Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ফিরে দেখা ২০২০, 'নমস্তে ট্রাম্প' থেকে মার্কিন নির্বাচনে হার! কেমন কাটল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বছরটা?

ফিরে দেখা ২০২০, 'নমস্তে ট্রাম্প' থেকে মার্কিন নির্বাচনে হার! কেমন কাটল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বছরটা?

চলতি বছরে অনুষ্ঠিত হওয়া মার্কিন নির্বাচনে হেরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া মার্কিন নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন জর্জ বুশ সিনিয়র। এর ২৮ বছর ফের কোনও 'সিটিং প্রেসিডেন্ট' নির্বাচন হারলেন। তবে এই নির্বাচনের প্রচারে কোনও কসুর ছাড়েননি ট্রাম্প। এমনকী জো বাইডেনের কাছে বিশাল ব্যবধানে হারলেও ট্রাম্প এই নির্বাচনে ভেঙেছেন প্রাপ্ত ভোটের রেকর্ড। মার্কিন ইতিহাসে রিপাবলিকান পদপ্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই নির্বাচনের প্রচার যেন ট্রাম্প শুরু করেছিলেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তাও আবার ভারতে মোদীকে পাশে নিয়ে।

নমস্তে ট্রাম্প

নমস্তে ট্রাম্প

দু'দিনের সফরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতে আসেন সস্ত্রীক ডোনাল্ড ট্রাম্প। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ইভাঙ্কা ও জামাই জ্যারেড কুশনার। মোতেরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে 'নমস্তে ট্রাম্প'-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি। হিউস্টনের 'হাউডি মোদী'-র অনুকরণেই ট্রাম্পকে স্বাগত করা হয় ভারতে। তবে সেই অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ভাষণ হয়ে দাঁড়ায় হাসির খোরাক। বিবেকানন্দর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তাঁকে বিবেকামনম বলে সম্মোধন করেন তিনি। চা-ওয়ালা শব্দকে চি-ওয়ালা বা বেদের প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে ইংরেজিতে ভেদাসকে ভেসতাস বলে ফেললেন ট্রাম্প। এছাড়াও সচিন তেন্ডুকরকে সুচিন তেন্ডুলকর। শোলে সিনেমাকে শোজে বলেন তিনি । এই নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।

ভারত-পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রস্তাব

ভারত-পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রস্তাব

এদিকে ভারত-পাকিস্তান মধ্যস্থতা করতে চেয়েও কম বিতর্ক তৈরি করেননি ট্রাম্প। নানা ইশুতে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ অব্যাহত৷ কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর সেই সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে৷ সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলে পাকিস্তান৷ এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক৷ ভারত সফর শেষ করার আগে ট্রাম্প দাবি করেন, মোদী-ইমরান খান দু'জনের সঙ্গেই সম্পর্ক খুব ভালো। বিশেষজ্ঞদের মত, মার্কিন-তালিবান শান্তি চুক্তির কথা মাথায় রেখেই এইভাবে সুর নরম করেন ট্রাম্প।

আমেরিকা-তালিবানের শান্তিচুক্তি

আমেরিকা-তালিবানের শান্তিচুক্তি

এদিকে এরই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, ক্ষমতার লোভেই কি আমেরিকা এবং তালিবানের মধ্যকার এই শান্তিচুক্তিতে সম্মত হন ট্রাম্প? এই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা সরাতে সায় দেয় আমেরিকা। তার উপর এই চুক্তি আফগানিস্তান সরকার এবং তালিবানের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরি করে। ২০০১ সালে শুরু হওয়া অপারেশন এনডিওরিং ফ্রিডম শেষ হয় ২০১৪ সালে। কিন্তু, তালিবানের সঙ্গে সংঘাত চলতেই থাকে।

শান্তিচুক্তি করতে কেন মরিয়া হয়েছিলেন ট্রাম্প?

শান্তিচুক্তি করতে কেন মরিয়া হয়েছিলেন ট্রাম্প?

যেই সময় এই চুক্তি স্বক্ষরিত হয় তখন, মার্কিন নির্বাচনের আর মাত্র নয় মাস বাকি ছিল। সেরকমই একটা সময়ে ট্রাম্প তাঁর বিশ্বস্ত বন্ধু রাষ্ট্রদের ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজের স্বার্থরক্ষায় মগ্ন হয়। ট্রাম্পের মধ্যেকার ব্যবসায়ী সত্তা এখন লাভ ও ক্ষতির হিসেব কষেন এই শান্তিচুক্তির মাধ্যমে। এই শান্তি সমঝোতার প্রতিটা শব্দে ফুটে ওঠে, আফগানিস্তান থেকে যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসতে আমেরিকার মরিয়া চেষ্টা। এবং এটি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল। তাই নির্বাচনের আগে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই শান্তিচুক্তি করতে এত মরিয়া হয়ে উঠেছিল ট্রাম্পের প্রশাসন।

১৮ মাসের দর কষাকষি এবং নাটকীয় পটপরিবর্তন

১৮ মাসের দর কষাকষি এবং নাটকীয় পটপরিবর্তন

এই চুক্তির ফলে আফগানিস্তানে ভারতের বিনিয়োগ, তার শক্তি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছে। এর পাশাপাশি থাকছে নিরাপত্তায় খামতির সম্ভাবনাও। ভারত সবসময়ই আফগানিস্তান সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে থেকেছে। তালিবানের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ তালিবান ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তান সরকারের ঘনিষ্ঠতাকে খুব একটা সুনজরে দেখে না। ১৮ মাসের দর কষাকষি আর নাটকীয় পটপরিবর্তনের পরও অ্যামেরিকা বা তার সহযোগীদের তাৎপর্যপূর্ণ কোনও লাভই হয়নি এই চুক্তির মাধ্যমে। তবে এই চুক্তির ফলে রাজনৈতিক মাইলেজ পাওযার আগেই ট্রাম্পের দেশে জাঁকিয়ে বসে করোনা ভাইরাস। যার জেরে চাপের মুখে পড়েন ট্রাম্প।

