অসমের জোড়হাটে বায়ুসেনা বিমানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শহিদ ৫, লড়ছেন সহ-পাইলট!
অসমে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমান বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। জোড়হাট বিমান ঘাঁটিতে নামার সময় এএন-৩২ (AN-32) নামের ওই পরিবহণ বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানে কর্তব্যরত পাঁচজন বায়ুসেনা প্রাণ হারিয়েছেন। তবে আশার কথা, বিমানের সহ-পাইলট এই যাত্রায় বেঁচে লড়াই করছেন এবং তাঁকে চিকিৎসকের অধীনে রাখা হয়েছে।
এদিন শনিবার এই মর্মান্তিক বিপর্যয়টি অসমের এই সেনা ঘাঁটিতে ঘটেছে। জানা গিয়েছে, বিমানটি মাটি ছোঁয়ার সময় বা তার ঠিক পরমুহূর্তে রানওয়ে এলাকায় বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে চলে যায়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্ট বিমানঘাঁটিতে নিয়োজিত দমকল ও অন্যান্য আপদকালীন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়।

এই আকস্মিক ও দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় ভারতীয় বায়ুসেনা তাঁদের পাঁচ জন সদস্যকে চিরতরে হারিয়েছে। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বিমানবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার। এছাড়া এই অনভিপ্রেত আকাশ দুর্ঘটনায় কর্তব্যরত অবস্থায় দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা।
নিহতদের তালিকায় আরও দুজন নতুন ক্যাডারের সদস্য রয়েছেন যাঁদের নাম অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম। নবীন ও তরুণ এই জওয়ানদের অকালমৃত্যুতে সেনা শিবিরে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সেনা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সমবেদনার পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে তাঁদের সর্বতোভাবে আগলে রাখা হবে।
যদিও এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসের মধ্যেও অন্যতম অলৌকিক ঘটনা হলো বিমানের সহ-পাইলট জীবিত রক্ষা পেয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে তৎক্ষণাৎ দুর্ঘটনাস্থল থেকে এয়ারফিল্ডেরই সেনা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ দলের নিরলস তত্ত্বাবধানে তাঁর জরুরি উদ্ধার ও আরোগ্য লাভের জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঘটনাস্থলটি আসামের স্পর্শকাতর ও সামরিক দিক থেকে অগ্রণী ঘাঁটি হওয়ার কারণে সেনা কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার পুরো রহস্য উদ্ঘাটনে কোমর বেঁধে নেমেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর নির্ভরযোগ্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বিপর্যয়টি ঘটার আসল চালিকাশক্তি বিশ্লেষণ করার জন্য ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ 'কোর্ট অব ইনকোয়ারি' বা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবাহিনী ঘটনার পর প্রথম জারি করা জরুরি বার্তায় দুর্ঘটনার সাধারণ খবর প্রকাশ করে বলেছিল যে, একটি এএন-৩২ বিমান বিপত্তিতে পড়েছে। সেই সময় বাকি বিস্তারিত বিষদ জানার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিল বাহিনী। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকাজ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অগ্রগতি ঘটায় নিহত সেনাদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয় এবং তা সর্বসমক্ষে গুরুত্ব দিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
অসমের পাহাড় ও দুর্গম এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জোড়হাট বায়ুসেনা স্টেশনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেস। ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের আকাশ সুরক্ষার প্রহরী এবং সীমান্ত সেনা সরবরাহ জোরদার করতে মূলত এটি নিয়মিত সচল রাখা হয়। ফলে এমন অতীব সুরক্ষিত সীমানায় বিমান রানওয়ে স্পর্শ করার সময়ই ঠিক কী কারণে অগ্নিসংকেত ও মারাত্মক গোলযোগ দেখা দিল, তা এখন প্রধান ভাবনার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications