ঘোড়া কেনাবেচার রাজনীতির বিরোধী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী
ঘোড়া কেনাবেচার রাজনীতির বিরোধী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী
এখন রাজনীতিতে এদল থেকে ওদল, আবার ওদল থেকে এদল লাফ দেওয়াটাই নিয়ম হয়ে গিয়েছে৷ রাজনীতি এখন অনেকের কাছেই কেরিয়ার চয়েস, দলগুলো কোম্পানি বই কিছুই নয়। ভালো প্যাকেজ, ভালো পদ, কোম্পানি চেঞ্জ৷ কিন্তু রাজনীতির এই ট্র্যাডিশনের একেবারে উল্টোধারার লোক ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী।

ইস্তফা দিয়েছিলেন কিন্তু ঘোড়া কেনাবেচা করেননি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী
১৯৯৮ সাল জয়ললিতার সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার৷ রাজনৈতিক ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে হঠাৎ অটল সরকারের উপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিল জয়ললিতার দল৷ সংসদে আস্থা ভোটে মাত্র একটি ভোটে পরাজিত হলেন অটল বিহারী৷ ইস্তফাও দিলেন৷ পরে অবশ্য আবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাঁচবছরের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছিল অটল সরকার। পরে একটি বক্তব্যে সেদিনের কথা স্মরণ করে অটলবিহারী বলেছিলেন, আমি বা আমার দলের কাছে তখন সুযোগ ছিল অন্যদের সঙ্গে কথা বলার, কিন্তু আমরা নিশ্চিত ছিলাম না অন্যদের দল ভাঙানোর চেষ্টা করব। না ঘোড়া কেনাবেচা করব৷ তাই ইস্তফা দিয়ে মানুষের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম৷ এই চেতনা এখন ভারতীয় রাজনীতিতে বিরল৷

জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন অটল একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন
তখন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। সারা দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। সংসদেও তাঁর সামনে বিরোধিতা করার সাহস কারও নেই৷ সেই সময় একদিন ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির কবি সাংসদ অটল বিহারী সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর ৩০ মিনিটের ভাষণে জওহরলাল নেহরুকে বিধ্বস্ত করেন। এমনকি তাঁর কাজের সঙ্গে হিটলারের তুলনা করেন৷ জওহরলাল পুরো ডিবেটটা শোনেন, এবং বাইরে বেরিয়ে এসে সেই কবির কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, তুমি একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে৷ সেই কবি রাজনৈতিক হলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী।

অটলের ধমকেই সংসদে ফিরেছিল নেহরুর ছবি
১৯৭৭ সালে অটলবিহারী বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্ব পান। দেশে তখন জনতা দলের সরকার। মোরারজি দেশাই প্রধানমন্ত্রী। ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেসের 'জরুরী অবস্থার' (১৯৭৫ সালের ২৬ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ) বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জনতা দলের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। জরুরি অবস্থার সময় জেলে গিয়েছিলেন অটল-সহ জনতা দলের একাধিক নেতা। স্বাভাবিকভাবেই সংসদে কংগ্রেসবিদ্বেষ তুঙ্গে। সেই সময় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি ছবি টাঙানো থাকত সংসদভবনে৷ হঠাৎ একদিন সংসদে ঢোকার সময় অটলবিহারীর চোখে পড়ল নেহরুর ছবিটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি সোজাসুজি প্রশ্ন করলেন, 'নেহরুজির ছবি কোথায়?' সেই প্রশ্নে এতটাই জোর ছিল যে, পরেরদিন একই স্থানে ফিরে এসেছিল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ছবি৷

বিরোধী নেতা হয়েও কংগ্রেস সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেনেভাতে গিয়েছিলেন অটল
১৯৯৪ সাল, কেন্দ্রে কংগ্রেসের সরকার৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে পিভি নরসীমা রাও৷ কাশ্মীরদের উপর ভারতের অত্যাচারের বিষয় নিয়ে ইউএনওর হিউমেন রাইটস কমিশনে অভিযোগ করছেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো৷ UNO থেকে ডাক পড়ল৷ ভারত জবাবদিহি করো, তুমি কেন নাক গলালে? এত লোক মারা গেল। পার্লামেন্টে কংগ্রেস সরকারের রুদ্ধদ্বার বৈঠক। কে যাবেন?
এই প্রশ্নের জবাবকে গুছিয়ে দিতে পারবেন? কংগ্রেসের মন্ত্রিসভার সবাই মিলে ঠিক করলেন এর জবাব একজনের পক্ষেই দেওয়া সম্ভব৷
সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওয়ের ফোন গেল অটল বিহারীর কাছে৷ তিনি অবশ্য কংগ্রেসের কেউ নন! বরং সংসদের বিরোধী আসনে বসে যে মানুষটি একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে শাসক দলকে নাস্তানাবুদ করে দিতেন সেই অটল বিহারী বাজপেয়ীকে পাঠানো হল জেনেভার মানবাধিকার সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি করে৷ সঙ্গে ছিলেন সরকার পক্ষের সলমান খুরশিদ, ফারুখ আবদুল্লা৷ সেই সম্মেলনে অটলবিহারীর বক্তব্য বিশ্বের সামনে এক অন্য ভারতের ছবি তুলে ধরেছিল। সফল হয়েছিল ভারত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও এবং বিরোধী নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী মিলে ভারতের জনগন তথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পেরেছিলেন, দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে কাজ করে ভারতীয় রাজনীতি। জানা নেই সেই দৃশ্য পুনরাবৃত্তি আগামী ১০০ বছরে দেখবে কী না ভারতীয় রাজনীতি।
-
ভোটার তালিকায় ‘অদৃশ্য' নাম! কমিশনকে তোপ দাগলেন মমতা, উত্তরবঙ্গের মঞ্চে চড়ল রাজনৈতিক পারদ -
ভোটের আগে বড় চাল! তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট আনছেন অমিত শাহ, কবে প্রকাশ? ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন বিজেপি কর্মীরা -
সব কেড়ে নিলেও মানুষ আমার পাশে, ময়নাগুড়ি থেকে বিজেপি ও কমিশনকে একসুরে নিশানা মমতার -
ভোটের আগে বড়সড় সাফল্য, বিহার থেকে বাংলায় অস্ত্র পাচার রুখল পুলিশ -
আমরা কাজ করে দেখাই, মোদীকে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প, কূটনৈতিক বার্তায় নতুন ইঙ্গিত -
রাম নবমীতে শান্তির বার্তা ও শুভেচ্ছা মমতার, উৎসব ঘিরে রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি -
বীরভূমে মঞ্চে তোপ মমতার, ভোটাধিকার নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপিকে -
প্রচার ঘিরে রণক্ষেত্র বাসন্তী! বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ, আহত পুলিশকর্মীরাও, অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, আটক ৮ -
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিয়ো ছড়ানোয় তৎপর পুলিশ, শেক্সপিয়র সরণিতে এফআইআর -
রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঝড়, শনিবার অমিত শাহের হাতে প্রকাশ পেতে চলেছে বিজেপির তৈরি চার্জশিট -
হামলা যতই বাড়ুক, জয় তৃণমূলেরই, পাণ্ডবেশ্বরে আক্রমণাত্মক মমতা -
ভোটের আগে প্রশাসনে রদবদলের ঝড়, পদমর্যাদা খর্ব করার অভিযোগে ডব্লিউবিসিএস মহলে ক্ষোভ









Click it and Unblock the Notifications