কর্নাটক নির্বাচনের ফলাফল ২০২৩: কর্নাটক নির্বাচনে বিজেপির ফলে ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে! একনজরে হারের কারণগুলি
পাঁচ বছর পরে কর্নাটকের মসনদে ফিরতে চলেছে কংগ্রেস। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কংগ্রেস ১২৩, বিজেপি ৭০, জেডিএস ২৫ এবং অন্যরা ছটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ২০১৮-র নির্বাচনে প্রথমে ১০৪ থেকে পরে ১১৬-তে পৌঁছয় বিজেপি। সেখান থেকে একধাক্কায় ৭০-এ গেরুয়া শিবিরের নেমে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে।
কর্নাটকে বিজেপির পরাজয়ের পিছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোনও বড় মুখের অনুপস্থিতি। বিজেপি ইয়েদুরাপ্পার জায়গায় বাসবরাজ বোম্বাইকে মুখ্যমন্ত্রী করে। কিন্তু বোম্বাই এই নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি। বিপক্ষে কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়া, ডিকে শিবকুমারের মতো মুখ ছিল। বোম্বাইকে সাামনে রাখায় বিজেপি মূল্য চোকাতে হয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণে পিছিয়ে পড়েছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়কে নিজের কাছে রাখতে পারেনি বিজেপি। এছাড়াও দলিত, আদিবাসী, ওবিসি, ভোক্কালিগারা বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়েছে। অপরদিকে কংগ্রেস মুসলিমদের পাশাপাশি এইসব সম্প্রদায়কে নিজেদের দিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাখতে পেরেছে।
কর্নাটকের বিজেপি নেতারা গত একবছর ধরে হালাল, হিজাব, আজান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কর্নাটকের প্রচারে মেরুকরণের চেষ্টা করেছে। সেই অভিযোগ বারে বারে করেছে কংগ্রেস। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এই মেরুকরণ কাজ করেনি। এমন কী কংগ্রেস বজরং দলকে নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে বিজেপির হিন্দু তাসও কাজে আসেনি।
এবার বিজেপির পরাজয়ের পিছনে রয়েছে দুর্নীতি। কংগ্রেস প্রথম থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ৪০ শতাংশ কমিশন নিয়ে প্রচার করে। রাহুল গান্ধী প্রতিটি সভায় ৪০ শতাংশ কমিশনের কথা বলেছেন। এই দুর্নীতির কারণে ঈশ্বরাপ্পাকে বিজেপি মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়। একজন বিজেপি বিধায়কও জেলে যান এই দুর্নীতির কারণে।

দুর্নীতি নিয়ে কর্নাটক থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পর্যন্ত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। এই দুর্নীতি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত যার সমাধান করতে পারেনি বিজেপি। তবে বিভিন্ন সংস্থার করা সমীক্ষায় দুর্নীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই সমীক্ষার ফল যে ভ্রান্ত হতে পারে, তা এবারের নির্বাচনেই প্রকাশ হয়ে পড়ল।

কর্নাটকে বিজেপির গঠনে মুখ্য ভূমিকা নেওয়া ইয়েদুরাপ্পার মতো প্রবীণ নেতাদের সাইডলইন করে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে জগদীশ শেট্টার, লক্ষ্মণ সাভাদির মতো নেতাদের টিকিট দেয়নি বিজেপি। এই তিনজন লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের বড় নেতা। তার মধ্যে দুজন নির্বাচনের আগে কংগ্রেসে যোগ দেন। এই বিষয়টিও বিজেপির হারের অন্যতম কারণ।
সব শেষে বলা যেতে পারে কর্নাটকে বিজেপি বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ছিল। বিভিন্ন কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। যার মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications