ধুমপায়ীদের থেকে একাকীত্বে ভোগা মানুষের বার্ধক্য আসে তাড়াতাড়ি, দাবি রিপোর্টের
ধুমপায়ীদের থেকে একাকীত্বে ভোগা মানুষের বার্ধক্য আসে তাড়াতাড়ি, দাবি রিপোর্টের
অল্প বয়সেই অনেকে বার্ধক্যে পৌঁছে যায়।আর বার্ধক্যে দোরগড়ায় যাওয়া মানেই একের পর এক রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে শরীরে। মার্কিন ও চিনের একদল বিজ্ঞানী সমীক্ষা করে দেখেছিল, শরীর ক্রমাগত আনবিক ক্ষতির জেরে মানুষ দ্রুত বার্ধক্যে পৌঁছে যায়। তবে বিজ্ঞানীরা বার্ধক্যে গতি মাপার জন্য একটা বার্ধক্য ঘড়ি তৈরি করেছেন। যার সাহায্যে কোনও তরুণ বা অল্প বয়সি কোনও ব্যক্তি দ্রুত বার্ধক্যে পৌঁচচ্ছে কি না তা জানা যাবে। পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, অ্যান্টি এজিং থেরাপির মাধ্যমে এই দ্রুত বার্ধ্যকের সীমানায় যাওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে।

যুব সম্প্রদায় দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
এজিং-ইউএস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, শারীরিক ও মানসিক উভয় কারণেয় বার্ধক্য দ্রুত গতিতে আসে। মার্কিন ও চিনা বিজ্ঞানীরা সমীক্ষা করে দেখেছেন, একাকীত্ব, অস্থিরতা, ঘুমের ঘাটতি, মনে সুখ না থাকা এই ধরনের উপসর্গের ব্যক্তিদের দ্রুত বার্ধক্য আসে। মার্কিন ও চিনা বিজ্ঞানীরা এগুলো পরিমাপ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দ্রুত বার্ধক্য আসার ক্ষেত্রে এগুলো যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, ১১,৯১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক চিনা নাগরিকদের রক্ত ও বায়োমেট্রিক ডেটা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পরীক্ষা পরেই চিনা বিজ্ঞানীরা একটি বার্ধক্যের ঘড়ি তৈরি করেছে। বিশ্বে এটাই প্রথম বার্ধ্যকের ঘড়ি।

ধুমপায়ীদের থেকে একাকীত্বে বার্ধক্য বাড়ে
চিনা বিজ্ঞানীরা তাঁদের বার্ধক্যের ঘড়ি তৈরি করতে গিয়ে জানতে পারেন, ধুমপায়ী ও মানসিক দূর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে বার্ধক্য তাড়াতাড়ি আসে। পাশাপাশি তাঁরা জানিয়েছে, দ্রুত বার্ধক্য আসার কারণেই স্ট্রোক, লিভার ও ফুসফুসের মতো রোগগুলো যুব সমাজকে আক্রান্ত করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ধুমপায়ীদের বার্ধক্য তাড়াতাড়ি আসে। কিন্তু হতাশাগ্রস্ত, একাকীত্বে ভোগা, অসুখী মানুষদের বার্ধক্য আরও দ্রুত আসে। বিজ্ঞানীরা দ্রুত বার্ধক্য বাড়ার কারণ হিসেবে আরও বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে। যেমন সঠিক সময়ে চিকিৎসা। গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত না থাকার কারণে অনেক সময় বার্ধক্য তাড়াতাড়ি আসে।

মানসিক সুস্থতা বার্ধক্য রোধ করার চাবিকাঠি
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানুয়েল ফারিয়া অনুসারে, সব থেকে দ্রুত বার্ধক্য আসে মানসিক কারণে। মানসিক এবং মনোসামাজিক অবস্থাগুলি স্বাস্থ্যের ওপর সব থেকে বেশি প্রভাব ফেলে। সেখান থেকে একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলেও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে। ইনসিলিকো মেডিসিনের সিইও অ্যালেক্স জাভোরনকভো বলেছেন, মানসিকভাবে সুখী কোনও ব্যক্তির বার্ধক্য অনেক দেরিতে আসতে পারে। মানসিক পরিস্থিতির ওপর অনক ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতা নির্ভর করে। সেখান থেকে বার্ধক্যের গতি ধীর বা দ্রুত হয়।












Click it and Unblock the Notifications