Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

গোয়া নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে নীরবতা ভাঙলেন পলাতক মালিক, সহায়তার আশ্বাস, তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য

গোয়ার ভয়াবহ নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন রোমিও লেন, বার্চ ও কাহা ক্লাবচেনের মালিক সৌরভ লুথরা। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই দুর্ঘটনায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ "গভীরভাবে স্তব্ধ ও মর্মাহত"।

লুথরা নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে দাবি করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে কর্তৃপক্ষ সব রকম সহায়তা, সমর্থন ও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। আহত ও শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে "অটল সংহতি" প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে তাঁর এই বার্তার মাঝেই গোয়া পুলিশ ক্লাব মালিকদের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করেছে। পাশাপাশি তদন্তে আরও একধাপ এগিয়ে পঞ্চম গ্রেপ্তার হিসেবে দিল্লি থেকে ধরা হয়েছে ক্লাব ম্যানেজার ভারতকে। তাঁকে গোয়ায় নিয়ে এসে জেরা করা হচ্ছে। দৈনন্দিন পরিচালনা, ক্লাবের সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ভারত।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতির চিত্র। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে আরপোড়া এলাকার ওই নাইটক্লাব ও রেস্তরাঁ চালানোর লাইসেন্স স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে নেওয়া হলেও, অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা পড়েনি। এমনকি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোনো সাময়িক 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট'ও ছিল না। ফায়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি ছাড়াই ঠিক এমনই অভিযোগ।

এই সব অনিয়ম কীভাবে উপেক্ষিত হলো, কে বা কারা অনুমতি দিল তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়া প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গোটা প্রক্রিয়ায় নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের জেরে গোটা রাজ্যে বিনোদন কেন্দ্র ও নাইটক্লাবগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা অডিটের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পর্যটনপ্রধান এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও কড়া করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে অঞ্জুনা থানার পুলিশ বার্চ বাই রোমিও লেন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আরও চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চিফ জেনারেল ম্যানেজার রাজীব মোদক, গেট ম্যানেজার প্রিয়াংশু ঠাকুর, বার ম্যানেজার রাজবীর সিংহানিয়া ও জেনারেল ম্যানেজার বিবেক সিং। চার জনকেই আদালতে পেশ করে ছয়দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে তাঁদের জেরা করা হবে।

৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ক্লাবের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুন ছড়ায় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। সেই সময় ক্লাবের ভিতরে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১০০ জন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে বেসমেন্টে আটকে পড়েন বহু মানুষ। দমবন্ধ হয়ে সেখানেই প্রাণ হারান অধিকাংশ।

এদিকে সোমবার প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, বেলি ডান্স ও লাইভ মিউজিক চলাকালীন মঞ্চে একটি ইলেকট্রনিক আতশবাজি ফাটানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তার স্ফুলিঙ্গ ছিটকে গিয়ে ক্লাবের বাঁশে মোড়া ছাদে লাগে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওপরের অংশ জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতগতিতে।

এই ভিডিওটি রবিবার প্রকাশিত অন্য একটি ফুটেজের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। আগের সেই ভিডিওয়ও আগুন লাগার পেছনে ইলেকট্রনিক ফায়ার ক্র্যাকারকেই দায়ী করা হয়েছিল। ফলে শুরুতে যে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের দাবি করা হয়েছিল, তা কার্যত খারিজ হয়ে যাচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে ২০ থেকে ২১ জন ছিলেন ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও নেপালের কর্মচারী। দিল্লি থেকে বেড়াতে আসা একই পরিবারের চার পর্যটকেরও মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল পর্যটননগরী গোয়ায় বিনোদনের আড়ালে কতটা সুরক্ষিত মানুষের জীবন?

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+