Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

রাতের ডিউটিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রায় ২৪ শতাংশ মহিলা চিকিৎসক! বলছে সমীক্ষা

আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই রাতে মহিলাদের জন্য কর্মক্ষেত্র কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেইকারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নতুন নিয়ম নিয়েও বিজ্ঞপ্তি জারি করে ফেলেছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যে রাতে মহিলাদের ডিউটি দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, নাইট ডিউটি করতে পারবেন না মহিলারা। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজ্যের মহিলারা। নেটদুনিয়ায় ঝড় ওঠে মহিলাদের রাতে কাজ না করার বিজ্ঞপ্তি নিয়ে। অনেকে বলেন, মহিলারা রাতে না কাজ করতে পারলে দিনেও করবেন না। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করার বদলে রাতে কাজ না করার পরামর্শে কার্যত ক্ষুব্ধ জনগণ। মহিলা চিকিৎসক, মহিলা নার্সরাও এই ঘটনায় সরব হয়েছিলেন। কিন্তু আদতে মহিলা চিকিৎসকরা কর্মক্ষেত্রে রাতের বেলা ঠিক কতটা নিরাপদ? আরজি করের ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আদৌ কি রাতে কর্মক্ষেত্রে মহিলা চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে? কী বলছে আইএমএ সমীক্ষা? জেনে নেওয়া যাক।

মহিলা চিকিৎসকরা রাতের ডিউটিতে কতটা নিরাপদ?

সম্প্রতি আইএমএ সমীক্ষায় জানা যায়, সারা দেশে চিকিৎসকরা, বিশেষ করে মহিলারা রাতের শিফটের সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বহু হাসপাতালেই এখনও পর্যন্ত চিকিৎসকদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে অক্ষম। পরিকাঠামোর দিক থেকে হাসপাতালগুলির গাফিলতি এখন যেন বেশি করে চোখে পড়ে। ডিউটি রুমের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে ভালো মানের খাবার এবং স্বচ্ছ পানীয় জল কোনওকিছুই ঠিক নেই সরকারি হাসপাতালগুলির। এমনকী বেশকিছু বেসরকারি হাসপাতালেরও একই হাল।

ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে নিরাপত্তা কর্মী এবং সরঞ্জাম উন্নত করলে চিকিৎসকরা সঠিকভাবে রোগীর চিকিৎসা করার সুযোগ পান। হাসপাতালগুলিতে রোগীর যত্নের জন্য পর্যাপ্ত স্টাফ থাকা দরকার। রোগীর আশেপাশে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাও প্রয়োজন, যাতে চিকিৎসকরা তাদের কাজটা সঠিকভাবে করতে পারেন।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হলে একজন শিক্ষানবিশ তরুণী চিকিৎসককে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার পর চিকিৎসকদের বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, আগামী ৯ আগস্ট রাতের শিফটে বিশ্রামে গিয়েছিলেন ওই তরুণী চিকিৎসক। আর সেই সময়ই ঘটে যায় এই হত্যাকাণ্ড।

এরপরই নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হন দেশবাসী। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ৪৫ শতাংশ ৩৫ বছরের কম বয়সী মহিলা চিকিৎসক, ৬১ শতাংশ ইন্টার্ন বা স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী, কিছু এমবিবিএস কোর্সে ৬৩ শতাংশ চিকিৎসকের মধ্যে প্রায় ২৪.১ শতাংশ মহিলা চিকিৎসক অসুরক্ষিত বোধ করেন। রাতের শিফটের সময় ৪৫ শতাংশ চিকিৎসকদের জন্য কোনও ডিউটি ​​রুম নেই।

বেশিরভাগ ডিউটি ​​রুমের সঙ্গে একটি সংযুক্ত বাথরুমও নেই। প্রায় ৫৩ শতাংশ হাসপাতালে, ডিউটি ​​রুমটি ওয়ার্ড থেকে অনেকটা দূরে রয়েছে।

অতিরিক্ত ভিড়, গোপনীয়তার অভাব দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ হাসপাতালে। ডিউটি রুম বিশ্রাম নেওয়ার অনুপযুক্ত হওয়ায় হাসপাতালের মধ্যে অন্য বিকল্প জায়গায় বিশ্রাম নিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। ফলে চিকিৎসকদের যাতে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, সেই জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

হাসপাতালে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে তাতে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো, সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো, জোরালো আলোর ব্যবস্থা করা, কেন্দ্রীয় সুরক্ষা আইন প্রয়োগ করা, অ্যালার্ম সিস্টেম ইনস্টল করা এবং তালা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এমন সুরক্ষিত ডিউটি ​​কক্ষের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে দেশের ৭৫ শতাংশেরও বেশি চিকিৎসক কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। অন্য একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ৬৯.৫ শতাংশ আবাসিক চিকিৎসক কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার সম্মুখীন হন। অর্থাৎ, এর ফলে চিকিৎসকদের সবসময় ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+