খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘ লন্ডন নির্বাসনে তিনি কী করেছিলেন? জানুন
প্রায় সতেরো বছরের দীর্ঘ নির্বাসনের পর অবশেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ঢাকায় তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলীয় শিবিরে উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। বিএনপি নেতৃত্বের দাবি, এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তির দেশে ফেরা নয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাঁকবদলের সূচনাও হতে পারে।
২০০৮ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কারামুক্তির পর দেশ ছেড়ে লন্ডনে আশ্রয় নেন তারেক রহমান। সেখানেই পরিবারসহ বসবাস করলেও, দূর থেকেই তিনি দলের নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গিয়েছেন। সংগঠনকে একসূত্রে বেঁধে রাখা, কৌশল নির্ধারণ, নেতৃত্বের ভার সামলানো সবই চলেছে লন্ডন থেকেই। ২০০৯ সালের পর থেকে বিএনপির শীর্ষ পদে তাঁর উপস্থিতি আরও দৃঢ় হয়, পরে মায়ের কারাবাসের সময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।

নির্বাসন পর্বে তাঁর আরেকটি পরিচিত অধ্যায় তৈরি হয় ২০১৫ সালে। সে বছর তিনি লন্ডনে 'হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড' নামে একটি বেসরকারি জনসংযোগ ও যোগাযোগ সংস্থা গড়ে তোলেন। ব্রিটেনের কোম্পানিজ হাউসে দাখিল করা নথিতে প্রথমে তাঁর নাগরিকত্ব ব্রিটিশ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও, ২০১৬ সালে তা সংশোধন করে বাংলাদেশি নাগরিকত্বের তথ্য যুক্ত করা হয়।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারেক রহমান ঘোষণা করেন, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আইনি মামলাগুলি প্রত্যাহার হলে তিনি দেশে ফিরবেন। পাশাপাশি, অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচিতেও সমর্থনের কথা জানান তিনি।
তাঁর দেশে ফেরা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ছাত্র আন্দোলনের অভিঘাতে গত বছর রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতার দৌড়ে বিএনপি নিজেকে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলকে নতুন গতি দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিএনপি সূত্রে খবর, বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর পথে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলীয় কর্মকর্তাদের দাবি, পথে পথে প্রায় ৫০ লক্ষ সমর্থকের জমায়েত হতে পারে, যা নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনের বার্তা দিতেই পরিকল্পিত।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায়, দলের অন্দরে অনেকেই তারেক রহমানকেই ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারের নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে, ক্ষমতায় এলে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব সহ সব ক্ষেত্রেই তাঁর দিকে তাকিয়ে বিএনপি।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বড় পরীক্ষার মুখে। দীর্ঘদিনের মেরুকরণ ও অস্থিরতার পর শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কতটা সম্ভব, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। বিএনপির আশা, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি ভোটারদের উদ্দীপিত করবে, দলীয় ঐক্য মজবুত করবে এবং আওয়ামী লীগ পরবর্তী যুগে নিজেদের একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।
-
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
মমতা বনাম শুভেন্দু লড়াইয়ে যোগ শাহের, ভবানীপুরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর -
ভোটের ময়দানে প্রস্তুত বিজেপি! আরও ১৩টি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা পদ্ম-শিবিরের, কোথায় কে? জেনে নিন -
ভোটের আগে ফর্ম ৬ বিতর্কে উত্তপ্ত রাজ্য,অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে দুই শিবির -
বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটের আগে বিতর্ক, তৃণমূল প্রার্থীর শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টে বিজেপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ -
ভোটের আগে বড় চমক, বিজেপিতে যোগ দিলেন লিয়েন্ডার পেজ -
সকালেই বিজ্ঞপ্তি, রাতের মধ্যেই মনোনয়ন জমা, রাজ্যে ভোটের আবহে তৎপর প্রার্থীরা -
ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরে বড় চমক! তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন লিয়েন্ডার পেজ, জল্পনা তুঙ্গে -
বাংলায় বিজেপি নাকি তৃণমূল, কারা গড়বে সরকার? কী বলছে সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা









Click it and Unblock the Notifications