Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

নেহরুকে মুছে ফেলাই নয়, দেশের ভিত্তি ভাঙার দিকেই কি এগোচ্ছে শাসকদল? সোনিয়া গান্ধীর তীব্র অভিযোগ

দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে বিস্ফোরক ভাষণে শাসকদলের বিরুদ্ধে কঠোর আক্রমণ শানালেন সোনিয়া গান্ধী। শুক্রবার দিল্লির জওহর ভবনে 'নেহরু সেন্টার ইন্ডিয়ার' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট করে দেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কাজ ও অবদান নিয়ে সমালোচনা বা বিশ্লেষণ স্বাভাবিক ও স্বাগত। কিন্তু সচেতনভাবে তাঁর ভাবনা, লেখা ও ইতিহাসকে বিকৃত করা বা হেয় করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নাম না করেই বিজেপি ও আরএসএসকে নিশানা করে রাজ্যসভা সাংসদ বলেন, "আজ যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁদের মূল প্রকল্পই হল নেহরুকে কলঙ্কিত করা। লক্ষ্য কেবল তাঁকে মুছে ফেলা নয়, বরং যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর এই দেশ দাঁড়িয়ে আছে, তা ধ্বংস করা।"

সোনিয়ার এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এর একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে নেহরুর ভূমিকা নিয়ে রাজনাথের অভিযোগকে 'মিথ্যা' বলে পালটা দিয়েছে কংগ্রেস ও অভিযোগ করেছে, পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ উস্কে দেওয়া হচ্ছে।

২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংসদ থেকে রাজনৈতিক সভা সব ক্ষেত্রেই নেহরু ও তাঁর নীতির উপর লাগাতার আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলেই কংগ্রেসের দাবি। সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্য সেই প্রেক্ষাপটেই আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজের ভাষণে তিনি বলেন, "যাঁরা নেহরুর বিরুদ্ধে এই অভিযানে নেমেছেন, তাঁদের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনও ভূমিকা ছিল না, সংবিধান রচনাতেও নয়।" আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি এমন একটি মতাদর্শের কথা বলেন, যা ঘৃণা ছড়িয়েছিল ও যার পরিণতিতে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড ঘটে। তাঁর অভিযোগ, সেই আদর্শের অনুসারীরাই আজও ঘাতকদের গৌরবান্বিত করে। সোনিয়া গান্ধীর দাবি, এই মতাদর্শ সংকীর্ণ ও আগ্রাসী সাম্প্রদায়িকতায় ভর করে জাতিসত্তার ধারণাকে বিভক্ত করতে চায় ও পূর্বাগ্রহ উসকে দেওয়াকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে।

একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নেহরু নিঃসন্দেহে এক বিশাল ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর জীবন ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। কিন্তু ইতিহাসের প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বহুমাত্রিক উত্তরাধিকার ধ্বংস করার চেষ্টা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ভাষণের শেষে সোনিয়া গান্ধী স্বীকার করে নেন, সামনে পথ সহজ নয়। তবুও তাঁর মতে, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে রক্ষা করতে এই 'প্রকল্পের' বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+