেকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। তাঁর স্বাক্ষরিত আংটিটি নষ্ট করে দেওয়া হয়। আংটি ধ্বংস করে দেওয়ার অর্থ রাজত্বের সমাপ্তি। পোপের বাসস্থান সিল করে দেওয়া হয় ও এরপর ভ্যাটিকান গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বিশ্ববাসীকে জানানো হয় মৃত্যুর খবর। শতাব্দী প্রাচীন রীতি মনে হয় পরবর্তী পোপ নির্বাচন। কঠোর নিয়মকানুন ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তা করা হয়।
গোটা বিশ্বেই চার্চের সর্বোচ্চ বরিষ্ঠ আধিকারিক মানা হয় কলেজ অফ কার্ডিনালসদের। পোপের মৃত্যু বা ইস্তফার পর ভ্যাটিকানে সমস্ত কার্ডিনালদের ডেকে পাঠানো হয়। এরপরই হয় কাগুজে নির্বাচন বা কনক্লেভ। পোপের মৃত্যুর ১৫ থেকে ২০ দিন পর কনক্লেভ শুরু হয়। ওই সময়ের মধ্যে শোক পালন করা হয় ও কার্ডিনালরা রোমে এসে পৌঁছিন। মার্কিন কনফারেন্স অফ ক্যাথোলিক বিশপসের নিয়ম অনুযায়ী, এরপর কাগুজে নির্বাচনের জন্য ভ্যাটিকানে ঐতিহাসিক সিস্টিন চ্যাপেলে আনা হয় কার্ডিনালসদের।
চূড়ান্ত গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে হয় নির্বাচন। ভোট প্রক্রিয়ার সময় বহির্বিশ্বের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ রাখতে পারেন না। মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি ছাড়া মোবাইল, রেডিও, টিভি, সংবাদপত্র কিছুই ব্যবহার করতে পারবেন না তারা। কার্ডিনালদের পাশাপাশি হাউসকিপিং ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাও সম্পূর্ণ গোপনীয়তা অবলম্বন করার জন্য শপথ নেন। এরপর গোপন ব্যালটে হয় নির্বাচনে। পছন্দের প্রার্থীর নাম লেখেন কার্ডিনালরা।
এরপর গণনা করা হয়। মোট ভোটের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট যিনি পাবেন, তাঁকেই নির্বাচন করা হয়। তবে কোনও প্রার্থীই যদি দুই তৃতীয়াংশ ভোট না পান, সেক্ষেত্রে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। তা থেকেই বাইরের সকলকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এখনও চলবে। ফাইনাল রাউন্ড শেষে কেমিক্যাল দিয়ে ব্যালট পোড়ানো হয়। যার জেরে চিমনি দিয়ে বের হয় সাদা ধোঁয়া। এর অর্থ, পরবর্তী পোপ নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর বরিষ্ঠতম কার্ডিনাল ব্যালকনিতে এসে জানান পোপের নাম।












Click it and Unblock the Notifications