গঙ্গা পেরিয়ে কলম্বাসের দেশে পুজো দর্শন, সুরের শহর ন্যাসভিলেও মেতে উঠল বিজয়া দশমীতে

কেউ কর্মসূত্রে রয়েছেন দেশের বাইরে। কেউ আবার কর্মসূত্রে গিয়ে প্রবাস থেকে আর ফিরে আসেননি। সেখানেই পাকাপাকিভাবে বাসিন্দা হয়েছেন। এমনই কিছু প্রবাসের বাঙালিরাও মাতেন দুর্গাপুজোয়।

সুরের শহর ন্যাসভিলে এখন উমা বিদায়ের কান্না। কেউ আনন্দে চোখের জল মুছছেন, আবার কেউ কান্নাভেজা চোখেই আকুতি রাখছেন সবার মঙ্গলকামনার। তবে, এখানে উমা বিদায় মানে নদী বা সাগরের জলে প্রতিমা নিরঞ্জন নয়। অতিকায় এক বাক্সের মধ্যে মা-এর শোলার প্রতিমাকে ঢুকিয়ে রাখার মধ্যে দিয়েই এখানে নিরঞ্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

কারণ, ভারত থেকে বহুদূরে সাত সমুদ্রে প্রতিমা তৈরির কোনও উপায় সেভাবে এখানে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যে নেই। তাই কুমোরটুলি থেকে জাহাজে চেপে পাড়ি দেয় শোলার মূর্তি। কিন্তু, ফি বছর জাহাজে করে এভাবে প্রতিমা আনা সম্ভব হয় না। তাই দর্পণ বিসর্জন এবং সিঁদূর ছোঁয়ানোর পর প্রতিমাকে রাখা হয় একটি বাক্সের মধ্যে। এই বাক্সের মধ্যেই প্রতিমাকে রাখাটাই ন্যাসভিলের প্রবাসী বাঙালিদের কাছে বিসর্জন। পরেরবার পুজোর সময় ফের ওই বাক্স থেকে বের করা হবে প্রতিমা এবং পুনরায় তিনি পূজিতা হবেন।

ন্যাসভিলে এবার পুজো শুরু হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। দশমী হয়েছে ১ অক্টোবর। মার্কিন মুলুকে দুর্গাপুজোর জন্য কোনও ছুটি থাকে না। তাই সপ্তাহের শেষেই মূলত পুজোর আয়োজন করে বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার ন্যাসভিলে।

১

৩ দিনেই পুজোর পাঁচ অধ্য়ায়--- ষষ্ঠী থেকে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী, দশমী-- সবই হয় তিন দিনে।

২

যেন তিন দিনে যাবতীয় আনন্দ মিটিয়ে নেওয়া-- এবার পুজো শুরু হয়েছিল শুক্রবার অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে। রবিবার বিকেলেই হয়েছে উমা বিদায়।

৩

তিন দিন কেউ যেন পুজোস্থল ছাড়তে চান না--- পুজোর আনন্দ, আড্ডা, গান-বাজনায় রীতিমতো মুখর হয়ে ওঠে বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার ন্যাসভিল-এর পুজো মণ্ডপ। যেন মার্কিন মুলুকের হাওয়া ফিরে পাওয়া নিজের দেশ-মাটির গন্ধ। ফলত, পুজো অংশ নেওয়া বাঙালিদের অধিকাংশই পুজোস্থলে তিন দিন ধরে পড়ে থাকাটাই পছন্দ করেন।

৪

পুজোস্থল সাজানোটাও আনন্দের-- মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে প্রতিমার সাজ সজ্জা করা, খাবারের কাউন্টার সাজানো আর ঘন ঘন চা-পান পুজোর আগমনীতে বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার ন্যাসভিলের চেনা ছবি।

৫

পুজোর আনন্দে অতিথি হন বিদেশীরাও--- বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার ন্যাসভিলের দুর্গাপুজোয় সদস্য সংখ্যা দুই শতাধিক। এর বাইরেও বিভিন্ন শহর থেকে বহু বাঙালি এই পুজোতে অংশ নিতে আসেন। এমনকী, বহু মার্কিনিকেও এই পুজোতে অংশ নিতে দেখা যায়।

৬

৫ বছরে বদলায় প্রতিমা-- জাহাজে করে কুমোরটুলি থেকে আসে প্রতিমা। মাটির প্রতিমা অত দূর থেকে আনা সম্ভব নয়। তাই প্রতিমা হয় শোলার। ৫ বছর অন্তর এই শোলার মূর্তি বদলে ফেলা হয়। পুরনো প্রতিমা ফেলে দেওয়া হয় না। ছোট কোনও পুজো কমিটি সেই প্রতিমা কিনে নেয়।

৭

পুজো হয় মন্দিরে-- এবার এখানে পুজোর আসর বসেছিল ন্যাসভিলের গণেশ মন্দিরে। পুজো যেহেতু মন্দিরে তাই দুর্গাপুজোয় এখানে খাবারও নিরামিষ।