মার্কিন মুলুকে করোনার প্রভাব

মার্কিন মুলুকে করোনার প্রভাব

এবং আমেরিকায় যত করোনা সংক্রমণ বেড়েছে, ততই চিনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণ বাড়তে থাকে। এমনকী করোনা ভাইরাসকে 'চিনা ভাইরাস' নামে আখ্যা দেন ট্রাম্প। করোনা ভাইরাসকে 'চাইনিজ ভাইরাস' বলে টুইট করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট৷ ট্রাম্পের এই মন্তব্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল বেজিংয়ে৷ কিন্তু, তাতেও থামেননি ট্রাম্প। বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ প্যানডেমিক রূপ নেয়। তবে এই করোনার জেরে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমেরিকা। শুধু যে সব থেকে বেশি করোনা আক্রান্ত সেই দেশে, তা নয়। করোনার জেরে আমেরিকার অর্থনীতিতে ধস নামে। বেকারত্বের ঝড় আছড়ে পড়ে মার্কিন মুলুকে।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় অভিবাসন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জেরে মার্কিন মুলুকে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা বিপাকে পড়েন। এরই ক'দিন পর ভারত-চিন সংঘাত বাঁধে লাদাখে। সেই সংঘাতের সময় ভারতকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি দক্ষিণ চিন সাগরে তাইওয়ানকে সমর্থন জানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্পের নামের সঙ্গে বিতর্ক জড়াবে না, তা তো হয় না। এই পরিস্থিতিতেও সেটাই হয়। ভারত ও চিবের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন তিনি। ট্রাম্প জানান, ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা নিয়ে ভালো মুডে নেই নরেন্দ্র মোদী। তাই তিনি এই বিষয়ে অ্যামেরিকাকে মধ্যস্থতা করতে দেওয়া হোক। যদিও ট্রাম্পের এই প্রস্তাব উড়িয়ে দেয় দুই দেশই।

জি৭ বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান

জি৭ বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান

এরই মধ্যে চিনকে একঘরে করতে জি৭ সম্মেলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলিকে নিয়ে এই সম্মেলন স্থগিত রাখার ঘোষণা করেন তিনি৷ কারণ এতে ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে আমন্ত্রিত দেশগুলির তালিকা সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব পেশ করেন ট্রাম্প৷

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা

এরপরই মার্কিন মুলুক উত্তাল হয় জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকে ঘিরে। প্রতিবাদী হুঙ্কারে ভয় পেয়ে বাঙ্কারে লুকিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে রাখা হয়েছিল বেশ কিছুক্ষণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহর ও রাজ্য আধিকারিকরা হাজার হাজার সেনা মোতায়নে করেন। জারি করা হয় কার্ফু। বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে বন্ধ করে দেওয়া গণ-পরিবহন ব্যবস্থাও।

জর্জ হত্যায় উত্তাল হয় আমেরিকা

জর্জ হত্যায় উত্তাল হয় আমেরিকা

প্রসঙ্গত, ২৫ মে আমেরিকার মিনিয়াপলিসে পুলিশি হেপাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু হয়৷ সেই ভিডিও রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়৷ ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের নৃশংসতা ভরা ভিডিওটিতে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ের উপর হাঁটু দিয়ে চেপে রয়েছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মী। আর শ্বাস নেওয়ার জন্য কাতড়াচ্ছেন জর্জ। মৃত্যু হয় তাঁর। এরপরই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মার্কিন নাগরিকরা। প্রতিবাদ চলে হোয়াইট হাউজের সামনেও। এই প্রতিবাদ মেটাতে মেটাতেই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বহু প্রতিক্ষিত নির্বাচন

বহু প্রতিক্ষিত নির্বাচন

এরপরই আসে বহু প্রতিক্ষিত নির্বাচন। যাতে ট্রাম্প হেরে যান বাইডেনের কাছে। তবে তা সত্ত্বেও হার মেনে নিতে চাননি ট্রাম্প। তা নিয়ে এখনও বিস্তর বিতর্ক হচ্ছে মার্কিন মুলুকে। নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই ২০০ ইলেক্টোরাল কলেজের গণ্ডি অতিক্রম করেছিলেন। জমে উঠেছিল লড়াই। শেষ পর্যন্ত পেনসিলভানিয়ার রাজ্যের ভোটে জিতে ২৭০-এর গণ্ডি অতিক্রম করে জো বাইডেনের দল। ট্রাম্পের থেকে চার মিলিয়ন বেশি ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্টের মুকুট নিজের নামে করে নেন জো বাইডেন। এই সত্যতা মেনে নিক ট্রাম্প, চাইছেন কাছের মানুষরা। তবে ট্রাম্প আকারে ইঙ্গিতে এখনও বোঝাতে চাইছেন যে এই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বিস্তর। 'রাজনৈতিক' ট্রাম্প নির্বাচনে হারলেও তাঁর সাফল্যও রয়েছে। আর তা হল সমর্থকদের অপ্রতিরোধ্য ভাবে ভোটদান। যা আসলে ভূমধ্যসাগরীয় আদর্শের সঙ্গে তাঁর সংযোগের একটি পরিণতি।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+