ধারাভির উন্নয়ন প্রকল্প পেল চূড়ান্ত গতি! শাহু নগরের বাসিন্দাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু বিএমসির

মুম্বইয়ের বিখ্যাত এবং বিশ্বের অন্যতম বড় বস্তি এলাকা ধারাভি পুনর্বাসন প্রকল্প (ডিআরপি) এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) শাহু নগরের বাসিন্দাদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। ভারতের বৃহত্তম নগর পুনর্গঠন এবং আধুনিকীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ধারাভি পুনর্বাসন প্রকল্প এবং বস্তি পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষ (এসআরএ) যৌথভাবে সেক্টর ৬-এর বাসিন্দাদের নোটিশ পাঠিয়েছে।

একটি সম্পূর্ণ নতুন ও পরিকল্পিত শহুরে টাউনশিপে ধারাবিকে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যেই এই স্থানান্তর ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই পুরো প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল নতুন আবাসন তৈরির কাজকে আরও ত্বরান্বিত করা। এর ফলে জমি ফাঁকা করে দ্রুত মাটিতে নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলি সময়মতো স্থায়ী বাসস্থান ফিরে পাবেন।

Dharavi Redevelopment project initiation progress

এই মহৎ পুনর্বাসন প্রকল্পটি মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার এবং দেশের অন্যতম অগ্রণী শিল্প প্রতিষ্ঠান আদানি গোষ্ঠীর একটি বিশেষ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এই কাজটিকে বাস্তব রূপ দিতে বিশেষভাবে গঠন করা হয়েছে 'নবভারত মেগা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি বিশেষ উদ্দেশ্যসম্পন্ন সংস্থা (এসপিভি)। এই সংস্থায় আদানি গোষ্ঠীর সিংহভাগ অর্থাৎ ৮০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং বাকি ২০ শতাংশ মালিকানা রাজ্য সরকারের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান রূপায়ণকারী সহযোগী আদানি গোষ্ঠীর ওপরেই এর যাবতীয় বাস্তবায়ন নির্ভর করছে। এর আওতায় রয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ বাসিন্দার পুনর্বাসন করা, বড় মানের আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক নাগরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত এলাকাটির রক্ষণাবেক্ষণের ভার থাকবে আদানি গোষ্ঠীর ওপরেই। প্রকল্পের অর্থনৈতিক খরচ তুলতে এবং এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক উপযোগিতা বাড়াতে কিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক অংশ তৈরি করে তা খোলা বাজারেও বিক্রি করা হবে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সম্প্রতি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অবিলম্বে ত্বরান্বিত করা হয়। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার নতুন বাড়ি তৈরি করে যোগ্য বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া। কর্মকর্তাদের মতে, শাহু নগরের স্থানান্তর অভিযানের ফলেই প্রকল্পের কাজ প্রথম ধাপের পরিকল্পনা পর্ব অতিক্রম করে সরাসরি মাঠপর্যায়ের নির্মাণ কাজে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।

চলতি ধাপে শাহু নগর এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৯০০ জন বিএমসি ভাড়াটেকে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলাকালীন বাসিন্দাদের থাকার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে মোট দুটি সুনির্দিষ্ট চমৎকার বিকল্পের দরজা খোলা রাখা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, বাসিন্দাদের ধারাভির সেক্টর ৫-এ অবস্থিত 'মহাডা’ (MHADA) আবাসন প্রকল্পের নতুন ট্রানজিট বিল্ডিংগুলিতে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে ইতিমধ্যেই ৫০০টির বেশি ঘর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

উন্নয়ন পর্ষদের কর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রস্তুত করে রাখা এই ট্রানজিট বাড়িগুলি বর্তমানের জরাজীর্ণ বসতির ঘরের চেয়ে অনেক বড় এবং নাগরিকদের উন্নত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম। পুনর্বাসন কাজ চলাকালীন এই ঘরগুলিতে বাসিন্দারা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন। এছাড়া যে সমস্ত পরিবার এই ট্রানজিট হোমে থাকতে আগ্রহী নন, তাঁদের জন্য নিজস্ব পছন্দে অন্যত্র ঘর ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং এর জন্য সরকারের তরফ থেকে নিয়মিত মাসিক ভাড়ার টাকা দেওয়া হবে।

বাসিন্দাদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক চমৎকার এককালীন এবং মাসিক আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। যে পরিবারগুলির বর্তমান ঘরের মাপ ২৭৫ বর্গফুট পর্যন্ত, তাঁদের মাসিক ২২ হাজার টাকা করে বাড়ি ভাড়া বাবদ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আবার যাদের ঘরের মাপ ৩৭৫ বর্গফুট, তাঁরা প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা পাবেন। সরকারের এই ভাড়া বাবদ দেওয়া আর্থিক অনুদানের পরিমাণ প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

সাময়িকভাবে স্থানান্তর বা নতুন জায়গায় শিফট করার যাবতীয় খরচের বোঝাও সরকার বহন করতে চলেছে। যেকোনও ধরনের বাসস্থান বদলানোর বিকল্প বেছে নিলেও প্রত্যেকটি যোগ্য পরিবারকে এককালীন ১৫ হাজার টাকা করে শিফটিং অনুদান দেবে প্রশাসন। যাতে স্থান পরিবর্তনের সময় কারও কোনও আর্থিক জটিলতা না তৈরি হয়, সেটি মাথায় রেখেই পরিকল্পনাকারীরা এই আর্থিক বরাদ্দ নির্ধারণ করেছেন। এটি মানুষের বাসস্থান পরিবর্তনের কাজটিকে অনেক সহজ করে তুলবে।

নতুন স্থায়ী বাসস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাসিন্দাদের জন্য দারুণ সুখবর দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসন নীতি মোতাবেক, প্রতিটি নাম নথিভুক্ত পরিবার কমপক্ষে ৫০০ বর্গফুট কার্পেট এলাকার নতুন স্থায়ী ফ্ল্যাট পাবেন। বর্তমান ঘরের আয়তন যদি এর চেয়ে বেশি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মালিক বর্তমান ঘরের থেকে ১.৩৫ গুণ বড় ঘর ফেরত পাবেন। শাহু নগরের নাগরিকদের একই এলাকাতেই পুনর্বাসিত করা হবে এবং কাজের শংসাপত্র জারির পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাড়ি দেওয়া হবে।

ধারাভি পুনর্বাসন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল এই অনুন্নত অঞ্চলকে একটি আধুনিক এবং অত্যন্ত বসবাসযোগ্য সবুজ উপনগরীতে রূপান্তরিত করা। শাহু নগরের বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ স্থানান্তর এই ঐতিহাসিক স্বপ্নপূরণের পথে প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রশাসনের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই রূপান্তর কেবল বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানকেই উন্নত করবে না, বরং মুম্বইয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন মানচিত্রে এক উজ্জ্বল এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ইতিহাস রচনা করবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+