প্রবল তুষারপাতের মধ্যেই হিমাচল প্রদেশে ৯ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে অসহায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করল ভারতীয় বায়ুসেনা
হিমাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত ধান্ডেরওয়াড়ি গ্রামে প্রবল তুষারপাত কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা। চারদিকে বরফের চাদরে ঢাকা পাহাড়ি পথে পৌঁছনো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আটকে পড়েন ৮৫ বছরের এক অসহায় বৃদ্ধা। চিকিৎসার কোনও সুযোগ না থাকায় তাঁর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
এই জরুরি অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতা ও অবিরাম তুষারপাত উপেক্ষা করে আকাশে ওড়ে বায়ুসেনার চিতা হেলিকপ্টার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত গ্রাম থেকে ওই বৃদ্ধাকে স্ট্রেচারে করে নিরাপদে হেলিকপ্টারে তোলা হয়। পরে তাঁকে চণ্ডীগড়ে নিয়ে যাওয়া হলে সময়মতো চিকিৎসা পেয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বায়ুসেনার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বরফে ঢাকা হেলিপ্যাডে সেনা সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রোগীকে বহন করছেন যা আবারও প্রমাণ করে বিপদের সময় তাঁদের নিষ্ঠা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত।
বায়ুসেনা তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানায়, হিমাচল প্রদেশের ধান্ডেরওয়াড়ি এলাকা থেকে ৯,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধার জরুরি চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়ার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগেও একাধিকবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সম্প্রতি মণিপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নেভাতে টানা তিন দিন ধরে প্রায় ৪০ হাজার লিটার জল ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারগুলি। প্রায় ৯,৫০০ ফুট উচ্চতায় ঝড়ো হাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও চলে এই অভিযান। বায়ুসেনার কথায়, "যেখানে বাতাস পাতলা, সেখানেই সংকল্প আরও দৃঢ়।"
নাগাল্যান্ড থেকে মণিপুর সীমান্তের ডজুকো ভ্যালিতে শুরু হওয়া দাবানল পরে ছড়িয়ে পড়ে মণিপুরের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট আইসোর দিকে। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেই আকাশপথে ত্রাণ ও জল ফেলার কাজ চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্যারাশুটের সাহায্যে নিচে ফেলা হচ্ছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
বিপর্যয়ের মুহূর্তে সতর্ক, দায়িত্ব পালনে অবিচল এই বার্তাই আবারও তুলে ধরল ভারতীয় বায়ুসেনার সাহসী ও মানবিক অভিযান।












Click it and Unblock the Notifications