দিল্লিতে গাড়ির তলায় আটকে মহিলা, নজর এড়াল পুলিশের! রিপোর্ট চাইলেন অমিত শাহ
দিল্লিতে গায়ে শিহরণ জাগানোর মতো ঘটনা। নতুন বছরের প্রথম দিনেই রাজধানীর রাস্তায় একটি গাড়ি ধাক্কা মারল স্কুটিতে। স্কুটি চালাচ্ছিলেন এক মহিলা। তার দেহ আটকে রইল গাড়ির তলায়। সেই অবস্থাতেও কীভাবে ঘণ্টাখানেক ধরে গাড়িটি ১৩ কিলোমিটার বিভিন্ন রাস্তায় ছুটে চলল তারই তদন্ত চলছে। সুলতানপুরীর এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দিল্লি পুলিশের কাছে তলব করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

রিপোর্ট তলব অমিত শাহর
বছর তেইশের অঞ্জলি সিং একটি ইভেন্ট কোম্পানিতে কর্মরতা ছিলেন। তিনি স্কুটি চালিয়ে গন্তব্যে ফিরছিলেন। তখনই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাঁর দেহ রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরনে কোনও বস্ত্র ছিল না বলেই জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এক মহিলার দেহ গাড়ির তলায় আটকে রইল, অথচ গাড়ির আরোহীরা তা বুঝলেন না, এরই রহস্যভেদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছেন দিল্লি পুলিশের সিনিয়র অফিসার শালিনী সিং। দ্রুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

যৌন নির্যাতনের পর হত্যা?
ঘটনায় যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে একজন বিজেপি নেতা বলে জানা গিয়েছে। মৃতার পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, যৌন নির্যাতনের পরই হত্য়া করা হয়েছে অঞ্জলিকে। তবে পুলিশ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ খারিজ করে দিচ্ছে। ধৃতদের দাবি, ওই মহিলার দেহ যে গাড়িতে আটকে রয়েছে তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও গাড়িতে আরোহী ব্যক্তিদের অ্যালকোহল টেস্টের রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে তদন্তের অভিমুখ। ধৃতরা মদ্যপান করেছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে। যে গাড়িটি দুর্ঘটনাটি ঘটায় তা দুবার ভাড়া করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। গাড়ির মালিক লোকেশ ভাড়া দেন আশুতোষকে। তিনি তাঁর বন্ধু অমিত ও দীপক খান্নাকে ভাড়া দেন।

পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে এই ঘটনা!
ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। তখন দিল্লি পুলিশের ২ হাজার কর্মী বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন ছিলেন। নিউ ইয়ার্স ইভে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশকর্মীকে রাখা হয়েছিল। তারপরও কীভাবে এই ঘটনা সকলের নজর এড়িয়ে গেল, সেটাই ভাবাচ্ছে সকলকে। দেখা হচ্ছি সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দীপক দাহিয়া এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, আমি পুলিশ কন্ট্রোল রুম ভ্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাড়িটিকে দেখাই। কিন্তু পুলিশের ওই ভ্যান গাড়িটিকে আটকানোর কোনও চেষ্টাই করেনি। অভিযোগ সত্যি হলে পুলিশি গাফিলতির বিষয়টিও জোরালো হবে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
অঞ্জলি সিংকে ধাক্কা মেরে গাড়িটি যে এলকাগুলি দিয়ে গিয়েছে তার মধ্যে দুটি থানাও পড়ে। সেই থানাগুলির পাঁচ থেকে সাতটি পিসিআর ভ্যানের রাস্তায় টহল দেওয়ারও কথা। যে গাড়িটি স্কুটিকে ধাক্কা মেরেছিল সেটি পশ্চিম দিল্লির কাঞ্ঝওয়ালায় তিনবার ইউ-টার্ন নিয়ে। তৃতীয়বার ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় গাড়ির তলায় আটকে থাকা দেহটি রাস্তায় পড়ে যায়। আম আদমি পার্টির তরফে দাবি করা হচ্ছে, যেহেতু বিজেপি নেতা তথা রেশন দোকানের মালিক মনোজ মিত্তল, যাঁর ছবি থানার কাছেই একটি হোর্ডিংয়ে রয়েছে, তিনি ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন। ফলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাইছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষাণ, তিনি কনট প্লেসে স্প্যানিশ কালচারাল সেন্টারে কাজ করেন। অপর ধৃত মিঠুন হেয়ার ড্রেসারের কাজ করেন।












Click it and Unblock the Notifications