Jagadhatri Puja: মেয়ে সাজাচ্ছেন মাকে, জগদ্ধাত্রীর চক্ষুদান করছেন কিশোরী মৌপিয়া
মেয়ের হাতে মায়ের সাজ। নিখুঁত করে মাকে সাজিয়ে চলেছেন মেয়ে। বেশি সময়ও আর নেই। দম ফেলার অবকাশ আগামী কালকের পর। প্রায় একমাস ধরে প্রবল ব্যস্ততা। মা জগদ্ধাত্রী মণ্ডপে চলে গেলে জিরনোর সময় পাবে কিশোরী মৌপিয়া। চন্দননগরের অনেক জগদ্ধাত্রী প্রতিমার সাজ ও চক্ষুদান যে এবার তারই করা।
শুধু সাজই বা বলি কেন? জগদ্ধাত্রীর চক্ষুদানও তো মৌপিয়াই করেছে। বছর ১৫ এর ওই কিশোরী মোটেও পাকাপোক্ত শিল্পী নয়। নিছক ভালোলাগা আর সৃষ্টি সৌন্দর্যের প্রতি আছে তার আবেগ। সেই টানেই বাবার সঙ্গে কাদামাটিতে হাত লাগানো। জগদ্ধাত্রী প্রতিমা তৈরি করা।

এই কাহিনি এক কিশোরী মেয়ের। পড়াশোনা তো আছেই৷ পাশাপাশি আছে ঠাকুর বানানোর অদম্য ইচ্ছা।সেই ইচ্ছাকে বাবা মুক্তি পাল আরও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ফলে বাবা- মেয়ে এখন হয়ে উঠেছেন মূর্তি বানানোর সময় একে অপরের সঙ্গী। নাওয়া- খাওয়া ভুলেই এই সময়ে তারা মূর্তি বানাচ্ছেন। মণ্ডপে যাওয়ার আগে পর্যন্ত সব কিছু নিখুঁত করে ফেলছেন।
কিশোরীর তুলির টানে মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী হয়ে উঠছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী। চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী প্রতিমার চক্ষুদান করছেন কিশোরী মৌপিয়া পাল। চন্দননগরের মৃৎশিল্পী মুক্তি পালের মেয়ে মৌপিয়া কৃষ্ণভাবিনী স্কুলের এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী সে।
শুধু পড়াশোনাই নয়। তার পাশাপাশি আঁকতেও ভালোবাসে মৌপিয়া। সেই আঁকার থেকেই বাবার স্টুডিওতে হাজির সে। বাবা মুক্তি পাল দীর্ঘ সময় ধরেই প্রতিমা তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িয়ে। দুর্গার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী প্রতিমাও তিনি তৈরি করেন।
করোনার সময় স্কুল বন্ধ ছিল লকডাউনের সময়। মৌপিয়া তখন অনেকটাই ছোট। সেইসময় দুর্গা ঠাকুর তৈরি করতে বাবাকে সাহায্য করে মেয়ে। সেই শুরু। এখন প্রতিমার সাজসজ্জা পরানো থেকে চক্ষুদান, একাধিক কাজ মেয়ে একা হাতেই সামাল দেয়।
আজ শুক্রবার জগদ্ধাত্রী পুজোর চতুর্থী। তাই দম ফেলার সময় নেই বাবা ও মেয়ের।বাবা প্রতিমার সাজসজ্জা থেকে শাড়ি পরানো সব করছেন। মেয়েও হাত লাগাচ্ছেন সমানভাবে। মেয়ের তুলির টানে জেগে উঠছে প্রতিমার ত্রিনয়ন।
মু্ক্তি পাল বলেন, এই বছর ৪০ টি জগদ্ধাত্রী প্রতিমার বরাত পেয়েছেন। তার মধ্যে চন্দননগরে ২০ টি। মেয়ে দশটি প্রতিমার চক্ষু দান করেছে। ঝোঁক দেখে মেয়েকে আর্ট কলেজে পড়াবেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুক্তি পাল।












Click it and Unblock the Notifications