Waqf Amendment Bill: ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৪ কী? কেনই বা বিতর্ক রয়েছে এই বিলকে ঘিরে? জানুন বিস্তারিত
বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৪ আজ সংসদে পেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিল ঘিরে কংগ্রেস এবং বিজেপি তাদের সাংসদদের আগামী তিন দিনের জন্য সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। উভয় পক্ষই বিলটির বিষয়ে একমত না হওয়ায় রাজ্যসভা এবং লোকসভায় যে আজ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে, তা মনে করছেন অনেকেই।
সংখ্যালঘু ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান যে লোকসভার কার্য উপদেষ্টা কমিটি (বিএসি) আট ঘণ্টার বিতর্কের বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে, কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ অভিযোগ করেছেন যে বিরোধী দলগুলোর কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং সংসদে মণিপুর ও ভোটার আইডি সংক্রান্ত বিতর্ক তোলার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৪, ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে -
- ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি নিবন্ধন: সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি জেলা কালেক্টরের কাছে লিখিত ভাবে জানাতে হবে।
- বোর্ডের ক্ষমতার পরিবর্তন: ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা হ্রাস করে জেলা কালেক্টরের হাতে সেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।
- অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি: ওয়াকফ বোর্ডে দুইজন অমুসলিম সদস্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- বিতর্কিত সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ: সরকার সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তি নয়, বরং সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
- মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি: ওয়াকফ বোর্ডের গঠনে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে।
বিল ঘিরে বিতর্ক
ওয়াকফ বিল নিয়ে বিতর্ক মূলত উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি রিপোর্ট থেকে শুরু হয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, রাজ্যের ৭৮% ওয়াকফ সম্পত্তি আসলে সরকারি মালিকানাধীন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান যে ওয়াকফ বোর্ডের দাবি করা ১.২৭ লক্ষ সম্পত্তির মধ্যে মাত্র ৭,০০০ সম্পত্তির বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (AIMPLB) বিলটিকে 'গণতান্ত্রিক রীতিনীতির লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে, বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা হ্রাস করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (ডিএমকে) বিলটির বিরোধিতা করে একে স্বেচ্ছাচারী আইন হিসেবে অভিহিত করেছে।
সরকার বলছে, বিলটি পাস হলে ওয়াকফ সম্পত্তির একটি ডিজিটাল তালিকা তৈরি হবে যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, ওয়াকফ বোর্ডের তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং মামলার সংখ্যা কমবে। তবে, বিরোধীরা বলছেন, এই পরিবর্তন ওয়াকফ সম্পত্তির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।
স্বাভাবিক ভাবেই আজ বিল ঘিরে উত্তেজনা থাকবে সারাদিনই। কেননা বিলটি পাস হলে ওয়াকফ বোর্ড এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এখন দেখার বিষয়, সংসদে এই বিল নিয়ে আলোচনার ফলাফল ঠিক কোন দিকে গড়ায়।












Click it and Unblock the Notifications