ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দিল? কবে মিলবে বকেয়া? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এক নজরে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল প্রত্যাশিত রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ডিএকে মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃতি না দিলেও, বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রশ্নে কোনও রাখঢাক রাখেনি শীর্ষ আদালত।উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই রাজ্যকে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করতে হবে।

রাজ্যের আবেদন আংশিকভাবে মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রত্যাহার করেছে। তবে তার বদলে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ বেঁধে দিয়েছে আদালত। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ঠিক করবে মোট কত টাকা ডিএ দেওয়া হবে ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে। ৬ মার্চের মধ্যেই কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
শুধু কর্মরত নন, সুখবর রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্যও। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য যাঁরা ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন, তাঁরাও এই ডিএ সুবিধার আওতায় আসবেন।
পরিশোধের সময়সূচিও একেবারে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত।
৬ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি, ৩১ মার্চের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি (কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে) ও ১৫ মে'র মধ্যে কমপ্লিয়েন্স রিপোর্ট জমা, মে মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডিএ মেটানোর অগ্রগতি রিপোর্ট। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, ডিএ কোনও মৌলিক অধিকার নয় ও তা পরিবর্তনশীল। রাজ্যের যুক্তি মেনে আদালত জানিয়েছে, এআইসিপিআই অনুযায়ী ডিএ নির্ধারিত হয়, যা ওয়ান টাইম ব্যবস্থা নয়।
পাশাপাশি সংবিধানের আর্টিকেল ৩০৯ অনুযায়ী রাজ্যেরই ডিএ নির্ধারণের ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। ডিএ বছরে দু'বার দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না? এই প্রশ্নে আদালত জানায়, বছরে দু'বার ডিএ দেওয়ার কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে একই সঙ্গে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কর্মচারীদের ডিএ প্রাপ্যতা আইনসঙ্গত ও অযথা বিলম্ব করা উচিত নয়। রোপা ও এআইসিপিআই মেনেই ডিএ দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের ডিএ মামলার শুনানি চলছিল। এর আগেও অন্তর্বর্তী পর্যায়ে রাজ্যকে ২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার সেই নির্দেশ চূড়ান্ত রূপ পেল সময় বেঁধে, নজরদারি কমিটি গড়ে, কড়া নজরে।
সব মিলিয়ে, ডিএ মৌলিক অধিকার না হলেও বকেয়া মেটানো যে এড়ানো যাবে না, সে বার্তা একেবারে স্পষ্ট করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।












Click it and Unblock the Notifications