লখনউয়ের বহুতলে ভয়াবহ আগুন: অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু, উদ্ধারকাজ জারি
সোমবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিয়াগঞ্জ এলাকার ঊষা মেহতা মার্গে একটি তিন তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ ভেতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর, উদ্ধারকর্মীরা পাশের একটি ভবনের ভেতর দিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে স্ট্রেচার নিয়ে যান। স্ট্রেচার চলাচলের সুবিধার্থে উদ্ধারকারী দল দেয়াল ভেঙে একটি পথ তৈরি করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর মোট ২২ জনকে কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (KGMU) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাদের মধ্যে ১৫ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি ৭ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধার অভিযান এখনও পুরোদমে চলছে।
লখনউয়ের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স' (X)-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন: "উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতরা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।"
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে অনুদান ঘোষণা করে জানান, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
লখনউয়ের আলিয়াগঞ্জের এই বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর পূর্বনির্ধারিত আলিগড় ও হাথরাস সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র) সঞ্জয় প্রসাদ এবং ডিজিপি রাজীব কৃষ্ণকে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে ঘটনাটির একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, লখনউয়ে ফিরেই তিনি নিজে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাবেন।
উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানিয়েছেন যে, ভবনের ভেতরে কিছু শিক্ষার্থী আটকে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকারী দল প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, ৩-৪ জন শিশু কোনওমতে বাইরে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। তারা আমাদের জানিয়েছে যে কিছু শিক্ষার্থী এখনও ওয়াশরুমের ভেতরে আটকে রয়েছে। আমাদের দমকল কর্মীরা প্রতিটি ঘর এবং ওয়াশরুম পরীক্ষা করে দেখছেন। হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হওয়া কিছু শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা নিশ্চিত করব।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা গেছে, দমকলকর্মীরা সুরক্ষামূলক পোশাক পরে মইয়ের সাহায্যে বাইরে থেকে ভবনে ওঠার চেষ্টা করছেন। অন্য একটি দল পাশের একটি সমউচ্চতার ভবন থেকে ওপরের অংশ কেটে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যাতে দ্রুত আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা যায়।












Click it and Unblock the Notifications