বর্ধমান বিস্ফোরণ : অসম-মেঘালয় যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে এনআইএ

বর্ধমান কাণ্ডে ধৃত ৬ যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে যে অসমকে বিকল্প ঘাঁটি হিসাবে পরিকল্পনায় রেখেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। পশ্চিমবঙ্গে মূল মডিউলে যুক্ত করার আগে অনুপ্রবেশকারীদের এই অসমেই রাখার ব্যবস্থা করা হত বলে মনে করা হচ্ছে।
অসম পুলিশের দেওয়া তথ্য
কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও অসম পুলিশ এনআইএ-কে তথ্য সরবরাহ করবে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ এই সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো অসমে মডিউল গঠনে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-কে সাহায্য করত। কমপক্ষে ৮ টি এমন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।
জেএমবি এই গোটা কর্মকাণ্ড সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে দুমুখী কৌশল নিয়েছিল। প্রথমত, নিজের দলের জঙ্গী সদস্যদের অনুপ্রবেশের দায়িত্ব নিত। উল্লেখ্য গত ৪ বছরে কমপক্ষে ১৮০ জন অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে ভারতে। দ্বিতীয়ত, জঙ্গীদের বিভিন্ন ব্যাচে ভাগ করে দেওয়া হত। যাতে তারা পুলিশের নজরে আসতে না পারে।
মূল মডিউল ছিল পশ্চিমবঙ্গেই
এনআইএ সূত্রের দাবি, জঙ্গীদের মূল ঘাঁটি কিন্তু পশ্চিমবঙ্গই। মমূলত বরপেটা বলেই দাবি এনআইএ-র। পশ্চিমবঙ্গের মতোই এখানেই বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা এই সমস্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে নানাভাবে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ, এআইইউডিএফ এই সমস্ত সন্তাসবাদীদের পোষণ করছিল। যদিও এআইইউডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ধৃত ৬ যুবকের বয়ান
অসম থেকে ধৃত ৬ যুবক অবশ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে কাজের অনেক সূত্র দিয়েছে। তারা তদন্তকারী অফিসারদের জানিয়েছে, যে বিকল্প হিসাবে তাদের অসমে রাখা হয়েছিল। কোনও 'অপারেশন'-এর জন্য তাদের জেএমবি-র তরফে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল বলেও জানিয়েছে তারা।
তাদের দাবি, প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামে অনুপ্রবেশ করে তারা। সেখানে থেকে যাবতীয় তথ্য ও নথি পায় তারা। তারপর সেখান থেকে তাদের অসমে পাঠানো হয়। এবং সেখানে তাদের বলা হয় আপাতত বিকল্প হিসাবে অসমেই থাকতে হবে তাদের। অসম মডিউলের তরফে সক্রিয়ভাবে আত্মরক্ষা করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাদের। জেএমবি-র ষড়যন্ত্র ভণ্ডুল হয়ে যাওয়ার ফলে প্রথমে গা ঢাকা দেওয়ার জন্য সংগঠনের অধিকাংশ সদস্যরা প্রথমে অসমে গিয়ে গা ঢাকা দেয় তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা বানায়।
কড়া নজরদারিতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থান
অসমের স্থানীয় যোগসূত্র নিয়েও তদন্ত করবে অনআইএ। তদন্তে নেমে এনআইএ জানতে পেরেছে অসমের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থান রয়েছে যা কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এমন বেশ কয়কটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে কড়া নজরদারিতে আনা হয়েছে। কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপরও নজর রাখা হয়েছে। বহু বছর ধরে এই সব সংস্থা ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদেক সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
বেশ কয়েক বছর ধরে অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশের সংগঠন বিশেষত হরকর-উল-জিহাদি ইসলামি বাংলাদেশ বা হুজিবি-কে সহায়তা করছে, তাদের পোষণ করছে। আর সেই সাহায্য পেয়েই হুজিবি শাহিদ বিলালের নেতৃত্বে হায়দ্রাবাদে মডিউল গড়ে তোলার বিষয়ে সমর্থ হয়েছে।
আইবি আধিকারিকদের মতে, বাংলা এবং অসমের গভীর যোগ রয়েছে
এক আইবি আধিকারিকের মতে বহু বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ বিরোধী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী যেমন জেএমবি এবং হুজি বি বাংলাদেশের বাইরে ভারতে এসে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে তাদের "অপারেশন" বিস্তৃত করছে।
সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন গোয়েন্দা সূত্রের তরফে জোর খবর রয়েছে অসমে আল কায়েদা শিবির গঠন করতে চাইছে। এই আল কায়েদা হুজি বি এবং জেএমবি-র অংশীদারও বটে।












Click it and Unblock the Notifications