করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়াতে হবে পরীক্ষা, রাজ্যগুলোকে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের
করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়াতে হবে পরীক্ষা, রাজ্যগুলোকে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের
বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে ভারতে করোনা সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে রাজ্যগুলোর বর্তমান করোনা পরিস্থিতির বিষয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক রাজ্যগুলোর কাছে দৈনিক করোনা সংক্রমণের বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ার কারণ
দেশে মূলত আটটি রাজ্যে করোনা সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, অসম, অন্ধ্রপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, মিজোরাম ও অরুণাচলপ্রদেশে করোনা সংক্রণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, আট রাজ্যের ১৭৬টি জেলার মধ্যে অসমের ৩০টি জেলা, বাংলার ২০টি জেলা, তামিলনাড়ুর ১৩টি জেলায় করোনা সংক্রমণের বৃদ্ধি চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। এই জেলাগুলোতে সাপ্তাহিক করোনা সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ বা তার বেশি। নীতি আয়োগের সদস্য এবং কোভিড নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ভিকে পাল করোনা সংক্রণ বৃদ্ধির জন্য রাজ্য সরকারগুলোকে দায়ী করেছেন। তিনি মনে করছেন, করোনা সংক্রমণ মাঝে কমে গিয়েছিল। এরপরেই রাজ্য সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি করে। খুব কম পরিমাণে করোনা পরীক্ষা, গড় টিকাকরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া ও দুর্বল নজরদারি করোনা সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

করোনা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একাধিক নির্দেশ
রাজ্যগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিকে পাল জানিয়েছেন, রাজ্যগুলোর যে সমস্ত জেলায় করোনা সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে বেশি করে করোনা পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি করোনা টিককরণের ওপর জোর দিতে হবে। করোনা সংক্রমণের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮৪ কোটি প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ৯০ শতাংশের টিকাকরণ হয়েছে। দেশের প্রবীণ নাগরিকদের বেশিরভাগের বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। তবে ১৮ থেকে ৫৯ বছরের নাগরিকদের মধ্যে বুস্টার ডোজ নেওয়ার হার অনেকটাই কম।

বুস্টার ডোজের ওপর জোর
সম্প্রতি কোভিশিল্ডের ওপর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টিকা করণের পাঁচ মাস পর থেকে অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমতে থাকে। সেই সময় বুস্টারডোজ নেওয়া প্রয়োজন। ভারতে ১৬০ কোটির বেশি কোভিশিল্ডের ডোজ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোভ্যাক্সিনের প্রতিরোধ ক্ষমতা ছয় মাস থেকে হ্রাস পেতে থাকে। কোভ্যাক্সিনের বুস্টার ডোজ যাঁরা সঠিক সময়ে নিয়েছেন, তাঁদের অ্যান্টিবডির সংখ্যা ৪০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে। ভারতে কোভ্যাক্সিনের ৩৩ কোটির বেশি ডোজ ব্যবহার করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications