২৯৯ আসনে ফলের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, কঠোর নিরাপত্তায় শেষ হল নির্বাচন
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই শুরু হয়েছে গণনা পর্ব। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের মোট ৪২,৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগণনা চলছে জোরকদমে। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট বাতিল করা হয়েছে, বাকি ২৯৯ আসনে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টো পর্যন্ত ৪২,৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২,৭৮৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে প্রায় ৪৭.৯১ শতাংশ। সকাল ৬টা থেকেই বহু কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। রাজধানী ঢাকায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমান সহ শীর্ষ নেতারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোট চলাকালীন কিছু বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর মিলেছে। গোপালগঞ্জে হাতবোমা বিস্ফোরণে ১৩ বছরের এক কিশোরী ও দুই আনসার সদস্য সহ তিনজন আহত হন। মুন্সিগঞ্জে কাঁচা বোমা বিস্ফোরণে একটি কেন্দ্র ১৫ মিনিটের জন্য ব্যাহত হয়। খুলনায় সংঘর্ষে প্রাণ হারান বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কোচি। এছাড়া জয়পুরহাট ও সিলেটে ব্যালট কারচুপির অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোথাও ভোট স্থগিতের প্রয়োজন পড়েনি।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১০ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডাক ভোটের ব্যবস্থা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ৮ লক্ষ প্রবাসী ভোটার এই আইটি-ভিত্তিক ডাক ভোটে অংশ নেন।
মোট ১২ কোটি ৭০ লক্ষের বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৪৫.৭ লক্ষ নতুন ভোটার। নির্বাচনে অংশ নেয় ৫০ থেকে ৫৯টি রাজনৈতিক দলের ১,৭৫৫ থেকে ১,৯৮১ জন প্রার্থী। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিএনপি সর্বাধিক ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেয়। দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছিল প্রচারের মূল ইস্যু।
ভোটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় 'ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫' এর ৮৪ দফা প্রস্তাবের উপর গণভোট, যা অন্তর্বর্তী সরকার প্রণয়ন করেছে। এই গণভোট দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দিনটিকে আখ্যা দেন "নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন" হিসেবে। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি বড় পরিবর্তনের সূচনা বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মানুষ যেন উৎসবের আমেজে নিজেদের পছন্দের সরকার বেছে নেন।
৪৫টি দেশের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গোটা প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এখন সবার নজর গণনার ফলাফলের দিকে। চূড়ান্ত ফলাফলই ঠিক করে দেবে ক্ষমতার রদবদল ও বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা।












Click it and Unblock the Notifications