জরুরি গর্ভনিরোধক কেনার স্বাধীনতা কি এবার হাতের মুঠোয়? মিলবে কি সাধারণ দোকানেই? জানুন
ভারতে জরুরি গর্ভনিরোধক ব্যবহারে আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। বহুদিনের বিতর্কের পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ভাবনা চিন্তা করছে লেভোনরগেসট্রেল ভিত্তিক 'মর্নিং আফটার পিল' কি এবার ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ দোকানে বিক্রি করা যাবে?
সূত্র বলছে, প্রস্তাব মেনে নিলে এই ওষুধকে ড্রাগ রুলসের স্কেডিউলকের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ কেমিস্ট থেকে শুরু করে সাধারণ স্টোর যেকোনও জায়গা থেকেই কিনতে পারবেন জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা নারী ও পুরুষেরা।

কেন এই নীতি পরিবর্তন চিন্তা? বেড়ে চলা কিশোরী মাতৃত্বই বড় কারণ, দেশে নাবালিকা গর্ভধারণের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এনএফএইচএস ৫ ২০১৯ থেকে ২১ এর তথ্য অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৯ বছরের ৬.৮ শতাংশ তরুণী হয় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, নয়তো সদ্যই সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
রাজ্যভেদে ছবি আরও ভয়াবহ, পশ্চিমবঙ্গে ১৬ শতাংশ, বিহারে ১১ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর ও কিশোরীদের কাছে সময়মতো জরুরি গর্ভনিরোধক পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় বাধা। পরিবারের চোখ রাঙানির ভয়ে ডাক্তার বা কেমিস্টের কাছে যেতে পারে না অনেকেই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রস্তাব হাতের নাগালে পিল, সঙ্গে কড়াকড়িও
স্বাস্থ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ড্রাগস কনসালটেটিভ কমিটি (ডিসিসি) এর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে প্যাকেট ও ব্লিস্টারে কড়া সতর্কীকরণ বার্তা থাকতে হবে।
HIV বা যৌনরোগ প্রতিরোধে এর কোনও ভূমিকা নেই, মাসে দু'বারের বেশি খাওয়া যাবে না,
নিয়মিত গর্ভনিরোধে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
প্যানেলের আলোচ্য নথিতে উল্লেখ আছে, লেভোনরগেসট্রেল ট্যাবলেটকে স্কেডিউল কে তে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া ও সংশোধনের খসড়া ইতিমধ্যেই সাজানো হয়েছে। তারিখ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ কে মার্ক করা রয়েছে সাব কমিটির রিপোর্টে।
তবে সব ওষুধই ওটিসি নয়, 'উলিপ্রিস্টাল' থাকবে কঠোর নিয়ন্ত্রণে, একইসঙ্গে কমিটি প্রস্তাব দিয়েছে উলিপ্রিস্টাল নামের আরেক জরুরি গর্ভনিরোধককে রাখা হবে স্কেডিউল এইচ এ (অর্থাৎ শুধুই প্রেসক্রিপশনে পাওয়া যাবে)।
সেন্টক্রোম্যান ও ইথিনিলইস্ট্রাডিয়ল দুটিই আগের মতোই প্রেসক্রিপশন নির্ভর থাকবে। হরমোনাল ড্রাগগুলির বিভাগ পুনর্গঠন করা হবে যেন বিভ্রান্তি কমে।
নীতি বদল হলে ভারতের গর্ভনিরোধক ব্যবস্থায় আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন,
ডিসিসি ও ঔষধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দিলে ভারতে জরুরি গর্ভনিরোধক পাওয়ার পথে তৈরি হবে এক নতুন অধ্যায়। কিশোরী স্বাস্থ্যের বড় প্রতিবন্ধকতা দূর হলেও সামনে উঠে আসবে নতুন প্রশ্ন, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও সঠিক ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেবে কে?
নীতি বদলের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত তাই নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, প্রাপ্যতা বাড়বে, সঙ্গে বাড়বে দায়িত্বও।












Click it and Unblock the Notifications