ফোনে সর্বক্ষণ ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক হলে কী থাকবে নিরাপত্তা? কেন আপত্তির ঝড় তুলছে প্রযুক্তি দুনিয়া?
ভারতে আবারও তুমুল চর্চা গোপনীয়তা ও নজরদারি নিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকার মোবাইল ফোনে সর্বক্ষণ সক্রিয় লোকেশন ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে এমনই দাবি একাধিক সরকারি নথি ও সূত্রের।
টেলিকম খাতের তরফে সরকারকে জানানো হয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে আইনগত অনুরোধ পাঠালেও অনেক সময় সঠিক লোকেশন পাওয়া যায় না। মোবাইল টাওয়ারের ভিত্তিতে যে অবস্থান পাওয়া যায়, তা কয়েক মিটার পর্যন্ত ভুল হতে পারে। তাই এ-জিপিএস প্রযুক্তিকে বাধ্যতামূলক করে সব স্মার্টফোনে লোকেশন পরিষেবা সর্বক্ষণ চালু রাখা এমন সুপারিশ করেছে অপারেটরদের সংগঠন সিওএআই।

কিন্তু এই প্রস্তাবেই জোর আপত্তি অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাং এর। তাদের সাফ কথা এভাবে লোকেশন পরিষেবা সর্বক্ষণ চালু রাখা হলে তা সরাসরি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে। বিশ্বের কোথাও এমন নজির নেই।
কয়েক দিন আগেই স্মার্টফোনে কেন্দ্রের তৈরি সাইবার নিরাপত্তা অ্যাপ প্রিলোড করার নির্দেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনীতির চাপে সেই বিতর্কের আগুন এখনও ঠান্ডা হয়নি। তার মধ্যেই ওঠে নতুন প্রশ্ন সরকার কি আরও কঠোর নজরদারি ব্যবস্থার পথে হাঁটছে?
আইসিইএ যারা অ্যাপল ও গুগলের প্রতিনিধিত্ব করে সরকারকে পাঠানো গোপনীয় চিঠিতে বলেছে, "ডিভাইস লেভেল ট্র্যাকিংয়ের মতো ব্যবস্থা বিশ্বের কোথাও নেই। এটি হবে স্পষ্টতই নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার সীমা ছাড়ানো।"
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ-জিপিএস বাধ্যতামূলক করলে একজন ব্যবহারকারীর অবস্থান এক মিটার নির্ভুলতায় জানা সম্ভব হবে।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জুনাদ আলি সতর্ক করে বলেছেন "এভাবে ফোন কার্যত রূপ নেবে একটি নিবেদিত নজরদারি যন্ত্রে।"
আন্তর্জাতিক প্রাইভেসি সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের গবেষক কুপার কুইন্টনের কথায়, "এ ধরনের প্রস্তাব কোথাও কখনও শুনিনি। ভয়ঙ্কর এক ধারণা।"
এদিকে আইসিইএ এর দাবি এই নজরদারি ব্যবস্থা সেনাবাহিনী, বিচারপতি, কর্পোরেট কর্তা, সাংবাদিক অসংখ্য সংবেদনশীল তথ্য সম্পৃক্ত ব্যবহারকারীকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
অন্যদিকে টেলিকম সংস্থার যুক্তি
টেলিকম সংস্থাগুলির দাবি, বর্তমান সিস্টেমে যখনই লোকেশন অ্যাক্সেস করা হয়, ফোনে পপ আপ দেখা যায়
" ইওর ক্যারিয়ার ইজ ট্রাইং টু অ্যাক্সেস ইওর লোকেশন ।"
এতে যাকে নজরদারি করা হচ্ছে, সে সহজেই বুঝে যায়। তাই এই পপ আপ বন্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
অ্যাপল গুগলের পাল্টা মত
পপ আপ বন্ধ করা যাবে না, তা হলে স্বচ্ছতা নষ্ট হবে ও ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ কমবে।
আইটি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। শুক্রবার স্মার্টফোন শিল্পের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়েছে।
ভারতে বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭৩.৫ কোটি। অ্যান্ড্রয়েডের দাপট ৯৫ শতাংশেরও বেশি এঅবস্থায় যে কোনও নীতি কোটি কোটি মানুষের গোপনীয়তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে এটি শুধুই একটি প্রস্তাব, কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। তবে লোকেশন ট্র্যাকিংকে সর্বদা সক্রিয় করা হবে কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে যে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার উত্তাপ আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বনাম রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে ভারত আবারও সেই সূক্ষ্ম সীমারেখায় দাঁড়িয়ে।
-
গিরিশ পার্ক কাণ্ডে নতুন মোড়! মোদীর ব্রিগেডের দিনই উত্তেজনা, শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগে রিপোর্ট চাইল EC -
ভোটের আগে আইনি লড়াই! ভবানীপুরে মনোনয়নের আগে হাইকোর্টে শুভেন্দু -
ডিএ বকেয়া পরিশোধে রাজ্যের নতুন রূপরেখা, মার্চ থেকেই মিলবে প্রথম কিস্তি -
আমলা ও পুলিশ বদলি নিয়ে তীব্র সুর, জনতার প্রতিরোধ গড়ার ডাক মমতার -
ভোটের আগে প্রশাসনে বড় ধাক্কা, নবান্নের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ১৫ আইপিএসকে ভিনরাজ্যে পাঠাল নির্বাচন কমিশন -
দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরেই চূড়ান্ত জল্পনা, আজই কি আসছে বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা? জানুন -
ভোটের আগে চমক হুমায়ুন কবীরের, ১৮২ আসনে প্রার্থী দিয়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত -
ইরান সংকটে টানাপোড়েন, ১৭ দিনের যুদ্ধের মাঝে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের -
বিবেচনাধীন ভোটার ইস্যু: ২১ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি, কবে বেরবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা? জানুন -
যোগী, অখিলেশ থেকে গম্ভীর, কুলদীপের বিয়ের রিসেপশনে চাঁদের হাট -
কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাত চরমে! আইপ্যাক মামলায় CBI তদন্ত কী জরুরি? আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি -
আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তর্কের ঝড়, মৌলিক অধিকার ঘিরে কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে












Click it and Unblock the Notifications