৮

খিচুড়ি ভোগ থেকে লাবড়ার ঘাট-- ন্যাসভিলের এই পুজর অন্যতম আকর্ষণ এখানকার নিরামিষ খাবার। খিচুড়ি ভোগ থেকে শুরু করে আলুভাজা, বেগুনভাজা, বেগুনি,
পাপড়, লাবড়া, চচ্চড়ি, চাটনি, পায়েস, ভাত, ডাল, মেশানো তরকারি, ধোকার ডালনা থাকে মেনুতে। এছাড়াও থাকে দই-মিষ্টি। মিষ্টির মধ্যে অগ্রাধিকার পায় রসগোল্লা, সন্দেশ এবং জিলিপি।

৯

আয়োজন হয় জলসার--- কলকাতা থেকে নামি তারকা শিল্পীরা বহুবার অংশ নিয়েছেন গ্রেটার ন্যাসভিলে-এর বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের পুজোয়। এঁছাড়াও বহু ভারতীয় শিল্পীরা আসেন আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে। হয় গান-বাজনা থেকে শুরু করে নাচ, আবৃত্তি, কবিতা পাঠ।

১০

১০

স্থানীয় পুরোহিতেই পুজো--- স্থানীয় কোনও ব্রাহ্মণকেই পুরোহিতের দায়িত্ব সামলাতে হয়। পুরোহিত না মিললে অন্য রাজ্য থেকে আনা হয়। কোথাও আবার রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, ইসকন থেকে পুরোহিত আনা হয়।

১১

১১

গঙ্গাপারের শহরের আড্ডার মেজাজ ন্যাসভিলে--- সারা বছটরই সকলের ব্যস্ততা। প্রবাসী বাঙালিদের দিনভরই ছুটতে হয় কর্মক্ষেত্রে। তাই দুর্গাপুজো এমন একটা সময় যেখানে জমাটি আড্ডা, নিজের ভাষা, সংস্কৃতির লোকজনকে যেন কাছে পাওয়া।

১২

১২

পুজোর গন্ধে নিজেকে মাতিয়ে নেওয়া--- বাঙালির সেরা উৎসব কি? এই নিয়ে নতুন করে কিছু না বলাই ভালো। কারণ প্রত্যেকেই উত্তর দেবে দুর্গাপুজো। ন্যাসভিলের পুজোয় অংশ নেওয়া বাঙালিদেরও অবস্থা কলকাতায় বসবাস করা বাঙালিদের থেকে আলাদা কিছু নয়। যার ফলে, পুজোর আনন্দে মেতে উঠতে ন্যাসভিলের প্রবাসী বাঙালিরাও বছরভর প্রস্তুতি নেন। আর তারই প্রতিফলন ঘটে উৎসবের দিনগুলিতে।

১৩

১৩

পুজোর দায়িত্বে ৭ বাঙালি-- গ্রেটার ন্যাসভিলের বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপুজোর এবার মূল দায়িত্ব ছিল ৭ বাঙালির উপরে। আর এদের পরিচালনায় পুজো সফল করতে আসরে নেমেছিল একদল বাঙালি। এতে যেমন সামিল ছিলেন পুরুষেরা, তেমনি সমানভাবে দায়িত্বের কাঁধ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মহিলারাও।

১৪

১৪

তিন দিন এঁদের কারোর নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না--- সপ্তাহ শেষে পুজো হলেও প্রস্তুতি শুরু করে দিতে হয় অনেক আগেই। আর সেই প্রস্তুতির অগ্রভাগে থাকতে এমনই সব উদ্যোমীদের। যাঁদের হাত ধরে তিন দিনের পুজো সম্পন্ন হয় সুচারু রূপে।

১৫

১৫

পুজোর সঙ্গে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-- মূলত স্থানীয় বাঙালিরাই এতে অংশ নেন। এতে যেমন থাকে গানের অনুষ্ঠান, তেমনি থাকে নাচের আয়োজনও।

১৬

১৬

অফুরন্ত প্রাণপ্রাচুর্যে কাজ করে যাওয়া-- একটা পুজো মানে শুধু তো ঠাকুরের নৈবদ্যের আয়োজন করা নয়, তার সঙ্গে থাকে ভোগের আয়োজন থেকে অভ্যাগতদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা। এতবড় ব্যবস্থা সামলাতে তাই ন্যাসভিলের এই পুজোর পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে গিয়েছেন মহিলারাও।

১৭

১৭

পুজো শেষে সিঁদুর খেলা আচর ধুনুচি নাচ-- দশমীর বিসর্জনের লগ্ন শুরু হতেই মহিলারা মা দুর্গাকে সিঁদুর ছুঁইয়ে নেন। আর এরপরই প্রতিমাকে বাক্সে সংরক্ষিত করার পর শুরু হয় ধনুচি নাচ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+