শুচিবাই হওয়ায় গেল বৃদ্ধার প্রাণ, পাঁচ বছর পর হল খুনের কিনারা
একটি খুনের মামলা সমাধান করতে লাগল পাঁচ বছর। ঘটনায় শিকার হন এক বয়স্কা মহিলা। ওই মহিলার দেহ পড়েছিল ওয়ার্ডরোবে। সেখান থেকে তা উদ্ধার করা হয়। জানা গিয়েছে ওই মহিলার বয়স ৭০ বছর।

দেহ উদ্ধার
মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছিল ২০১৭ সালের ৫ মে। তার নাম ছিল সান্থাকুমারি। তিনি কেঙ্গারি স্যাটেলাইট টাউনের বাসিন্দা ছিলেন। এটি পশ্চিম বেঙ্গালুরুর একটি এলাকা। সেখানেই নিজের বাড়িতে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ওই বয়স্কা মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। হাত পা বাঁধা ছিল মহিলার। দেহটি সিমেন্ট এবং লালমাটি দিয়ে চেপে ঢোকানো ছিল ওয়ার্ডরোবে।

কী বলছেন মালিক?
দেহ উদ্ধার করে যে বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন সেই বাড়ির মালিক। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরেই পচা গন্ধ পাচ্ছিলেন। আর সেই গন্ধ আসছিল প্রথম তলা থেকেই। আর সেই অংশেই থাকতেন ওই মহিলা ও তার পরিবার যারা এসেছলেন শিবামোগা থেকে।

ঘটনা কী?
ভাড়াটিয়া হিসাবে থাকা রাধা বাসুদেব রাও এবং তার ছেলে সঞ্জয় বাসুদেব রাও ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে লুকিয়ে লুকিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তাঁরা বাড়িতে অল্প কিছু জিনিষ রেখে গিয়েছিল। তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। বাড়ির মালিক এমনটাই জানিয়েছেন।

পরিবারের খোঁজ মেলেনি
এক মাস ধরে ওই পরিবারের খোঁজ না পেয়ে বাড়ির মালিক পুলিশে খবর দেন। তিনি পুলিশের কাছে পরামর্শ চান যে কী করা উচিৎ তার। তবে পুলিশ তেমন কিছু উপদেশ তাঁকে দেয়নি। এসবের মাঝে কেটে যায় আরও দুই মাস। এর পরেই তার বাড়ির এক তলা থেকে বেরোতে শুরু করে বিশ্রী গন্ধ। তিনি তখন ওই অংশের দরজা খুলে দেখতে যান যে কেন এমন গন্ধ আসছে। এরপরে দেওয়ালে একদম গাঁথা ওয়ার্ডরোব দেখে সন্দেহ হয়, কারণ সেটির পাল্লা প্লাস্টার করে বন্ধ করে দেওয়া ছিল। গন্ধ আসছিল সেখান থেকেই। তিনি তখন আর দেরী না করে খবর দেন পুলিশে ।
প্লাস্টার ভাঙতেই বেরিয়ে আসে বৃদ্ধার পচা গলা দেহ। আর তাতে প্রবল গন্ধ । দেহ ছিল ওই ওয়ার্ডরবের একদম নীচের তলায়। পুলিশ দ্রুত খুনের মামলা রুজু করে। শুরু হয়য় তদন্ত। খোঁজ শুরু হয় রাধা ও তার ছেলের। এই তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ খুঁজে পায় যে ওই মহিলা শুচিবাই ছিলেন। আর সেটাই তার প্রাণ কেড়ে নেয় ।
জানা গিয়েছে সান্থাকুমারী বাইরের কারও ছোঁয়া খাবার খেতেন না। সব সময় রাধাকেই তার জন্য খাবার বানাতে হত। সে তিনি যেখানেই যান না কানে আর যত কাজই থাকুক না কেন। সারাক্ষন পরিস্কার করতে থাকতেন বিভিন্ন জায়গা আর একাধিকবার স্নান করতেন দিনে।
তাঁরা অনেক আগেই ওই মহিলাকে মেরে দিয়েছিলেন। মৃত দেহের সঙ্গেই বাস করছিলেন। এবার দুর্গন্ধ বাড়তে শুরু করলে দেহ ওইভাবে ওয়ার্ডরোবে ঢুকিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান নিজেদের দরকারি জিনিষ নিয়ে। বাড়ির মালিককে পরে ফোন করে বলেছিলেন তাঁরা তাঁদের দেশের বাড়িতে যাচ্ছেন বিশেষ দরকারের জন্য। সেই শেষ। তারপর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ মেলেনি।












Click it and Unblock the Notifications