ভয়াবহ আগুনের উৎস ধরা পড়ল ভিডিওতে, গোয়ার নাইটক্লাবে ইলেকট্রনিক আতশ বাজিতেই বিপর্যয়
গোয়ার রোমিও নাইটক্লাব বার্চ বাই রোমিও লেনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর ভিডিও। শনিবার গভীর রাতে যে আগুন ২৫ জনের প্রাণ কাড়ে, তার সূত্র এবার অনেকটাই স্পষ্ট। ক্লাবের ভেতরের নতুন প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি ইলেকট্রনিক ফায়ারক্র্যাকার থেকেই ছড়িয়ে পড়ে আগুনের ওই বিভীষিকা।
সোমবার প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, বেলি ডান্স ও লাইভ মিউজিক চলাকালীন মঞ্চে একটি ইলেকট্রনিক আতশবাজি ফাটানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তার স্ফুলিঙ্গ ছিটকে গিয়ে ক্লাবের বাঁশে মোড়া ছাদে লাগে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওপরের অংশ জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতগতিতে।

এই ভিডিওটি রবিবার প্রকাশিত অন্য একটি ফুটেজের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। আগের সেই ভিডিওয়ও আগুন লাগার পেছনে ইলেকট্রনিক ফায়ার ক্র্যাকারকেই দায়ী করা হয়েছিল। ফলে শুরুতে যে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের দাবি করা হয়েছিল, তা কার্যত খারিজ হয়ে যাচ্ছে।
ক্লাবের অভ্যন্তরীণ গঠন ছিল আগুনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাঁশের কাঠামো, তালপাতা ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণে তৈরি ছাদ ও দেয়াল আগুন ছড়াতে বড় ভূমিকা নেয়।
আধিকারিকদের মতে, স্ফুলিঙ্গ ছাদের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন তীব্র আকার নেয় ও রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ জনাকীর্ণ নাইটক্লাবটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।
ঘটনার সময় ক্লাবে প্রায় ১০০ জন নাচ গানে মেতে ছিলেন। হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়তেই সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায় বেসমেন্ট ও নিচতলার রান্নাঘর। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে নিচতলায় নামেন, কিন্তু বেরোনোর রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকা পড়ে যান।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুই হয়েছে শ্বাসরোধের কারণে। ছোট দরজা, সরু প্রবেশপথ ও ক্লাবের সামনে সংকীর্ণ সেতু উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জলবাহী গাড়ি ৪০০ মিটার দূরে রাখতে হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব ঘটে।
তদন্তে উঠে এসেছে এই নাইটক্লাবের কাছে দমকল দপ্তরের প্রয়োজনীয় এনওসি ছিল না ও একাধিক নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ক্লাবের চিফ জেনারেল ম্যানেজার রাজীব মোদক, জিএম বিবেক সিং, বার ম্যানেজার রাজীব সিংহানিয়া ও গেট ম্যানেজার রিয়াংশু ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালিক সৌরভ ও গৌরব লুথরা ও ইভেন্ট আয়োজকদের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের হয়েছে।
অবৈধভাবে ক্লাব চালানোর অনুমতি দেওয়ার অভিযোগে তিনজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ও তিন সদস্যের একটি কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ দেশজুড়ে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি শোকপ্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধীরাও।
-
বঙ্গ জুড়ে বদলাচ্ছে পরিস্থিতি! সপ্তাহের শুরুতেই বৃষ্টির সতর্কতা, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া? জেনে নিন -
২০ শতাংশ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! বাংলার ভোটে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে এই কেন্দ্রগুলি -
দেশজুড়ে সতর্কতা, ১৭ রাজ্যে প্রবল দাপট, ঘণ্টায় ৮০ কিমি বেগে হাওয়ার আশঙ্কা -
আজই কী ইস্তফা? দুই দশকের অধ্যায় শেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন নীতীশ কুমার, কারণ কী? জল্পনা তুঙ্গে -
বাংলার নির্বাচনে একা লড়ার অঙ্গীকার করে প্রথম তালিকায় ২৮৪ প্রার্থীর নাম ঘোষণা কংগ্রেসের, রয়েছেন অধীর-মৌসমরা -
কবে ফিরবে প্রিয় বাবিন? চোখে জল নিয়ে অধীর অপেক্ষায় বিজয়গড়, ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন মুখ্যসচিব, স্তব্ধ টলিউড -
কলকাতায় একটাই ট্রাইবুনাল দপ্তর, তবুও ভোগান্তি নেই ভোটারদের, অনলাইনেই মিলবে সমাধান -
রাজ্যসভায় জয়, তবু ইস্তফায় দেরি, স্পিকারকে অপেক্ষায় রেখেই বিহার ছাড়লেন নিতিন নবীন -
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব! জ্বালানি সঙ্কটে বিশ্ব, স্বস্তি দিতে পেট্রোল-ডিজেলের দামে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের -
একদিনে ২৬৭ আধিকারিক বদলি, কমিশনের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ -
প্রথম চার্জশিট হওয়া উচিত মোদী-শাহের বিরুদ্ধে, মন্তব্য মমতার -
থানাগুলিতে ব্যাপক রদবদল, বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের












Click it and Unblock the Notifications