কাশফুলও শিল্প হতে পারে, হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে নতুন পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর
কাশফুলও শিল্প হতে পারে, হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে নতুন পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর
কাশফুলকে শিল্পের কাজে ব্যবহার করার নতুন পদ্ধতি বাতলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাশফুল দিয়ে বালিশ-তোষক বিক্রি করলে প্রচুর টাকায় বিক্রি হতে পারে । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নভেম্বর মাসেই শুরু হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী ড্রিম প্রোজেক্ট বাংলা ডেরারি। রাজ্যের দুগ্ধ শিল্পকে চাঙ্গা করতেই এই প্রকল্প শুরু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন অগাস্ট মাসে। সেটা এবার কাজে পরিণত হতে চলেছে বলে শোনা যাচ্ছে।

কাশফুলের বালিশ-তোষক
হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে কাশফুলকে শিল্পের কাজে ব্যবহারের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন কাশফুল দিয়ে তোষক-বালিশ বানিয়ে বিক্রি করতে পারলে ভাল টাকা আয় হবে। তিনি বলেছেন, কেমিক্যাল দিয়ে রিসার্চের ব্যাপার আছে কিনা জানি না। তবে কাজে লাগতে পারে। এগুলো সময়ে হয়, সময়ে ঝরে যায়। কিন্তু বালাপোশ, বালিশ হতে পারে এগুলো দিয়ে। যাঁদের সামর্থ্য আছে প্রচুর টাকা দিয়ে কিনবেন।' কাশফুল কিন্তু কাজে লাগতে পারে বলে এদিনের বৈঠকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কাশফুল মূলত এক বিশেষ ধরনের ঘাস। শরৎকালে বাংলার নদীর ধার, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনও উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় দেখা যায়। নদীর তীরেই সচারচর বেশি জন্মাতে দেখা যায় এদের। শীতের সময় এগুলো ঝরে যায়। সেই কাশফুলকেই কাজে লাগাতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

হাঁসের পালক দিয়ে শিল্পের ভাবনা
শুধু কাশফুল নয় হাঁসের পালক দিয়েও শিল্প হতে পারে বলে এদিন বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন,
'হাঁসের পালক নিয়েও দেখা যেতে পারে'। উলুবেড়িয়া একাধিক ক্লাস্টার আছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শাটল কক ক্লাস্টার। তিনি জানান, ভারতে আর কোথাও ক্লাস্টারে তৈরি হয় না শাটল কক। হয় চিন থেকে আসে নাহলে কোনও ফ্যাক্টরিতে তৈরি হয়। এর জন্য দরকার হাঁসের পালক। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'তোমরা তো এখন হাঁসের পোল্ট্রি করছ। এখন তো গ্রামে গঞ্জে হাঁস আছে। সেল্ফ হেল্প গ্রুপকে হাঁসের পালকটা সংগ্রহ করতে বলো'।

জমি নিয়ে কড়া বার্তা মমতার
হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে জমি সমস্যা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, কোনও রকম জমি নিয়ে সমস্যা বরদাস্ত করা হবে না। জমির জন্য যেন কোনও বিনিয়োগ আটকে না থাকে।
হাওড়ার ভূমি দফতরের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের অনেকে ইচ্ছে করে ডিলে করিয়ে দিচ্ছে। আগে আমরা একটা সিস্টেম করেছিলাম। সেটা বন্ধ হয়েছে কেন? কার নির্দেশে হয়েছে? কারা এত বড় বড় নেতা। বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাংলা ডেয়ারি চালু হবে
চলতি মাসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন প্রোজেক্ট বাংলা ডেয়ারি প্রকল্প চালু হতে চলেছে। অগাস্ট মাসে এই প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। রাজ্যের দুগ্ধশিল্পকে চাঙ্গা করতে মাদার ডেয়ারি, মেট্রো ডেয়ারির পর সম্পূর্ণরূপে রাজ্য সরকারি উদ্যোগে দুগ্ধজাত পণ্যের নতুন সংস্থা হতে চলেছে এই বাংলা ডেয়ারি। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে এই প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা জানিয়েছিলেন তিনি। সেটা পুরভোটের আগেই চালু করার চিন্তাভাবনা করছে মমতা সরকার।












Click it and Unblock the Notifications