বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা নিয়ে কিছুই করছে না রাজ্যগুলি! নপুংশক বলে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের
বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা নিয়ে রাজ্য সরকারগুলিকে নিশানা করল সুপ্রিম কোর্ট। এব্যাপারে রাজ্য সরকারগুলি ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি কেএম জোসেফ বিদ্ষেমূলক বক্তৃতা নিয়ে রাজনীতিবিদদের নিশানা করে বলেছেন, তাঁরা এইধরনে কথখা বলেন বলেই এইসব ঘটছে। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করবেন না। রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা করলেই বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। অপর বিচারপতি বিভি নাগারথনাও আদালতের সামনে আনা বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিচারপতি নাগারথনা বলেছেন, মিছিল করার অধিকার রয়েছে বলে মিছিল থেকে যা খুশি করাটা আলাদা। তিনি আরও বলেছেন, হিন্দু সংগঠনের পক্ষে এক আইনজীবী যুক্তি দিচ্ছেন বেঞ্চের সামনে করা আবেদনে তাদের ধর্মীয় অনুশীলন রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই বিচারপতি আরও বলেছেন দেশের নাগরিকরা কেন অন্যকে গালাগালি না দেওয়ার শপথ নিতে পারে না। তিনি প্রশ্ন করেন অন্যকে গালি গিয়ে কী লাভ, প্রশ্ন করেছেন তিনি। বিচারপতি জোসেফ বলেন, একজন মানুষের কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাঁর মর্যাদা। সেখানে যদি প্রতিদিন মর্যাদা নষ্ট করা হয় কিংবা বলা হয় পাকিস্তান চলে যাও, সেটা যাঁরা এদেশে রয়েছেন, তাঁদের কাছে মর্যাদা হানিকর। সব লোকেরাই আমাদের ভাই-বোন বলেন তিনি। সলিসিটর জেনারেল অবশ্য এই মন্তব্যে আপত্তি করেন।
মহারাষ্ট্রের পুলিশ ও প্রশাসনের বিধায়কের করা বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা নিয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি এই অভিযোগে আদালত অবমাননার শুনানিতে বিচারপতি এই মন্তব্য করেছেন। ওই বিধায়ক নিজের বক্ততার সময় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
বিচারপতি নাগারথনা প্রশ্ন করেন তাঁরা জানতে চান রাজ্য এইধরনের কথাকে কীভাবে রোধ করবে? তিনি বলেন, এটা ঘটছে, কারণ রাষ্ট্র নপুংশক। এখানে রাষ্ট্র কিছুই করছে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। বিচারপতি জোসেফ বলেছেন, ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে বহু-সংস্কৃতি সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করে। এটা আমাদের সাংস্কৃতির উত্তরাধিকার বলেন তিনি।
কেরলের একজন সমাজকর্মী মহারাষ্ট্রের এক বর্তমান বিধায়কের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে বক্তৃতা তুলে ধরে বলেছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। পাল্টা দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আবেদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সব শেষে আদালত মহারাষ্ট্র সরকারকে আদালত অবমাননার জবাব দিতে বলেছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৮ এপ্রিল।












Click it and Unblock the Notifications